চট্টগ্রাম একাডেমি মমতাজ সবুর সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ড. অনুপম সেন

বাংলা সাহিত্যে সেলিনা হোসেন অনন্যসাধারণ উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন তাঁর গল্প-উপন্যাসে সমাজ বাস্তবতাকে অত্যন্ত সুন্দর করে তুলে ধরেছেন। তাঁর হাঙর নদী গ্রেনেড একটি অসাধারণ উপন্যাস। এতে দেশের মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম সুনিপুণভাবে উঠে এসেছে। বাংলা সাহিত্যে সেলিনা হোসেন অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উজ্জ্বল থাকবেন। তিনি তরুণ প্রজন্মের জন্য লিখেছেন। এ জন্য আগামী প্রজন্মও তাঁকে মনে রাখবে।’
চট্টগ্রাম একাডেমি আয়োজিত চট্টগ্রাম একাডেমি মমতাজ সবুর সাহিত্য পুরস্কার প্রদান ২০১৯ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে একাডেমির চেয়ারম্যান ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে গতকাল আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যেরে মধ্যে বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ, ভাষাবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. মাহবুবুল হক, চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর রীতা দত্ত, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ড. আনোয়ারা আলম, মমতাজ সবুর কন্যা-মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তহুরীন সবুর ডালিয়া, কথাসাহিত্যিক-সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। সূচনা বক্তব্য দেন একাডেমি প্রতিষ্ঠাতা শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক রাশেদ রউফ। অনুভূতি ব্যক্ত করেন পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।
সেলিনা হোসেন বলেন, লেখকের কোন জেন্ডার নেই। সৃজনশীল জায়গাকে যারা পরিচর্যা করেন তাদেরকে মূল্যায়ন করতে হবে। মমতাজ সবুর একজন সাহিত্যিক ছিলেন। মাতৃভাষার জন্য সালাম, রফিক, জব্বারদের যে ভূমিকা ছিল ভাষা আন্দোলনে, সাহিত্যিক মমতাজের অবদানও কম নয়। তিনি মাতৃভাষার পক্ষে চেতনা ও মননশীলতা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। জীবনকে দান করা যেমন বড়, সাহিত্য ও সংস্কৃতির জায়গাকে জাগিয়ে রাখাও অনেক বড় কাজ। তিনি বলেন, পৃথিবীর আর দশটি ভাষা আপনি আয়ত্ব করেন তাতে কোন আপত্তি নেই, কিন’ নিজের ভাষাকে অবজ্ঞা করবেন না। নিজের মাতৃভাষাকে উপেক্ষা না করে সমুন্নত রেখে শিল্পসাহিত্যকে মর্যাদাশীল করতে হবে। আর এ কাজটি করেছেন মমতাজ সবুর। তার নামে প্রবর্তিত এ পুরস্কার মর্যাদাশীল একটি পুরস্কার। এখন যারা বাংলা একাডেমি পুরস্কারের জন্য আশা করে থাকেন তারা একদিন মমতাজ সবুর পুরস্কারের জন্য আকাঙ্ক্ষিত থাকবেন।
আইনবিদ হাসান আরিফ নতুন প্রজন্মেকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, কোনো ইনজেকশন, ট্যাবলেট দিয়ে বৃদ্ধিবৃত্তি, মনমানসিকতা উন্নত করা যায় না। এজন্য পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বেশি বেশি বই পাঠ করতে হবে। কেননা বইয়ের কোনো বিকল্প নেই।
ড. মাহবুবুল হক বলেন, সেলিনা হোসেন কেবল বড়দের নয়, শিশুদের জন্য গল্প উপন্যাস লিখেছেন। তিনি ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে সাহিত্য নির্মাণ করেছেন। তাঁর উপন্যাসে চিত্রিত হয়েছে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সংগ্রাম ও সমাজ চেতনা। তিনি কেবল নারী বা পুরুষ নন, মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর এ পুরস্কারপ্রাপ্তি চট্টগ্রামবাসীর জন্য গৌরবের।
প্রফেসর রীতা দত্ত বলেন, মমতাজ সবুর সৃষ্টিশীলতায় সাধনা করেছেন। জীবনঘনিষ্ঠ সাহিত্য রচনা করেছেন। তেমনি সেলিনা হোসেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন লেখিকা । তার লেখায় সমাজবাস্তবতা, দেশপ্রেমসহ বিচিত্র প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে। তিনি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অনন্যসাধারণ এক ব্যক্তিত্ব।
ড. আনোয়ারা আলম বলেন, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন আমাদের চেতনার বাতিঘর। তিনি উভয় বাংলায় শুধু নন, সারা বিশ্বের গর্ব। তিনি কলম দিয়েই মানুষের মনকে জয় করেছেন।
অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন এ এফ হাসান আরিফ। ক্রেস্ট, সনদ ও সম্মাননার অর্থ তুলে দেন ড. অনুপম সেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন বাচিকশিল্পী আয়েশা হক শিমু।