প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে জানালেন নৌ-মন্ত্রী

বাণিজ্যিক বন্দরও হবে মাতারবাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক
Matarbari_Port

বাণিজ্যিক বন্দরের সম্ভাবনা নিয়ে গড়ে উঠবে মহেশখালীর মাতারবাড়ি বন্দর। ১২০০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রয়োজনে বন্দরের সুযোগ সুবিধার ওপর ভর করে নির্মাণ হতে যাওয়া এই সমুদ্র বন্দরটিতে ৮ হাজারের বেশি একক কনটেইনার নিয়ে জাহাজ ভিড়তে পারবে। গতকাল নৌ মন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মূখ্য সচিব ও বেজা চেয়ারম্যান, মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলের কো-অর্ডিনেটর, নৌ সচিব, ভূমি সচিব, বিদ্যুৎ সচিব, চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানসহ সরকারের ১১ উর্ধতন কর্মকর্তা হেলিকপ্টারে মহেশখালীর মাতারবাড়ির কার্যক্রম দেখতে যান।
জানা যায়, পরিদর্শন শেষে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট অফিসে অনুষ্ঠিত এক সভায় চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বন্দরের স্ট্র্যাটেজিক অবস’ান নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস’াপন করেন। মাতারবাড়ি নিয়ে পৃথক পাওয়ার পয়েন্ট উপস’াপন করেন বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম। সভায় নৌ মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য এই জেটি নির্মাণ হচ্ছে। কিন’ এই জেটি সুবিধা ব্যবহার করে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে আরো জেটি নির্মাণ করা যায় এবং তা বন্দর হিসেবে ব্যবহার করা যাবে সেই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছে জাইকা (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি)। তবে কয়লাভিত্তিক জাহাজের পাশাপাশি বাণিজ্যিক কনটেইনারবাহী পণ্য আমদানি-রপ্তানি হবে বলে এটি বাণিজ্যিক বন্দর হিসেবে গড়ে উঠবে।
বৈঠক ও পরিদর্শন বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বলেন, ‘মূলত এখানে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মিত হচ্ছে। তা নির্মাণ করতে গিয়ে আমরা বন্দরের সুবিধা পেতে যাচ্ছি। এ বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা দেখলেন এবং মাতারবাড়িকে একটি বাণিজ্যিক বন্দর হিসেবে গড়ে উঠার অপার সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে।’
মাতারবাড়ির উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ দেখে আগত উচ্চ পদস’ কর্মকর্তারা অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। ২০২২ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরবর্তী বছরে কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য প্রস’ত হয়ে যাবে মাতারবাড়ি এমনটিই আশা করা হচ্ছে। এখানে ১৬ মিটার ড্রাফটের ২৫০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। এই বন্দর নির্মাণ করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থায়ন করতে হবে না। কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের অধীনেই সব কাজ হবে। এই বন্দরে একটি কনটেইনার ও একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল হবে। উভয় টার্মিনালে দুটি করে জেটি থাকবে।
উল্লেখ্য, প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার কয়লা বিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্পে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) দিচ্ছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ও বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ৭ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থায়নের আওতায় গভীর সমুদ্র বন্দরের জন্য জেটি নির্মাণ করা হচ্ছে। আপাতত সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা যাচ্ছে না বলে মাতারবাড়ি দিয়েই গভীর সমুদ্র বন্দরের সুবিধা পেতে যাচ্ছে দেশ।