বাবা

মুহাম্মদ মহিউদ্দিন

প্রায় প্রতিদিনই একি স্বপ্ন দেখছে হাতিম আলী। রাতে ঘুম জড়িয়ে আসার কিছুক্ষণ পরই যেন স্বপ্নের স্ক্রীনটা চালু হয়ে যায়। অপরূপ সাজে হাতিম আলীর কাছে আসে রাহেলা। চিকন পাড়ের লাল-সবুজ সুতির শাড়ি পরে ঘোমটা মাথায় ফোলা ফোলা চোখ আর চোখা নাকের ডগায় শিশির বিন্দু নিয়ে কামনাময়ী রাহেলা ত্রস্তপদে এগিয়ে আসে। কয়েক কদম এগুনোর পর থামে। পুনরায় এগোয়। শিহরিত মন নিয়ে উদগ্রীব হয়ে থাকে হাতিম আলী। কখন রাহেলা কাছে আসবে। আরো কাছে। দীর্ঘপথ। যেন শেষ হতে চায় না। রাহেলার হাতের কাঁচের চুড়ির ঝনঝন শব্দ হাতিম আলীর মনে তোলে অনুরণন। একসময় রাহেলা খুব কাছাকাছি এসে পড়ে। উত্তেজিত হাতিম আলী রাহেলাকে বুকে জড়িয়ে নিতে উপক্রম হতেই ঘুম ভেঙে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পেছন দিকের সিঁড়ি ঘরের আস্তিন হলো হাতিম আলীর ঠিকানা। রাতটা ওখানেই পার করে। দিনের বেলা কাটে দোয়েল চত্বরের পাশে ফুটপাতে। কখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজের আশপাশে ভিক্ষা করে। ষাট পেরিয়েছে বছর পাঁচেক আগে। সাকুল্যে দেড় পা আর দু’টি হাত নিয়েই তার পথচলা। বাঁ’পায়ের হাঁটুর গোড়া থেকে নীচের অংশটুকু নেই। বাস অ্যাকসিডেন্টে হারিয়েছে। হাতিম আলীর পা হারানোর গল্পে পরে আসছি।
স্বপ্নটি শেষ হওয়ার পর হাতিম আলীর উত্তেজিত শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। বার কয়েক এপাশ-ওপাশ করলেই ঘুম এসে যায়। আজ অনেকবার বিছানায় পাশ ফিরেছে হাতিম আলী। বাম-থেকে ডান। আর ডান থেকে বাম। কিন্তু ঘুম আসছেনা। পৌষের কনকনে শীত। তেলচিটে বালিশে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে হাতিম আলী। কম্বলটি নতুন। কয়েকদিন আগে রাতের আবছা আলোতে ধনাঢ্য এক ব্যক্তি এসে দিয়ে গেছে। পুরোনো ছেঁড়া কাঁথাটি তেলচিটে বালিশের নীচেই ভাঁজ হয়ে আছে। সিঁড়ির কার্নিশের বাইরে একটি মা কুকুর। সাদা-কালো। ডোরাকাটা। কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘুমোচ্ছে। কয়দিন আগেও দু’টি বাচ্চা দেখা গিয়েছিল। সারাক্ষণ ছোটাছুটি করতো আর চুক চুক করে দুধ খেত। এখন বাচ্চা দু’টি দেখা যাচ্ছেনা। হয়তো কেউ নিয়ে গেছে অথবা মেরে ফেলেছে। মা কুকুরটির জন্য খুব আফসোস হলো হাতিম আলীর।
পৃথিবীর বুকে বাচ্চাদের জন্য একমাত্র নিরাপদ জায়গা হলো মায়ের কোল।
রাতে ঘুম না এলেই এলোমেলো ভাবনা এসে মাথায় গিজগিজ করে। হাতিম আলীর এখন তাই হচ্ছে। মা কুকুর আর কুকুর ছানাদের দিক থেকে রাহেলার দিকেই ভাবনা ঘুরে গেল। হাতিম আলীর বাড়িতে রাহেলা লক্ষ্মী হয়েই এসেছিল। তখন গঞ্জের হাটে তরি-তরকারি বিক্রি আর জমি চাষ করেই সংসার চলতো হাতিম আলীর বাবা কিতাব আলীর। বাবার কাজে হাত লাগিয়ে নিজের হাত পাকা করে নিয়েছিল হাতিম আলী, একসময় বাবার পছন্দেই রাহেলার সাথে বিয়ে হয়। সময় গড়িয়ে যায়। হাল-চাষ আর বেচা-বিক্রি দিয়ে ভালোই সংসারের হাল ধরে নেয় রাহেলা। কিতাব আলী মারা যায়। রাহেলার সংসারে আসে নতুন অতিথি, দু’টি মেয়ে আর একটি ছেলে। সংসারের কাজে মেয়েদের স্কুলে দিতে না পারলেও একমাত্র ছেলে সুরুজ আলীকে স্কুলে পাঠায় রাহেলা। ভালো সম্বন্ধ দেখে দু’মেয়েকে বিয়ে দেয়। আয়-রোজগার ভালোই হতে থাকে। পুরোনো ছনের ছাউনি দো’চালা ঘর ভেঙে টিনের বেড়া দিয়ে নতুন ঘর করে। উঠোনের কাছে নলকূপ বসায়। হাস-মুরগি আর গরুর আলাদা আলাদা খোঁয়াড় করে। স্কুল পেরিয়ে কলেজে যায় সুরুজ আলী। হাতিম আলী তার বাবা কিতাব আলীর মতো ছেলেকে কাজে লাগায় না। বরং ছেলের পড়ালেখার জন্য প্রাণপণ খেটে যায়।
সংসারে সুখের ভেলা ভাসানোর শুরুতেই হোঁচট্‌ খেতে হয় হাতিম আলীকে। হঠাৎ কঠিন রোগ ধরা পড়ে রাহেলার পেটে। কোন খাবারই পেটে পড়তে পারে না। বমি হয়ে যায়। ডাক্তার জানিয়ে দিল ক্যান্সার। শহরের বড় হাসপাতালে ভর্তি করল। ফসলি জমি বন্ধক দিল। তবুও চিকিৎসার খরচ মেটানো গেল না। ধার-দেনা করে হাতিম আলী প্রায় দেউলিয়া হয়ে গেল। তারপরও রাহেলাকে ঠেকাতে পারলোনা। হতবিহ্বল হাতিম আলী মানসিক ভারসাম্য হারালো।
হঠাৎ করেই যেন সবকিছু ওলট-পালট হয়ে গেল। হাতিম আলীর একমাত্র ছেলে সুরুজ আলী কী করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারলোনা। গ্রামের পড়শীরা মানসিক ভারসাম্যহীন হাতিম আলীকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে দিল। বেশ কিছুদিন চিকিৎসা চললো। দুই মেয়ে আর সুরুজ আলী নিয়মিত বাবার দেখাশোনা করলো। কিন্তু হাতিম আলীর সহসা সুস্থ হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা গেল না।
কয়েকবছর পেরুলো। ইতোমধ্যে সুরুজ আলী গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি নিল। বিয়ে হলো। হাতিম আলী কিছুটা সুস্থ হলো। সুরুজ আলী আর বোনেরা মিলে তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনলো। ছেলে স্কুলের শিক্ষক, ঘরে ছেলেবউ পরবর্তী বংশধর আসবে। সবকিছু মিলিয়ে নতুন পরিবেশ পেয়ে খুশি হাতিম আলী।
এভাবে বেশ কিছুদিন চলল। কিন্তু হাতিম আলীর খুশি বেশিদিন স্থায়ী হলো না। প্রতিদিনের মতো বাজারে গিয়েছিল হাতিম আলী। মাঝপথে গিয়ে মনে হলো বাজারের থলেটাই নেয়া হয়নি। তাই ফিরে এসেছিল ঘরে। দরজার কাছে আসতেই সুরুজ ও তার স্ত্রীর ঝগড়া শুনতে পেল। থামল হাতিম আলী। সুরুজের স্ত্রী আমেনার ঝাঁঝালো কণ্ঠ-“আমি আর পারছিনা। তোমার বাপরে কও কাম কাইজ কিছু করতে। দিন রাইত বুইড়ার খেজমত করতে করতে আমার জান বাইর অইয়া যাইতাছে। আর পারুম না। পোলার টেহায় বাজার করবো আর খাইবো। এর চাইয়া কতো বুড়া মানুষ কাম কইরা খায়।”
আর শুনতে পারলো না হাতিম আলী। শরীরের উষ্ণ রক্ত যেন জমাট বেঁধে গেল। পা দু’টি মাটির সাথে আটকে গেল। ভাবনার রেখাগুলো থেমে গেল। বাজারের থলে না নিয়েই হাঁটা দিল হাতিম আলী। একবারের জন্যও পেছন ফিরে তাকায়নি। হেঁটেই গঞ্জে এলো। মাঝপথে একটি কলতলায় দাঁড়িয়েছিল। পেট ভরেছিল পানিতে। বাসে উঠে পড়ল। ঢাকার বাসে।
বেশ কয়েকদিন ঘোরাঘুরির পর আজিমপুরে এক রিকশার গেরেজে ঠাঁই পেয়েছিল হাতিম আলী। বয়স হয়েছে। তাই কেউ কোন কাজ দিতে চাইল না। শেষমেষ রিকশা নিয়েই নেমে পড়ল ঢাকা শহরে। আগে কখনো রিকশা চালায়নি হাতিম আলী। প্যাডেলের পর প্যাডেল টানা কতো যে কষ্টের তা হাড়ে হাড়ে টের পেল। রিকশা চলে ধীর গতিতে। হাত-পা কাঁপতো। এই বুঝি বিপরীত দিক থেকে আসা রিকশার সাথে লেগে গেল। প্রথম কাঁচা রাস্তাগুলোতেই রিকশা চালাতো হাতিম আলী। যানজটের রাস্তার দিকে ভাড়া নিত না। কিন্তু ঢাকা শহরে যানজট ছাড়া রাস্তা খুঁজে পাওয়াই তো মুশকিল।
ঘটনাটা ঘটলো নীলক্ষেতের মোড়ে। হাতিম আলী রিকশা নিয়ে নিউমার্কেটের দিক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ আজিমপুর দিক থেকে ধামরাইগামী একটি বাস সিগনাল অমান্য করেই আঘাত হানল হাতিম আলীর রিকশাকে। প্যাসেঞ্জার ছিটকে পড়ল। দুমড়ে মুচড়ে গেল হাতিম আলীর রিকশা। তারপর কী হলো কিছুই জানে না হাতিম আলী।
যখন জ্ঞান ফিরলো তখন হাতিম আলী নিজের দেহটাকে দেখতে পেল ঢাকা মেডিকেল কলেজের বেডে। মাথার কাছে স্ট্যান্ডে স্যালাইনের প্যাকেট ঝুলছে। ফোঁটা ফোঁটা জল ঘড়ির কাঁটার সাথে মিল রেখে পড়ছে। কিছুটা সময় পলেস্তারা ওঠা ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকল। পুরোনো সিলিং ফ্যান ঘ্যার ঘ্যার শব্দ করে ঘুরছে। খাটো মতন সুন্দরী একজন নার্স এসে পাশে দাঁড়ালো। হাতিম আলী টের পেল না। কপালে আলতো করে হাত রাখল। সম্বিত ফিরে পেল হাতিম আলী।
চাচা কিছু খাবেন? বলল নার্স।
মাগো আমি এখানে কেন? জড়ানো গলায় বলল হাতিম আলী।
তারপরই সটান করে রাখা পা টানতে চাইল। আর তখনি বিপত্তিটা ঘটল। ডান পা টা রশি দিয়ে বেডের সাথে আটকানো। টানতে চেয়েও টানতে পারলোনা। বাঁ’পাটা অর্ধেক নেই।
আমার পা-আ। অবাক হয়ে ভাঙা গলায় বলল হাতিম আলী।
চাচা আপনার অ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল। আর পা’টা অ্যাকসিডেন্টে…। বাকিটা বলতে পারলোনা নার্স। তারও গলা ধরে এলো।
হায় আল্লাহ্‌ ! এ তুমি কেমন শাস্তি দিলা। কী অন্যায় করেছিলাম ! হায় আল্লাহ্‌ !
কান্নায় ভেঙে পড়লো হাতিম আলী। কপাল, মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত্বনার মিথ্যে ভাষা খুঁজছিল নার্স। হাতিম আলীর হাতে এক বোতল জল দিল। বোতলের জলের চেয়ে দু’চোখের জলই বেশি গড়িয়ে পড়ছিল। আশপাশের বেডের রোগী-দর্শনার্থীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ়। সবাই ফ্যালফ্যাল নয়নে তাকিয়েছিল। কারো মুখেই কোন রা নেই। কী বলবে কোন কথাতেই তো হারানো পা ফিরে আসবেনা।
ফিরে যাই হাতিম আলীর স্বপ্ন দেখার ক্যানভাসে। প্রায় পনের বছর পেরিয়ে গেছে হাতিম আলী পা হারিয়েছে। স্বাস্থ্য অনেকটা ভেঙে পড়েছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়েছে দেহ ও মন। আর ঠিকানা হয়েছে কার্জন হলের সিঁড়ি ঘরের আস্তিন। দোয়েল চত্বরের ফুটপাতে বসে ভিক্ষে করা।
হাতিম আলী যেখানটায় বসে ভিক্ষে করে তার পাশেই মোবারক মিঞার ভাত গাড়ি। ভ্যানের উপর ভাত-তরকারির সব পাতিল সাঁটানো। ফুটপাতেই পাতানো বেঞ্চ। ওতে বসেই সরকারি অফিসের নিম্নপদের কর্মচারী থেকে পথচারি অনেকেই দুপুরের খাবারটা সেরে নেয়। মোবারক মিয়াকে ভাত বিক্রির কাজে যোগান দেয় তার মেয়ে মর্জিনা আর স্ত্রী। মর্জিনার বাড়ন্ত বয়স। অনেকের চোখ যায় মর্জিনার দিকে। আর তা ধরা পড়ে হাতিম আলীর চোখে। কিন্তু কিছুই বলতে পারেনা। মর্জিনা নিজ হাতে ভাতের থালাটা এগিয়ে দেয় বলেই নিয়মিত কাস্টমার হয়েছে মোবারক মিঞার। এর কারণ মোবারক মিঞাও বুঝতে পারে। পাশে বড় গামলাতে থালা-বাটি ধোয় মর্জিনার মা। সেও মর্জিনাকে আগলে রাখতে চায়। কিন্তু মানুষের চোখকে তো আর আগলাতে পারে না।
সরকারি অফিসের একজন পিয়ন এসে বসেছে বেঞ্চিতে। নিয়মিত আসে। হাতিম আলীও মোবারক মিঞার অনেক নিয়মিত গ্রাহককে চেনে। পিয়ন লোকটিকে খুব বিমর্ষ দেখাচ্ছে। মাথা নিচু করে বসে আছে।
স্যারের কী মন খারাপ? বলল মোবারক মিঞা।
না। তেমন কিছু না। খাওন দাও। বলল পিয়ন।
খাবার এগিয়ে দেয় মর্জিনা।
বলেন স্যার। আমরা ছুডু মানুষ। যদি কোন কাজে আসি। বলল মোবারক মিঞা।
হাতিম আলী দেখছে। কেমন যেন মায়া হয় তার।
আমার স্ত্রীর ডেলিভারি কাল। টাকা লাগবে। অফিসের বস গেছে বিদেশে। টেনশানে আছি। টাকা কেমনে যোগাড় করি।
মর্জিনার মা থালা-বাটি ধোয়া রেখে উঠে আসে।
আমি যামু আপনার লগে। আমি কিন্তু হেই কাম পারি। বলল মর্জিনার মা।
না। ডাক্তার বলছে হাসপাতালে ভর্তি করানো লাগবে। বলল পিয়ন।
হাতিম আলী বলল- কতো লাগবো বাজান?
অবাক হয়ে তাকায় পিয়ন। কী বলছে এই ভিক্ষুক। চুপ করে থাকে।
বলো। কতো টাকা লাগবে? পুনরায় বলল হাতিম আলী।
এদিক ওদিক তাকায় পিয়ন। বলল- বিশ হাজার হলেই চলবে। মোবারক মিঞা হাতিম আলীর দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি দিমু। কাল সকালে আইসা নিয়া যাইও। বলল হাতিম আলী।
মোবারক মিঞা, মর্জিনার মা, পিয়ন সবাই অবাক তাকিয়ে থাকে।
পরদিন হাতিম আলীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে যায় পিয়ন। ডেলিভারি হয়। পিয়নের ঘরে পুত্র সন্তান আসে। আগেও একটি মেয়ে জন্মেছিল। নিউমোনিয়াতে মারা গেছে। পিয়নের জোরাজুরিতে ঘরে যায় হাতিম আলী। পিয়নের স্ত্রী ও সদ্যজাত পুত্রসন্তান ঘুমোচ্ছে। ছোট্ট একটি কক্ষে একপাশে পাতানো চকি। পাশে বেতের মোড়া। পিয়ন হাতিম আলীকে মোড়াতে বসতে দেয়। বাটিতে করে পায়েস এনে রাখে সামনে। স্ত্রীকে ডাকে। পিয়নের স্ত্রীর চেহারাটা কেমন পরিচিত বলে মনে হয় হাতিম আলীর। পিয়নকে যেদিন প্রথম দেখেছিল সেদিন থেকেই খুব চেনা মনে হয়েছিল। মুখভর্তি চাপাদাড়ি থাকাতে ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি।
পিয়নের স্ত্রী চোখ কঁচলাতে কঁচলাতে জাগল। বোবার মতো তাকিয়ে আছে হাতিম আলীর দিকে। কিছু একটা বলতে গিয়ে থামে। তোমার নাম কী বাবা? হাতিম আলী জানতে চায় পিয়নের কাছে।
সুরুজ আলী। বলল পিয়ন।
চমকায় হাতিম আলী। বলল-বাবা?
হাতিম আলী। উত্তর দেয় পিয়ন।
হাতিম আলী আর কিছুই জানতে চায়না। বেতের মোড়া থেকে উঠে ক্রাচে ভর দিয়ে দাঁড়ায়। তারপর হাঁটা দেয় উল্টোপথে। পায়েসের বাটিটা পড়ে থাকে একা। অসহায় চাহনিতে।

আপনার মন্তব্য লিখুন