বাঘ রক্ষায় বাস!

মোহাম্মদ আলী
বাঘ সুরক্ষার দাবিতে বাঘের আকৃতির বাসটি গতকাল চট্টগ্রামে আসে। ছবিটি জামালখান এলাকা থেকে তোলা-সুপ্রভাত
বাঘ সুরক্ষার দাবিতে বাঘের আকৃতির বাসটি গতকাল চট্টগ্রামে আসে। ছবিটি জামালখান এলাকা থেকে তোলা-সুপ্রভাত

বাঘ রক্ষায় বাঘরূপী বাস যাচ্ছে মানুষের কাছে। শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও বাস্তবেই ঘটছে এ ঘটনা। সেই বাঘরূপী বাসকে দেখে কিছুক্ষণের জন্য হলেও থমকে দাঁড়াচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত। কৌতুহলী হয়ে এক নজরের জন্য হলেও দেখে নিচ্ছে সেই বাঘরুপী বাসকে। এবার খোলাসা করেই বলি। বাঘ রক্ষায় মানুষকে সচেতন করতে ভিন্নধর্মী প্রচারণা শুরু করেছে বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। এ প্রচারণার অংশ হিসেবে বাঘের অস্তিত্ব ও বাঘ রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে বাঘরূপী বিশেষ আকৃতির বাস যাচ্ছে মানুষের কাছে। বাঘ আকৃতির এ বাসটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘টাইগার ক্যারাভান’। বাসটি তৈরি করা হয়েছে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আদলে। বাসটির সারা শরীরে ডোরাকাটা দাগ এবং সামনে হা করা বিরাট মুখ। তাতে দেখা যাচ্ছে পরাক্রমশালী বাঘের ভয়ঙ্কর দাঁত। পরাক্রমশালী হলেও এ বাঘের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। দাঁতের নিচে লেখা ‘স্ট্যান্ডস ফর টাইগার’। বাসের মুখের সামনে সাইনবোর্ডে লিখা ‘বাঘ আমাদের গর্ব, বাঘ সুরক্ষা করব’।
ইউএসএইড-এর অর্থায়নে ওয়াইল্ড টিমের তত্ত্বাবধানে ঢাকার স্পট লাইট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে সারাদেশে বাঘ সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ইউএসএইড-এর বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প। উপসি’ত লোকজন, ছাত্র-ছাত্রী ও পথচারীদেরকে অবাক করে সুন্দরবন ও বাঘ সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছে বাঘরূপী বাসে থাকা ১২-১৫ জনের একটি কর্মীবাহিনী।
কর্মীবাহিনীটির লিডার মোহাম্মদ দেওয়ান মামুন বলেন, ‘বিভিন্ন শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনাকীর্ণ জায়গায় যাচ্ছি আমরা। বাসটির ভিতরে তৈরি করা হয়েছে সুন্দরবনের আদলে একটি যাদুঘর। এতে রয়েছে সুন্দরবনের বাঘ, হরিণ, বানর, কুমিরের ম্যুরাল। রয়েছে প্লাস্টিকের তৈরি সুন্দরবনের নানা গাছপালা। এসব দেখে লোকজন সচেতন হচ্ছে এবং বাঘ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হচ্ছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে সুন্দরবন সম্পর্কে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করছি। বিজয়ীদের দেয়া হচ্ছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। এছাড়া কুইজ প্রতিযোগিতার আগে পথ নাটকও প্রদর্শন করছি।’
১১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম জেলাসহ বাঘরূপী বাসটি ইতিমধ্যে ভ্রমণ করেছে বাংলাদেশের ৪০টি জেলা। গতকাল শনিবার এটি গিয়েছিল হাটহাজারী উপজেলা পরিষদে। নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি বেছে নিয়েছিল জামাল খানের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে। গতকাল শনিবার দুপুর দুইটার দিকে দেখা যায় ডোরাকাটা বাঘরূপি একটি বাস দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যালয়টির সামনে। আশেপাশে ছাত্র-ছাত্রী ও উৎসুক জনতার ভিড়। খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হাসমত জাহান বলেন, ‘এ কাজটি শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। তারা কুইজের মাধ্যমে অনেক কিছু জানতে পারছে। যে বাঘ পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখে সেই বাঘ পরিবেশ থেকে লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে সে সম্পর্কও তারা জানতে পারছে।’
আজ রোববার বাসটি প্রচারণা চালাতে উপসি’ত হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও লালদিঘী ময়দানে। এছাড়াও ক্রমান্বয়ে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার হয়ে ঢাকায় আরো কিছু কাজ করে শেষ হবে এ প্রকল্পের মেয়াদ, জানালেন টিম লিডার মোহাম্মদ দেওয়ান মামুন। প্রচারণার সময় চট্টগ্রাম বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাথে ছিলেন বলে জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন