সৌদি-বাংলাদেশি ব্যবসায়ী

বাণিজ্য বাড়াতে বৈঠক

সুপ্রভাত ডেস্ক

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর সম্ভাব পথ খুঁজে বের করতে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে সফররত সৌদি আরবের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল।
বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই বৈঠক হয়।
বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সকালে সৌদি প্রতিনিধিদের নিয়ে এক আলোচনায় অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বিনিয়োগ উন্নয়ন বোডের্র (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ ও ব্যবসায়ী নেতারা।
এময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কেউ যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে তাহলে লাভবান হবে। কারণ আমরা এখনও এলডিসিভুক্ত দেশ। আমরা বেশিরভাগ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ থেকে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাই। এখানে বিনিয়োগ করে অন্য দেশে পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা পাবেন।’
বাংলাদেশকে ব্যবসা-বাণিজ্যের উর্বর ক্ষেত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই উদ্যোগ বাস্তাবায়ন পর্যায়ে আছে। সৌদি ব্যসায়ীরা চাইলে তাদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দ দিতেও সরকার প্রস্তুত।
বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, চামড়া, পাট, প্লাস্টিক, ফার্নিচার, হিমায়িত পণ্য খাতে গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে এসব খাতে সৌদি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
সৌদি প্রতিনিধি দলের প্রধান ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির নির্বাহী চেয়ারম্যান মোসহাবাব আব্দুল্লাহ আল কাহতানি বলেন, ‘এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে আরও বেশি মুক্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনা জাগাবে। দুই দেশের বেসরকারি খাতের সংযুক্তি দীর্ঘদিনের ভাতৃ সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে।’
সৌদি আরবে শিক্ষা, পর্যটন ও গৃহায়নে বিনিয়োগ করতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি কমার্সিয়াল অফিস অচিরেই চালু করা হবে। সৌদি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসারি আলোচনা করে দেশের আগ্রহী ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার নতুন পথ তৈরি করতে পারেন।
বিডার চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। দেশটির সঙ্গে নতুন ব্যবসার কৌশল ঠিক করার সুযোগ এসেছে এখন। সৌদি আরব যেমন একটি ভিশন (ভিশন২০৩০) নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশও অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটা ভিশন ঠিক করেছে।
‘আমরা আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সৌদি আরবকে চাই। যেকোনো সংযুক্তিতে সৌদি ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। ইতোমধ্যে জাপানসহ দূরপ্রাচ্যের অনেক দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা শুরু করেছে। আমাদের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মুদ্রার স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ পরিবেশ রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সারা বিশ্বে আলোচিত হচ্ছে।’ সৌদি প্রতিনিধিদলে ছিলেন রাগেব আল-সানওয়ানি ট্রেডিংয়ের স্বত্ত্বাধিকারী রাগেব মোস্তফা আল-সানওয়ানি, আল সানওয়ানি ট্রেডিং অ্যান্ড কনট্রাকটিংয়ের সিইও নওরাস মোস্তফা আলসানওয়ানি, সুলতান নাসের অকসনারিজের মহাব্যবস্থাপক সুলতান নাসের আল মওয়ালি, রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি আল সাফির আল মাসির মহাব্যবস্থাপক খালিদ আব্দুল আজিজ আল সালিম, কটন হাউজের এমডি নায়িফ বন্দর আল হারথি, ক্যাডার রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির সদস্য বদর সাদ্দাদ আলাদিলাহ, পোশাক প্রতিষ্ঠান রেমি জেন্ট টেইলরিং স্টোরের রামি সালেহ আল আবুদি, আওজান কোংয়ের সোলায়মান বদর আল বদর, গালফ শেলসের ডেপুটি ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আওয়াদ আলশামরানি, সাউদি এক্সপোর্ট প্রোগ্রাম মার্কেটিং স্পেশালিস্ট জায়েদ সালেহ বিন মুকালিব, একই প্রতিষ্ঠানের খালিদ রোমেহ আল রোমেহ, আল ফানার এনাজির্র বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ ইরফান, সাউদি সালওয়া কোম্পানির সিইও নাবিল মারুফ জান এ তুর্কিস্তানি, সাউদি সালওয়া কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়াদ আব্দুল্লাহ এস আল ওয়াবিলসহ আরও কয়েকজন।
বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম, প্রথম সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফসহ বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন ও চেম্বারের নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।