বিজয়ের মাসে প্রজন্মের চাওয়া

আজহার মাহমুদ

বিজয় দিবস বাংলার মানুষের কাছে আনন্দের আর অহংকারের। তাই বিজয়ের মাস বাংলার মানুষের কাছে গর্বের। বর্তমান প্রজন্মের তরম্নণরাও এই দিবসটির জন্য গর্বিত। সকলে মিলে উদযাপন করি মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ থেকে ২০১৮ স্বাধীনতার ৪৮ বছরে বাংলাদেশ। এ প্রজন্ম সেদিনের ভয়ানক দৃশ্যগুলো দেখেনি, তবে শুনেছে সেই দিনগুলোর কথা। দেখেনি ৩০ লাখ শহিদের তাজা রক্ত, দেখেছে তাদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ। মা বোনের সম্ভ্রম হারাতে দেখেনি, তবে সেই নিষ্ঠুর ইতিহাস পড়ে চোখের জল ফেলেছে।
বর্তমান প্রজন্ম আজ দেখছে আমাদের এই সাজানো সোনার বাংলাকে অনেক সুন্দরভাবে। কিন’ এই সোনার বাংলা গড়ার কারিগর কারা ছিলেন তা জনেনা অনেকে। কিন’ এই না জানাটা আমাদের জন্য বড় দায়। আমরা যদি বিবেকহীন অকৃতজ্ঞ হয়ে থাকি তবে স্বাধীন দেশে যাদের জন্য বসবাস করছি তাদের কথা স্মরণ করবো না এবং তাদের কথা জানবোনা অথবা জানার চেষ্টা করবো না। আর দেশকে ভালোবাসতে হলে, দেশপ্রেমিক হতে হলে অবশ্যই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য যাদের অবদান রয়েছে তাদের স্মরণ করতে হবে এবং ভালোবাসতে হবে। আর এই স্বাধীন দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
স্বাধীনতার স’পতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু চেয়েছেন সকলে একসাথে মিলে সোনার বাংলা তৈরী করতে। তিনি না পারলেও তাঁর স্বপ্ন আজ কিছুটা বাসত্মবে রূপ নিচ্ছে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশে আজ উন্নয়নের চিত্র দেখছি। তবে দেশের মানুষের কাছে এবার বিজয়ের মাস কাটবে অন্যরকম এক আমেজে। আর সেই আমেজ হলো নির্বাচনের আমেজ। ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মানুষের ভেতর আমেজ দেখা যাচ্ছে। বিজয়ের মাসে নির্বাচন দারম্নণ একটি বিষয়। এবারের নির্বাচন হতে হবে একটি অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেড়্গ নির্বাচন। এ প্রজন্মও এটা চায়। বিজয়ের মাসে আরো একটি বিজয় সকলেই আশা করে। নির্বাচনে যেই সরকার আসুক না কেন দেশের উন্নয়নের জোয়ার ধরে রাখতে হবে।
বর্তমানে আমাদের দেশ উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে। এখন প্রতিটি স্কুল, মাদ্রাসায় পহেলা জানুয়ারি বই পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। গরিব শিড়্গার্থীদের দেয়া হচ্ছে উপবৃত্তি। এরকম উন্নয়ন শুধু শিড়্গা খাত নয় দেশের প্রতিটা খাতেই এখন লড়্গণীয়। আজ আমাদের দেশে নির্মাণ হচ্ছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এভাবে দেশের নানা স’ানে হাজারো উন্নয়নের দৃশ্য দেশের মানুষ দেখেছে। নির্বাচনে যেনো কোনো ধরনের অসংগতি আর অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেটাই প্রজন্মের চাওয়া।
আজ আমাদের দেশে শিড়্গিত বেকারের কর্মসংস’ান নেই। এর কারণ আমাদের দেশে কর্মসংস’ানের সুযোগ নেই পর্যাপ্ত, যার কারণে আজ আমাদের দেশে পড়ালেখা করেও হাজারো শিড়্গার্থীর শিড়্গা শেষে কোনো কর্মসংস’ানের সুযোগ মেলে না। তারা কর্মসংস’ানে সুযোগ না পেয়ে বেপথু হয়ে যায়। অনেক সময় তারাই দেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। হতাশা থেকে আসে জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণার মনোভাব। অসৎসঙ্গ, মাদকাসক্তি গ্রাস করে তরম্নণকে। তাদের বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে কতিপয় মহল তাদের হীন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।
কোনো শিড়্গিত ছেলে যেনো কর্মসংস’ানের অভাবে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে না পড়ে, এ জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণে কর্মসংস’ান যোগান দেয়া। আর এটাই প্রজন্মের প্রত্যাশা।
এমন ভাবে দেশ চালাতে হবে যেখানে থাকতে পারবে না ধর্মের ভেদাভেদ, বৈষম্য থাকবে না ধনী আর গরীবের মধ্যে। দেশের মানুষ সকলেই সমান ও সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করতে পারে এটাই এ প্রজন্মের চাওয়া। মুক্তিযোদ্ধারা কি নিজেদের জন্য যুদ্ধ করেছেন না, তারা আমাদের জন্য করেছেন। নিজের জীবন দিয়েছেন দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য। তবে আমরা কেন নয়? আমাদেরও দেশের জন্য ভাবতে হবে এবং কিছু করতে হবে। বিজয়ের এ মাসে আমাদের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ এবং অন্যায়ের বিরম্নদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। আমাদের দেশকে এখন মুক্ত করতে হবে এসব হায়েনার কবল থেকে। গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, এবারের নির্বাচনে তরম্নণ ভোটাররা হবে মূল নিয়ামক। তরম্নণদের প্রত্যাশা আর ভবিষ্যৎ জীবনের স্বপ্নকে যারা উজ্জ্বল করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হবেন, যে সব প্রার্থী সৎ, দড়্গ আর যোগ্যতায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন তাদের বিজয়মাল্য পরাবে তরম্নণরা।