বিএনপির ছয় নেতার নীরব তৎপরতা

2

নেতৃত্বর কোন্দল, গ্রুপিংসহ পুলিশি ঝামেলার অজুহাত তুলে কেন্দ্র ঘোষিত কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতেও অনীহা ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এ আসনে সরকারি দল সরব থাকলেও নীরবে তৎপর বিএনপি। মামলা-হামলার জালে নেতাকর্মীরা দৌড়ের উপরে থাকলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।
তৃণমূলের ভাষ্য, ফটিকছড়ি বিএনপিতে নেতৃত্ব শূন্যতার কারণে এর আগে সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে গিয়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে (মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত) মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় তার পরিবার এখন রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা। এদিকে উপজেলার বিএনপি একাংশের নেতারাও এবার কোনো ‘অতিথিকে’ মনোনয়ন দেয়া হোক সেটা চায় না।
আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, চট্টগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির একাংশের আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীর, আরেক অংশের আহ্বায়ক আলহাজ সালাউদ্দিন।
জানা গেছে, ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি দুটি ধারায় বিভক্ত। একটি পক্ষ বিএনপির প্রয়াত নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী। আরেকটি পক্ষ তার বিরোধী। ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বরে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর ফটিকছড়িতে বিএনপির কার্যক্রম অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। এরআগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে সালাউদ্দিন কাদের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ টি এম পেয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সালাউদ্দিন কাদের পরিবারের অনুসারী ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির একটি পক্ষ আসন্ন নির্বাচনে এই পরিবারের যেকোনো সদস্যকে এ আসনে দলের প্রার্থী করতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রস্তাব করেছে।
তবে উপজেলা বিএনপির একাংশের আহ্বায়ক মো. সরোয়ার আলমগীরের দাবি, ফটিকছড়ি বিএনপিতে কোন্দল নেই। কিছু লোক বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অন্যের দালালি করছে। আগামী নির্বাচনে ফটিকছড়িতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের যেকোনো একজন সদস্য বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করবেন।
এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী চট্টগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী সুপ্রভাতকে বলেন, ‘নেত্রীকে (বেগম খালেদা জিয়া) মুক্ত না করে আমরা নির্বাচনে যাব না। তবে নির্বাচন নিয়ে আমরা শংকিত। আমরা চাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সবার কাছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন জনগণ প্রতিহত করবে। ফটিকছড়ি বিএনপিতে ছোটখাট সমস্যা ছিল সেগুলো মিটে গেছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ।’ প্রসঙ্গত, সাবেক মন্ত্রী বিএনপির প্রয়াত নেতা এল কে সিদ্দিকী ডা. খুরশিদ জামিলের মামা।
জানা গেছে, এলাকায় নির্বাচনে দৌড়ে খুরশিদ জামিল চৌধুরীর পাশাপাশি এগিয়ে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী। স’ানীয় রাজনীতিতে তিনি সক্রিয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এলাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। গণসংযোগে ব্যস্ত থাকছেন। তৃণমূল জানাচ্ছে, বিএনপির স’ায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার মামা হওয়ায় এবং তার বাবা একজন সাবেক রাষ্ট্রদূত হওয়ায় এলাকায় ফয়েজী নিজস্ব একটা বলয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী সুপ্রভাতকে জানান, আগামী নির্বাচনে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) আমাকে ফটিকছড়িতে বিএনপির প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমার আশা মনোনয়ন পাব। কারণ ম্যাডাম প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।’
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ফটিকছড়িতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী পাল্টা কমিটি দিয়ে বিএনপিকে বিভক্ত করে রেখেছেন। আসন্ন নির্বাচনে এ সুযোগটা নিতে চাইবে সরকারি দল। তবে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাষ্য, ‘ফটিকছড়ি আসনে আমি এবং আমার ভাবী (ফরহাত কাদের চৌধুরী) মনোনয়ন চাইব। এ আসন থেকে বিএনপির হয়ে আমাদের মধ্যে থেকে কে নির্বাচন করবেন সেই সিদ্ধান্ত পারিবারিকভাবে নেওয়া হবে।’
মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা বিএনপির আরেক অংশের আহ্বায়ক মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘রাউজানের একটি পরিবার নিজেদের মতো করে ভুয়া একটি কমিটি করেছে। ফটিকছড়িতে এবার বাইরের কাউকে প্রার্থী হিসেবে নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।’