বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অসম্মান মুক্তিযোদ্ধাকে

নিজস্ব প্রতিনিধি, রামগড়

বিজয় দিবসে রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ ও শিক্ষার্থীদের ডিসপ্লে দেখতে যান মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান। সকাল ৮টায় মঞ্চের চেয়ারে বসেন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের এক ব্যক্তি তাকে আসন ছেড়ে পেছনে বসতে বললে তিনি অপমানবোধ করেন। তার এই ক্ষোভের কথা পরে সাংবাদিকদের জানান।
তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, অনেক কষ্ট করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি অথচ বিজয় দিবসে মূল্যায়ন পাই না। বড় শখ করে মাঠে গিয়েছিলাম, কষ্ট পেয়ে ফিরে এসেছি। মনে বড় ব্যথা লেগেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক ব্যক্তি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ ঠিক হয়নি।
অবশ্য পরে অন্য একটি অনুষ্ঠানে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন মিয়া এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন বলে জানান মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যথাযথ সম্মান না দেখানোয় অনুষ্ঠানে এসেও ফিরে যান রামগড় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবদুল কাদের, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নুরুল আলম আলমগীর, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বিশ্ব ত্রিপুরাসহ অন্যরা।
জানতে চাইলে ভাইস চেয়ারম্যান নানা অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করেন।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ফরহাদ অভিযোগ করে বলেন, আমার সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন কোনো ধরনের সমন্বয় করেনি। যে কারণে অনুষ্ঠানে নানা হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এদিকে পুরো রামগড়ে মহান বিজয় দিবসে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করেছে সর্বস্তরের জনতা। ভোর সাড়ে ছয়টায় রামগড় বিজয় ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সাংগঠনিক প্রতিষ্ঠানসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।