বান্দরবানের সঙ্গে দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
Bandarban Flood PiC-02

অবিরাম ভারী বর্ষণে প্রধান সড়কে পানি উঠায় বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অপরদিকে বেইলি ব্রিজ ডুবে যাওয়ায় দুদিন ধরে রাঙামাটির সঙ্গে এবং পাহাড় ধসের কারণে রুমা উপজেলার সঙ্গে বান্দরবান জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রকল্প কর্মকর্তাদের সবধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবারও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। মৃত্তিকা পানি সংরক্ষণ কেন্দ্র বান্দরবানের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় বান্দরবানে ১৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগেরদিন বৃষ্টিপাত হয়েছিল চব্বিশ ঘণ্টায় ২০২ মিলিমিটার। বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। থেমে বৃষ্টিপাত আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানায়, গত রোববার ভোররাত থেকে বান্দরবানে অবিরাম ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টিতে বান্দরবান কেরানীহাট চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া, বরদুয়ারা, আমতলীসহ কয়েকটি স’ানে প্রধান সড়কটি ৪ থেকে ৫ ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অপরদিকে শহরের বালাঘাটায় বেইলি ব্রিজ ডুবে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে ২ দিন ধরে রাঙামাটি এবং পাহাড় ধসে সড়কে মাটি জমে যাওয়ায় রুমা উপজেলার সঙ্গে বান্দরবান জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পরিবহন শ্রমিক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, বন্যার পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে টানা বর্ষণে জেলা শহরের ইসলামপুর, আর্মীপাড়া, মেম্বারপাড়া, ওয়াবদাব্রিজসহ আশপাশের এলাকা এবং লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী অসংখ্য ঘরবাড়ি পানির স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অবিরম বর্ষণের ফলে বান্দরবানের বনরুপা পাড়া, ইসলামপুর, কালাঘাটা’সহ বিভিন্ন সড়কে পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজনদের ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। জেলার সাতটি উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোলা হয়েছে ২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির বাসিন্দারা আশ্রয় নেয়া শুরু করেছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন জানান, পাহাড় ধসের অতিঝুঁকিপূর্ণ অবস’ায় বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা এক হাজার ৪৪৪টি। দ্রুত তাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস’া করা হবে। সার্বিক পরিসি’তি পর্যবেক্ষণে প্রস’ত রয়েছে প্রশাসন।