বাঘাইছড়ি ট্র্যাজেডি স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ির নয়মাইল এলাকায় নির্বাচনী দায়িত্ব শেষে ফেরার পথে গত সোমবার সন্ধ্যায় সন্ত্রাসীদের ব্রাশফারারে নিহত প্রিজাইডিং অফিসারসহ ৭ জনের মধ্যে ৬ জনের মরদেহ খাগড়াছড়ি হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাদের লাশ আনা হয় খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল মর্গে। এ সময় স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে হাসপাতালের
আশপাশ এলাকা। লাশ একনজর দেখতে হাসপাতালে ছুটে আসেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মো. আহমারউজ্জামানসহ প্রশাসনের উধ্বর্তন কর্মকর্তারা। এ সময় হাসপতালে ভর্তি করা হয় সাজেক থানার আহত দুই পুলিশ সদস্য ইউনুস আহম্মেদ ও আব্দুল আলীকেও।
বাঘাইছড়ি উপজেলায় সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত পোলিং অফিসার আল-আমিন, মো. আমির হোসেন, গ্রামপ্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য বিলকিস আক্তার, আনসার সদস্য মিহির কান্তি দত্ত, জাহানারা বেগম এবং গাড়ির হেলপার মন্টু চাকমার লাশ খাগড়াছড়ি হাসপাতাল মর্গে আনা হয়।
এছাড়াও প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল হান্নানের লাশ চট্টগ্রামে রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আরো ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে আরো ৭ জন। তারা চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার সময় তিনটি গাড়িতে প্রায় ২৪ জন দায়িত্বরত কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসার সদস্য ছিল বলে জানায় আহত পুলিশ সদস্যরা।
গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলার নয় কিলো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স’ানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিজক এলাকা থেকে ব্যালটপেপার বহনকারী গাড়ি নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল হান্নান আরবের নেতৃত্বে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে ফিরছিলেন। পথে নয় কিলো এলাকায় একদল দুর্বত্ত ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ব্যালট পেপার বহনকারী ৩টি গাড়ি লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।