বাংলা ব্যাকরণের সন্ধানে

এহসানুল কবির

বঙ্গমাতার সূতিতে ধ্বনিজন্মলাভের বহুকাল পরে বাংলাভাষা দৃশ্যরূপ পেতে শুরু করে। অমরসিংহ বিরচিত অমরকোষে কিছু শব্দ পাওয়া যায়। ভাস্কো দা গামার ভারত আগমনের পরে পোর্তুগীজ ব্যবসায়ী আর ক্যাথলিক মিশনারীগণ দেশীয় ভাষা শেখার তাগিদ অনুভব করেন। ফলতঃ বঙ্গদেশে আসা পোর্তুগীজ পাত্রীরা খ্রীষ্টধর্ম প্রচারের নিমিত্ত লোকমুখ থেকে বাংলা ভাষা শিখে শিখে কৃপার শাস্ত্র তথা বাইবেল অনুবাদের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ঢাকার কাছে ভাওয়ালের নাগরীতে এসে পাদ্রি মানুএল দা আসুম্পসাওঁ বাংলা শেখেন এবং ওখানেই বসে বসে প্রথম বাংলা শব্দকোষ ও ব্যাকরণগ্রন্থ রচনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলা ব্যাকরণ ক্রমে দৃশ্যমান হচ্ছে।
আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে ওই ব্যাকরণগ্রন্থের সন্ধান পান, স্বভাবতঃই এর ঐতিহাসিক ও ভাষাতাত্ত্বিক গুরুত্ব অনুধাবন এবং উত্তরসূরীদের জন্য প্রয়োজনীয় দিক্‌?নির্দেশনা প্রণয়ন ও প্রকাশ করেন। সেসব নির্দেশনা অনুসরণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মনসুর মুসা, সাঈদ-উর-রহমান, আহমদ কবির ও ওয়াকিল আহমদ এখন থেকে তিন যুগ আগে নাগরীর গীর্জা-সংলগ্ন পাদ্রী আসুম্পসাওঁয়ের কর্মস্থলটি দেখতে যান।
২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৫ তারিখ শুক্রবার সাভারস্থ গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্বের শিক্ষক মনসুর মুসার নির্দেশনা ও প্রণোদনায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্প্যানিশ ভাষার শিক্ষক রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী ওরফে তিতাস ভাইয়ের আন্তরিক প্রযোজনায় বাংলা ব্যাকরণের এই তীর্থ দর্শনের যে বিরল সৌভাগ্যলাভের সুযোগ বর্তমান লেখকের ঘট্তেতার কিছু দৃশ্যপ্রসাদ নিবেদন করছি।