বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা

উখিয়ায় ক্যাম্পভিত্তিক মৌসুমী হাটবাজার

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া গ্ধ
উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পভিত্তিক মৌসুমী হাটবাজারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যুকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা ও স’ানীয়দের সমন্বয়ে বেশ কিছু সন্ত্রাসীচক্রের নিয়ন্ত্রণে চলছে এসব হাটবাজার। কোনো নীতিমালা না থাকায় এসব হাটবাজারে প্রতিনিয়ত অপরাধপ্রবণতা ও সহিংসতার মতো হিংস্র ঘটনা ঘটছে বলে রোহিঙ্গাদের অভিযোগ। রোহিঙ্গা নেতাদের অভিযোগ, ২৫ আগস্টের পর থেকে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পভিত্তিক প্রায় অর্ধশতাধিক মৌসুমী হাটবাজার গড়ে উঠেছে। এসব হাটবাজারের ব্যবসায়ীরা রোহিঙ্গাদের ত্রাণসামগ্রী নাম মাত্রমূল্যে ক্রয় করে বাজারে বিক্রি করছে। পাশাপাশি মদ-গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় পণ্যসামগ্রী এসব বাজারে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গারা জানিয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী বিক্রির নামে গড়ে ওঠা এসব হাটবাজার থেকে সরকারিভাবে কোনো প্রকার রাজস্ব আদায় করা না হলেও এক শ্রেণির প্রভাবশালী সন্ত্রাসীচক্র এসব হাটবাজার থেকে নিয়মিত টোলের নামে চাঁদা আদায় করছে বলে লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি খালেদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তার ব্লুকে গড়ে ওঠা বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে রমযান আলী নামের এক রোহিঙ্গা নাগরিক নিহত হন। তিনি আরো জানান, রাতভর দোকানে আড্ডা জমিয়ে সন্ত্রাসীরা মাদক সেবন করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে। যা স’ানীয়ভাবে মীমাংসাা হলেও পক্ষে-বিপক্ষে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজমান থেকে যাচ্ছে। বুধবার বেসরকারি সংস’া রিকের এক কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরীকে অভিযোগ করে জানান, ক্যাম্পে গড়ে ওঠা অবৈধ হাটবাজারগুলোতে দা-ছুরিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রশস্ত্র প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। এ সমস্ত অস্ত্র বিক্রি হওয়ার কারণে এনজিওকর্মীরা বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে যে কোনো হিংসাত্মক ঘটনায় এসমস্ত হাতে বানানো থারালো অস্ত্র ব্যবহৃত হওয়ার আশংকা করছেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, ক্যাম্পে গড়ে ওঠা হাটবাজারগুলো সরকারি ফেরির আওতায় এনে প্রকাশ্য ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।