বাকলিয়ায় ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক

পূর্ব বাকলিয়ায় এক ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে স্থানীয় এক সন্ত্রাসী। এনামুল হক মানিক নামে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে গতকাল বুধবার ভোরে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ অফিসের অদূরে গুলি করে স্থানীয় সন্ত্রাসী রমজান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মানিককে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশংকামুক্ত বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক মো. হামিদ। তবে সন্ত্রাসী রমজান মানিককে কেন হত্যার চেষ্টা করেছে তা জানাতে পারেনি পুলিশ।
পরিবার ও মানিকের বন্ধুদের দাবি, মানিক ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এলাকায় মাদক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় ক্ষুব্ধ সরকার দলীয় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মানিক পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অফিসে বসে টিভি দেখছিলেন। এসময় মানিককে খুঁজতে তার বাসায় যায় রমজান। সেখানে না পেয়ে সে ফোন করে মানিককে দেখা করতে বলে।
বুধবার ভোরে হেঁটে বাসায় ফেরার পথে মানিকের গতিরোধ করে রমজান। এসময় মানিকের কাঁধে এক হাত রেখে ‘তুই আমার বন্ধু। তোকে মেরে ফেলতে উপরের নির্দেশ আছে’ – এ কথা বলে রমজান মানিকের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করতে উদ্যত হয়। এসময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে বুকে না লেগে গুলিটি বিদ্ধ হয় মানিকের পেটে। গুরুতর আহত অবস্থায় নিজের মোবাইল থেকে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে গুলিবিদ্ধ মানিককে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়।
নগর ছাত্রলীগের একাধিক নেতার দাবি, মাদকের বিস্তার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক মানিক। আন্দোলনের মুখে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা অভিভাবকদের ফেরতও দিতে বাধ্য হয় স্থানীয় সানোয়ারা স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এ কারণে মানিকের উপর প্রচণ্ড ক্ষেপে যান সরকার দলীয় স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতা। কয়েকদিন আগে মান্নান ও সোলোমান নামে তার দুই অনুসারী মানিককে তাদের ‘নেতার’ কাছে গিয়ে ক্ষমাও চাইতে বলে। বাকলিয়া থানা পুলিশের এক কর্মকর্তাও ওই ‘নেতার’ কাছে গিয়ে বিষয়টি মিটমাট করে ফেলতে মানিককে পরামর্শ দিয়েছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তা মানিককে এও বলেছিলেন, ‘ক্ষমা চেয়ে আস, নইলে তোমার ক্ষতি হবে।’
কিন্তু ছাত্রলীগ নেতা মানিক অন্যায় দাবির কাছে মাথা নত করেননি। এরপর তার বিরুদ্ধে দায়ের হয় মিথ্যা মামলা। এর আগে মানিককে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে অভিযোগ দিলেও বাকলিয়া থানা পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
অবশেষে হুমকির বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হলো। গতকাল বুধবার ভোরে সন্ত্রাসী রমজান মানিককে গুলি করে হত্যা চেষ্টা চালায়।
বাকলিয়া থানার ওসি প্রণব চৌধুরী জানান, মানিককে হত্যাচেষ্টার জন্য তার পরিবার রমজান নামে স্থানীয় এক বখাটেকে দায়ী করছে। তবে রমজান কেন এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। রমজানকে ধরতে পারলে মানিককে হত্যাচেষ্টার রহস্য উদঘাটন হবে। মানিকের ওপর সরকার দলীয় স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতার ক্ষুব্ধ থাকার বিষয়টি নাকচ করে দেন বাকলিয়া থানার এ কর্মকর্তা।
এদিকে মানিককে গুলি করার ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত’ বলে দাবি করে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, ‘মাদক ও স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছিল মানিক। এ কারণে তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক শক্তি এ ঘটনা ঘটাতে পারে।’