কর্ণফুলী

বাড়ছে ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার

বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিনিধি, আনোয়া

কর্ণফুলী উপজেলার ৫ ইউনিয়নের চাষিদের পোঁকা দমন, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফেরোমন ফাঁদ তৈরি করতে একটি পাত্র ও গন্ধ সৃষ্টিকারী উপাদান লিউরের প্রয়োজন হয়। প্লাস্টিকের একটি বোতলে লিউর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এর নিচের পাত্রে দেওয়া হয় সাবান পানি। লিউর থেকে পুরুষ পোকার গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্ত্রী পোকা ছুটে আসলে পানিতে আটকা পড়ে মারা যায়। গত সোমবার সকালে উপজেলার চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জৈবিক বালাইনাশক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন কণফুলী উপজেলার ৫ ইউনিয়নের চাষিরা। জমিতে লাউ, মিষ্টিকুমড়া, টমেটো, ঝিঙ্গা, বেগুনসহ নানা সবজি।
কম সময়ে ও কম খরচে কয়েকগুণ বেশি লাভ থাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চাষিদের কাছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পোকা দমন পদ্ধতি কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে চাষিরা বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে। ক্ষতিকর পোকা দমন ও ফসল রক্ষায় ফেরোমন ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছেন চাষিরা। পোকা ও কীট দমনে অন্য কীটনাশক কিংবা ওষুধের তুলনায় খরচ অনেক কম হওয়ায় এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বড়উঠান, শাহমীরপুর, জুলধা, চরলক্ষ্যা ও পাথরঘাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ফসলের ক্ষেতে পোকা দমনকারী ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অনেকে এখনো এ ফাঁদ স’াপন করছেন। স’ানীয় জুলধা ইউনিয়নের চাষি কামরুল হাসান বলেন, ফসলের ক্ষেত্রে পোকা দমনে বাজার থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও কীটনাশক ব্যবহার করলেও এতে পুরোপুরি পোকা দমন হতো না। কিন’ ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের ফলে এখন সে সমস্যা হচ্ছেনা। এতে করে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন হচ্ছে। আমাদের খরচও কমেছে। জুলধা ইউনিয়নের উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা হিমু বড়-য়া বলেন, আমার জুলধা ইউনিয়নের চাষিদের কাছে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফেরোমন ফাঁদ। ইতিমধ্যে এ ইউনিয়নের কয়েকটি প্রদর্শনীতে ফাঁদের ব্যবহার চলছে। কর্ণফুলী অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মঈনদ্দিন বলেন, উপজেলার ৫ ইউনিয়নের চাষিদের মধ্যে আমরা বেগুন ক্ষেতে একটি প্রদর্শনীতে ২২টি করে ফাঁদ বিতরণ করা হয়েছে। তিনমাস পর চাষিদের আবারো ফাঁদ দেওয়া হবে।