বিএনপি’র আম ও ছালা দু’টাই কী গেল?

আবদুল মান্নান

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক পর মুহূর্তে এদেশের পাকিস্তানি দোসররা হয় দেশ ছেড়েছিল অথবা গলাকাটা রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছিল। অনেকে মাওলানা ভাসানীর ন্যাপের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছিল। পরবর্তীকালে জাসদের জন্ম হলে অনেকে জাসদে যোগদান করে। তখন হতেই দেশে আওয়ামী লীগ বিরোধী একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জন্ম হয়। বঙ্গবন্ধু তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে ব্যস্ত। অনাবৃষ্টি, বন্যা আর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কারণে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দিলে আওয়ামী লীগ বিরোধীরা দেওয়ালে চিকা মারে ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম জয় বাংলার অপর নাম’। আওয়ামী লীগ বিরোধীদের একটি বড় অংশ তখন হতেই তাদের রাজনীতির প্রধান উপজীব্য করে ফেলে ভারত বিরোধিতা । বলে, ভারত যদি বাংলাদেশ স্বাধীন করতে সহায়তা না করতো তা হলে তাদের সাধের পাকিস্তান ভাঙত না আর তাদের এই কষ্টের মধ্যে পড়তে হতো না।
বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর জেনারেল জিয়া ক্ষমতা দখল করে এই সব আওয়ামী লীগ বিরোধীদের কাছে টেনে নেন এবং তাদেরকে নিয়েই পরবর্তীকালে বিএনপি গঠন করেন। বিএনপি শুরু হতেই একটি পাকিস্তানি ভাবধারার দল হিসেবে গড়ে উঠে । অনেকটা বংলাদেশের মুসলিম লীগ। শুরু করে সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে পাকিস্তানি ভাবধারা তুলে ধরার সংশোধনীসমূহ এনে। সেই থেকেই বিএনপি’র প্রধান মূলধন পাকিস্তান প্রীতি আর ভারত বিরোধিতা । জিয়া হতে শুরু করে এরশাদ সকলেই সেই ভাবধারাকে উত্তরোত্তর উপরের দিকে নিয়ে গেছেন এবং দলটির অনেক নেতার বিশ্বাস, এমন চিন্তাধারা বাদ দিলে তাদের রাজনীতিরতো আর কিছুই থাকে না। এই বিশ্বাসে পঁচাত্তর পরবর্তীকালে একাধিক প্রজন্মও বেড়ে উঠে এবং যেহেতু তারা একাত্তরের ভয়াবহতা দেখেনি সেহেতৃু বাংলাদেশ সৃষ্টির পিছনে আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু সহ যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী নেতৃত্বের গুরুত্ব তেমন একটা অনুধাবন করতে পারেনি।
বিএনপি বা জিয়ার অনুসারীদের এই কাজটি করতে আরো বেশি সুবিধা হয় কারণ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর দীর্ঘ দিন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু আর আওয়ামী লীগের নাম নেওয়া নিষিদ্ধ ছিল। আওয়ামী লীগ বিরোধীদের সামনে রোল মডেল হয়ে উঠে সাফারি স্যুট আর সান গ্লাস পরিহিত জেনারেল জিয়া আর ফ্যাশন সচেতন তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
এই প্রেক্ষাপটেই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুপরবর্তীকালে বাংলাদেশে ফিরে আসে পাকিস্তানি সংষ্কৃতি আর বাংলাদেশ হয়ে উঠে পাকিস্তানি সামরিক গোয়েন্দা সংস’া আইএসআই’র চারণভূমি। আইএসআই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনকে অর্থ ও অস্ত্র যোগান দিয়ে সহায়তা করতে শুরু করে । আইএসআই’র জন্য ১৯৯১ সালের বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন ছিল একটি টার্নিং পয়েন্ট। সেই নির্বাচনে যে কোন উপায়ে বিএনপিকে জিতিয়ে আনতেই হবে । পাকিস্তান বিপুল পরিমাণ অর্থ সেই সময় বিএনপি’র পিছনে ব্যয় করে যা সেই সময়কালের আইএসআই প্রধান জেনারেল আসাদ দূর্রানি ২০১২ সালে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া এক জবানবন্দিতে স্বীকার করে ।
১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি’র বিজয়লাভ ছিল পাকিস্তান তথা আইএসআই’র জন্য একটি বিরাট পাওনা । বাংলাদেশে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তারা অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠে । বিএনপি’র ভারত বিরোধিতা আরো বেড়ে যায় এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক আরো বৈরি হয়ে উঠে । দু’দেশের মধ্যে অবিশ্বাস চরম আকার ধারণ করে। এর খেসারত দিতে হয় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে গঙ্গার পানি বণ্টন বিষয়ে কোন অগ্রগতি না হওয়ার কারণে । আইএসআই’র বেপরোয়া তৎপরতার কারণে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো হয়ে উঠে অশান্ত । একই সাথে রক্ত ঝরতে থাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ।
১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে বেগম জিয়া বলে বেড়াতে শুরু করলেন আওয়ামী লীগ বিজয় লাভ করলে বাংলাদেশের সব মসজিদে আযানের বদলে উলুধ্বনি শোনা যাবে । তৎকালিন বিএনপি নেতা বদরুদ্দোজা চৌধুরী টিভির এক অনুষ্ঠানে এক হাতে গীতা আর অন্য হাতে কোরান নিয়ে বললেন বাংলাদেশের মানুষকে ঠিক করতে হবে তারা কী গীতার (ভারত) নাকি কোরানের পক্ষে (বিএনপি) থাকবে ।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় লাভ ও শেখ হাসিনার সরকার গঠন ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর একটি টার্নিং পয়েন্ট । সেই সময় হতে বাংলাদেশ আবার একাত্তরের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন শুরু করে । ভারতের সাথে সম্পর্কের উন্নতি হওয়ার লক্ষণ দেখা যায় । দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি আর পার্বত্য শান্তি চুক্তি। শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বেগম জিয়া ঘোষণা করেন এই চুক্তি স্বাক্ষর হলে ফেনী পর্যন্ত ভারতের অংশ হয়ে যাবে। ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে খুব দ্রুতগতিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের আবার অবনতি হতে থাকে। এই সময় বাংলাদেশ হয়ে উঠে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীদের কাছে অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের নিরাপদ রুট এবং এতে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পায় অস্ত্র চোরাচালানি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ভারতে চোরাচালানের সময় ২০০২ সালে বগুড়ার কাহালুতে কয়েক হাজার আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। চট্টগ্রামে ধরা পড়ে দশট্রাক অত্যাধুনিক অস্ত্র। শুধু উপমহাদেশে নয়, সারা বিশ্বে এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় ।
গোয়েন্দা সংস’ার কর্মকর্তারা বিষয়টি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার গোচরে আনলে তিনি তাদের এই বিষয়ে মাথা ঘামাতে নিষেধ করেন । বলেন এই সম্পর্কে তিনি অবহিত । সংসদে দাঁড়িয়ে তৎকালীন আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন ভারতের পূর্বাঞ্চলে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধরত গোষ্ঠীগুলোকে নৈতিক সহায়তা দেওয়া বাংলাদেশের কর্তব্য যেমন করে ভারত একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের সহায়তা করেছিল । তিনি মুক্তিযোদ্ধা আর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এক কাতারে নিয়ে এসেছিলেন । ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সফরে এলে বেগম জিয়া তাঁর সাথে এক পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎকার বাতিল করেন কারণ ঐদিন তাদের মিত্র জামায়াত ঢাকায় হরতাল ডেকেছিল । এ’টি ছিল চরম শিষ্টাচার বহির্ভূত সিদ্ধান্ত। এই সময় শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় । বিএনপি-জামায়াত জোট তখন তথাকথিত অসাংবিধানিক দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে দেশে ভয়াবহ পেট্রোল বোমা যুদ্ধে লিপ্ত ছিল ।
বিএনপির জন্মটা যেহেতু সঠিক অর্থে একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক দলের আদলে হয়নি, তারা কখনো ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নিজের সক্ষমতার উপর নির্ভরশীল না হয়ে দ্বারস’ হয়েছে বেশির ভাগ সময় পাকিস্তানের আইএসআই’র উপর আর কখনোবা যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএর’র উপর। বিএনপি’র জন্মই হয়েছে জিয়া সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময়। বঙ্গবন্ধু হত্যা, জিয়ার ক্ষমতা দখল, জিয়া পরবর্তীকালে বেগম জিয়ার ক্ষমতায় আরোহণ সবকিছুতেই এই দুটি সংস’ার নিবিড় সহায়তা স্পষ্ট। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দূর্বৃত্তপনার কারণে বিএনপি’র সাথে এখন যুক্তরাষ্ট্রর সম্পর্ক অনেকটা শীতল। তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
পাকিস্তানের আইএসআই এই মুহূর্তে পাকিস্তান তেহরিখে ইন্সাফ পার্টির চেয়ারম্যান ও এক কালের ক্রিকেট তারকা ইমরান খানকে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে জিতিয়ে এনে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বানাতে ব্যস্ত । এই কাজটি করার জন্য পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরিফকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে আর সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশার্রফের নাগিরকত্ব বাতিল করা হয়েছে। ইমরান খান এখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নূতন মুরগি। পূর্বের ধারাবাহিকতায় ইমরান সেনাবাহিনীর হাতে কখন জবাই হবেন তা ভবিষ্যৎ বলবে। তবে বেগম জিয়া তাঁর সর্বশেষ লন্ডন সফরের সময় আইএসআইয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন যা ইতোপূর্বে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে । তারেক রহমানের সাথে এই কর্মকর্তাদের সম্পর্ক সব সময় ঘনিষ্ঠ ।
এটি এখন বাস্তব যে, বর্তমানে বিএনপি অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে । বেগম জিয়া কারাগারে । ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আদালতে দণ্ডিত হয়ে আইনের দৃষ্টিতে পলাতক । ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করাটা ছিল তাদের আত্মঘাতী ভুল। সামনের সংসদ নির্বাচন তাদের জন্য শেষ সুযোগ বলে ধরে নেওয়া যায় । তারপর মুসলিম লীগের ভাগ্য বরণ করতে হবে । যে কোন কারণেই হোক তাদের ধারণা হয়েছে ভারত তাদের সহায়তা করলে তাদের পক্ষে আবার ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব হবে । বিএনপি ও তাদের সহযোগী ‘সুশীল’ গোষ্ঠীর জানা থাকা উচিত ভারত, অথবা যে কোন দেশের একটি নিজস্ব পররাষ্ট্র নীতি থাকে এবং সেই পররাষ্ট্র নীতির প্রধান লক্ষ্য থাকে নিজ দেশের জাতীয় নিরাপত্তা আর অর্থনৈতিক স্বার্থ । আর কোন দেশ অন্য আর একটি দেশের কোন রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় আনতে সরাসারি হস্তক্ষেপ করতে পারে না ।
ষাটের দশকের শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ আর সোভিয়েত ইউনিয়নের কেজিবি কোন কোন ক্ষেত্রে এই কাজটি করতো। বর্তমানের বিশ্বায়নের কালে এটি তেমন একটা সম্ভব নয়। একটি দলকে ক্ষমতায় আসতে হলে নিজের শক্তির উপর নির্ভরশীল হতে হবে আর জনগণের আস’া অর্জন করতে হবে । প্রয়োজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন যোগ্য নেতৃত্বের । যেটি এই মুহূর্তে বিএনপি’র নেই। যদিও ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি’র রাজনৈতিক পুঁজি ছিল ভারত বিরোধিতা তারা এখন দিল্লীর দ্বারস’ হয়েছে সামনের নির্বাচনে তাদের পক্ষে থাকার জন্য । প্রয়োজনে ভারত যা চাইবে তাই তারা দিতে প্রস’ত । এই মিশন নিয়ে গত ৭ জুন বিএনপি’র তিন নেতা দিল্লী তীর্থে গিয়েছিলেন । এদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি নেতা আমির খসরু চৌধুরী, আবদুল আওয়াল মিন্টু, আর লন্ডন হতে উড়ে আসা তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির। এদের মধ্যে আবদুল আওয়াল মিন্টু ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের খুব কাছের মানুষ ছিলেন । দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চুটিয়ে ব্যবসা করেছেন।
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন এই আশায় তিনি ঢাকার মেয়র হবেন । কয়েকমাস আগে বিশ্বকাঁপানো পানামা পেপারস-এ তার এবং পরিবারের নাম এসেছে এবং বলা হয়েছে তারা নাকি বাংলাদেশ হতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। এই তিনজন তারেক রহমানের নির্দেশে দিল্লী সফরে গিয়েছেন ভারতের বিজেপি’র শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বুঝাতে যে তাদের এবার সুযোগ দিলে তারা প্রমাণ করে ছাড়বেন তারা ভারতের কত বড় মিত্র আর ভারত যা চাইবে তাই তারা দিতে প্রস’ত।
কিন’ তাদের দুর্ভাগ্য, দিল্লীতে তারা তেমন একটা সুবিধা করতে পারেননি। দেখা পাননি শীর্ষ পর্যায়ের কোন বিজেপি নেতার। কথা ছিল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ’্র সাথে বৈঠক হবে । কিন’ তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে দেখা না করলে তার একজন মধ্যম সারির কর্মকর্তা অনির্বাণ গাঙ্গুলির সাথে তিন নেতাকে কথা বলে সন’ষ্ট থাকতে হয় । তাদের সাথে আরো দু’একজন মধ্যম সারির কর্মকর্তার সাথে টেলিফোনে কথা হয়। সকলে এক সুরে বলেন, আগে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়-ন তারপর দেখা যাবে কী হয়। অনেকটা বিফল হয়ে প্রথম দুই নেতা দেশে ফিরেন আর হুমায়ূন কবির লন্ডন ফিরে যান ।
প্রশ্ন হচ্ছে, যে বিএনপি জন্মলগ্ন হতে ভারত বিরোধিতাকে পুঁজি করে তাদের রাজনীতি করেছে, যে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় ভারতের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার হুমকি হয় এমন সব কাজের মদদ দিয়েছে তাদের কেন ভারতের যে কোন রাজনৈতিক দল, বিজেপি হোক বা কংগ্রেস, ক্ষমতায় যেতে সহায়তা করবে ? শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের সকল বিচ্ছিন্নতবাদীর আস্তানা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উলফার শীর্ষ নেতা অনুপ চেটিয়া আর অরবিন্দ রাজখোওয়াকে আটক করে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরা বিএনপি’র সময়কালে বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়েছিল। বাংলাদেশ ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলে মালামাল পরিবহনের জন্য সেই দেশকে যথেষ্ট সহায়তা দিয়ে থাকে। ভারতের সাথে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আগের যে কোন সময়ের চাইতে বর্তমানে অনেক উন্নত ।
রমজানের আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ভারত সফরে গেলে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল আর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিজভী আহমেদ সাংবাদিকদের সাথে তাদের নিত্যদিনের বৈঠকি আড্ডায় এই সফরের তুমুল সমালোচনা করেছিলেন । বিএনপি’র এই তিন নেতার দিল্লী তীর্থ নিয়ে এখন পর্যন্ত তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি । তবে এটি নিশ্চিত যে বিএনপি নেতা কর্মীরা যারা উঠতে বসতে আওয়ামী লীগকে ভারতের দালাল বলে গালাগাল করেন, বলেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ ভারতের করদ রাজ্য হয়, এখন তারা কী বলবেন-সেই উত্তর তাদের জানা নেই । আর দলের একমাত্র পুঁজি যে ভারত বিরোধিতা সেটি যখন তারেক রহমানের নির্দেশে দিল্লীতে দলের তিন নেতা খুঁইয়ে এসেছেন, তারা আগামীতে কী নিয়ে আর রাজনীতি করবেন ? কী দুঃখে ভারত আওয়ামী লীগের জায়গায় বিএনপি’র মতো একটি চরম হঠকারী আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মদদদাতা দলকে বাংলাদেশে ক্ষমতায় দেখতে চাইবে। প্রশ্ন বিএনপি আম আর ছালা কী দুটিই হারালো ?
লেখক : বিশ্লেষক ও গবেষক