বার্সেলোনার বিদায়

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক
পারলেন না মেসি। ‘বুড়ো সিংহ’ বুফনের হাতে থাকা বলটির দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না এ আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের
পারলেন না মেসি। ‘বুড়ো সিংহ’ বুফনের হাতে থাকা বলটির দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না এ আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের

না, মহাকাব্য আর লেখা হলো না বার্সেলোনার। সত্যি কথা বলতে সুযোগ বা ভাগ্য তো সব সময় সহায় হয় না। আর এবার দৃঢ় প্রত্যয়ী জুভেন্টাসকে হারাতে পারলো না লুইস এনরিক শিষ্যরা। চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে গোলশূন্য ড্র। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে আসরটির সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলো জুভিরা। বিদায় বার্সার! খবর বাংলানিউজ’র।
প্রথম লেগে নিজেদের মাঠ তুরিনে ৩-০ গোলে জিতেই সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছিল জুভেন্টাস। তবে দ্বিতীয় লেগে কোনো ঝুঁকি নেননি কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালিগ্রি। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনের সঙ্গে রক্ষণভাগের ওপরই নজর দিয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষে সুফলও পেয়েছেন তিনি।
গত বুধবার রাতে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যু’তে ইতালিয়ান সিরিয়া চ্যাম্পিয়নদের আতিথিয়েতা জানায় বার্সা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ তাই এদিন স্টেডিয়ামে দর্শকও ছিল ঠাসা। ৯৬ হাজারেরও বেশি সমর্থক এদিন মাঠে ছিলেন। কিন’ শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের বিদায়ই দেখতে হলো তাদের।
এই বার্সাই ক’দিন আগে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়েছিল। প্যারিস সেন্ট জার্মেইর বিপক্ষে ৪-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর জয় পায় ৬-১ গোলে। নিশ্চিত করে শেষ আট। এদিনও সমর্থকদের মনে তেমন আশাই ছিল। তবে প্রচুর লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে মাশুল গুনতে হলো। যেখানে লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে এগিয়ে ছিলেন দলের সেরা তার লিওনেল মেসিই।
এদিন বল দখলে কাতালান ক্লাবটিই এগিয়ে ছিল। ৬৫ শতাংশ।
তবে পুরো খেলায় শট নিতে পেরেছে ১৯টি। তার মধ্যে আবার লক্ষ্যে শট নিয়েছে মাত্র একটি! ফলে অভিজ্ঞ বুফনকে তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি এমএসএন খ্যাত বিশ্বের সেরা আক্রমণ ভাগ। উল্টো জুভির আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েন বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছেন। সফরকারীরাও লক্ষ্যে চারটি শট নিতে পেরেছিল।
আক্রমণ ছাড়াও যে রক্ষণ দিয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব তা এদিন দেখালেন অ্যালিগ্রি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তিনি তুলে নেন হিগুয়েন, প্রথম লেগে জোড়া গোল করে নায়ক বনে যাওয়া আরেক আর্জেন্টাইন পাওলো দিবালা ও প্রায়ই আক্রমণে যাওয়া হুয়ান কুয়াদরাদো। তাদের উঠিয়ে শেষ দিকে রক্ষণকে আরও শক্তিশালী করে দলটি।
ফলে শেষ বাঁশি বাজার পর গোলশূন্য ড্রয়ই দেখলো দু’দল। আর শেষ চারের আনন্দ উদযাপন করতে শুরু করে জুভেন্টাস। এ ম্যাচটি দলটির জন্য প্রতিশোধেরও ছিল। কেননা ২০১৫ সালের ফাইনালে জুভেন্টাসকেই ৩-১ গোলে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো শিরোপা জিতেছিল এনরিক শিষ্যরা। তাই এবারের জয়ের পর ১৯৯৬ সালের পর আবারও শিরোপার স্বপ্ন দেখছে দলটি।
ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সপ্তমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে পৌঁছা জুভেন্টাসের সঙ্গী স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদ, অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের মোনাকো। এদিকে বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে শেষ চারে মোনাকো।
প্রথম লেগের মতো ফিরতি পর্বেও জার্মান দলটির বিপক্ষে জিতে সেমি-ফাইনালে উঠেছে মোনাকো। বুধবার রাতে ঘরের ম্যাঠে ৩-১ গোলে জিতেছে মোনাকো। ডর্টমুন্ডের মাঠে ৩-২ গোলে জিতেছিল ফরাসি ক্লাবটি।