বিজয়ের প্রাক্কালে

কামরম্নল হাসান বাদল

ঢাকার আকাশ ভারতীয় বিমানবাহিনীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে থাকায় তারা পাকিসত্মানি সামরিক অবস’ানের ওপর তীব্র আক্রমণ চালায়। ঢাকার সর্বত্র অগণিত মুক্তিযোদ্ধা ও জনতা ছিল সুযোগের অপেড়্গায়। পাকিসত্মানি সেনা নায়কদের মনোবল উঁচু রাখার সামান্যতম অবলম্বন কোথাও ছিল না। তাদের একমাত্র ভরসা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের হসত্মড়্গেপ। কিন’ এদিনে নিয়াজীকে জানানো হয়, ঐ দিন পাক বাহিনীর সহায়তার জন্য ‘মিত্রদের’ যে এসে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা আটচলিস্নশ ঘণ্টার জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাকিসত্মানের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব চীনকে সামরিক হসত্মড়্গেপের ব্যাপারে রাজী করানোর কাজে ইসলামাবাদে সারাদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যায়। পিকিং-এ পাকিসত্মানী দূতাবাসকেও দেখা যায় কর্মতৎপর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিসত্মানের এই মিলিত প্রচেষ্টার ফলে সিকিম-ভুটান সীমানেত্ম মোতায়েন চীনা সৈন্যবাহিনীকে কিছুটা তৎপর হতে দেখা যায়, কিন’ ভারতে যে তা বিশেষ উদ্বেগের সঞ্চার করেছিল এমন নয়। এদিকে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী সদরদপ্তরে বাংলাদেশকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার এক অসফল প্রয়াস ঠিক একই সময়ে পরিলড়্গিত হয়। ১২-১৩ই ডিসেম্বরে নিউইয়কের্র মধ্যরাত্রির আগে সামরিক হসত্মড়্গেপের বিষয়ে চীনের সম্মতি আদায় সাপেড়্গে সপ্তম নৌবহরকে নিশ্চল করা এবং নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক মুলতবি করার ব্যবস’া চলছিল, ঠিক সেই ঁ ২য় পৃষ্ঠার ১ম কলাম
সময় কোলকাতায় ১৩ই ডিসেম্বর সকালে পররাষ্ট্র সচিবের পদ থেকে প্রায় মাসাধিককাল যাবত অব্যাহতিপ্রাপ্ত মাহবুব আলম চাষী যুদ্ধবিরতির এক বিবৃতিতে স্বাড়্গর সংগ্রহের উদ্দেশ্যে অস’ায়ী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন। এই প্রসত্মাবিত বিবৃতির প্রধান বক্তব্য ছিল: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্পর্কে রাজনৈতিক মীমাংসায় পৌঁছার উদ্দেশ্য নিয়ে যদি শেখ মুজিবকে মুক্তি দেওয়া হয়, তবে তৎড়্গণাৎ বাংলাদেশ সরকার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করবেন। বাংলাদেশ তখন ভারতের সঙ্গে যুগ্ম-কমান্ডব্যবস’ায় আবদ্ধ, কাজেই বাংলাদেশে অস’ায়ী রাষ্ট্রপতি যদি একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতেন, তবে ভারতীয় বাহিনীর পড়্গে এককভাবে ঢাকার দিকে এগিয়ে যাওয়া নীতিগতভাবে অসিদ্ধ হত। সম্ভবত এই বিবেচনা থেকেই সৈয়দ নজরম্নল উক্ত বিবৃতিতে স্বাড়্গর দানে অসম্মত হন এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনের গোচরে আনেন।
ইসলামাবাদে বার বার সাহায্যের করম্নন আবেদন জানাচ্ছিল পাক বাহিনীর কমা-াররা। ইসলামাবাদ থেকে সামরিক কর্তারা ঢাকায় অবস’ানরত ঘাতকদের এই বলে আশ্বসত্ম করে, ‘সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, আরও কয়েকটা দিন অপেড়্গা কর। পশ্চিম খ-ে ভারতীয় বাহিনীকে এমন মার দেয়া হবে যে তারা নতজানু হয়ে ড়্গমা চাইবে ও যুদ্ধ থেমে যাবে।’ ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্বার আক্রমণের মুখে দেশের নানা প্রানেত্মর বিভিন্ন এলাকা একে একে মুক্ত হতে শুরম্ন করে। ইতিহাসের এই দিনে যৌথ বাহিনীর অগ্রবর্তী সেনাদল শীতলড়্গ্যা ও বালু নদী অতিক্রম করে ঢাকার ৫-৬ মাইলের মধ্যে পৌঁছে যায়। বালু নদীর পূর্বদিকে পাকিসত্মানি বাহিনী শক্ত প্রতিরড়্গা ব্যবস’া গড়ে তোলে। বাসাবো ও খিলগাঁও এলাকার চারদিকে আগে থেকেই পাকিসত্মান বাহিনী ফিল্ড ডিফেন্স বা আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস’াসহ অবস’ান নিয়েছিল।
এদিনে সাংবাদিক সেলিনা পারভীনকে তার সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় কিছু আল বদর কর্মী৷ ১৮ ডিসেম্বর সেলিনা পারভীনের গুলিতে-বেয়নেটে ড়্গত বিড়্গত মৃতদেহ পাওয়া যায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে
সূত্র : স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, মূলধারা’৭১, লড়্গ প্রাণের বিনিময়ে, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, উইকিপিডিয়া