বাংলা ‘নববর্ষ’ বরণে কক্সবাজারে বর্ণিল প্রস’তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে সৈকত নগরী কক্সবাজারে বর্ণিল প্রস’তি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসনসহ নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এ উপলড়্গে জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে লেগেছে রং তুলির আঁচড়।
ইতোমধ্যে বাঙালির নানা ঐতিহ্যবাহী আলপনায় সাজানো হয়েছে হোটেল মোটেল জোনের তারকামানের হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলগুলো। অনেক হোটেল ঘোষণা করেছে অতিথিদের জন্য সাশ্রয়ী নানান প্যাকেজ। বৈশাখ বরণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বের করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা।
বৈশাখের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত লোকসমাগম হবে এমন মনে করে বাড়ানো হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। নিরাপত্তা বলয়কে তিনসত্মরে ভাগ করে ইতোমধ্যে নিরাপত্তা প্রক্রিয়া শেষ করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস’া।
পর্যটন সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন, সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে নববর্ষ মিলিয়ে তিন দিনের ছুটি পড়েছে। তাই এ কারণে অন্যবারের চেয়ে জমবে

বাংলা বর্ষবরণ। ইতোমধ্যে বাংলা বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে ভিড় করেছেন প্রচুর সংখ্যক পর্যটক। তাই অনেক আগে থেকেই তারকা হোটেলসহ গেস্ট হাউস ও কটেজ এবং আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
অনেক ব্যবসায়ী ও চাকুরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বৃহস্পতিবার কক্সবাজার এসে পৌঁছেছেন। চৈত্রের কাঠফাটা রোদের মাঝেও সমুদ্রের ঢেউয়ের আচড় ছুঁয়ে আনন্দ উপভোগ করছেন আগত পর্যটকরা।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক)’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম কিবরিয়া বলেন, বর্ষ হিসেবে এখন পর্যটন মৌসুম শেষ। এ সময়ে চৈত্র-বৈশাখের দাবদাহে কক্সবাজারে পর্যটক সমাগম কমই থাকে। কিন’ ২০১৭ সালের শেষ সময় হতে এখন পুরো বছর কক্সবাজারে কমবেশি পর্যটকের উপসি’তি লড়্গ্য করা যায়।
তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস’র পরিচালক আবদুল কাদের মিশু জানান, ওশান প্যারাডাইস হোটেলই কক্সবাজারে বেসরকারিভাবে সর্বপ্রথম বাংলা নববর্ষ নিয়ে পৃথক অনুষ্ঠানের সূচনা করেছিল। অর্ধযুগ আগের সেই ধারাবাহিকতায় এবারও আগের চেয়ে আলাদা আয়োজন থাকছে। অন্য বছরের মতো, পহেলা বৈশাখের পরিবর্তে চৈত্র সংক্রানিত্মর দিন থেকে ২রা বৈশাখ তিনদিন বৈশাখী মেলার আয়োজন থাকছে।
আরেক তারকা হোটেল সায়মন বিচ রিসোর্টের ফুডস্ অ্যান্ড বেভারেজ (এফ অ্যান্ড বি) ব্যবস’াপক ইমরান হোসেন বলেন, বিগত বছরগুলোর মতো বাংলা নববর্ষ বরণ উপলড়্গে এবারও হোটেল প্রাঙ্গণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকছে। সাশ্রয়ী রেটে ছাড়া হচ্ছে বৈশাখী খাবারের বিশেষ আয়োজন।
এ ছাড়াও পৃথক আয়োজন করছে তারকা হোটেল কক্স-টু-ডে, সি-গাল, লংবিচ, বেস্ট ওয়েস্টার্ন, মারমেডসহ সবকটি বড় হোটেল-মোটেলে। তারকা হোটেলগুলো ইনডোরে নিজেদের মতো উৎসব আয়োজন করলেও অন্যান্য হোটেল গেস্ট হাউসগুলো প্রশাসন আয়োজিত র্যালি ও অনুষ্ঠানে যোগ দেবে বলে জানিয়েছে সংশিস্নষ্ট সূত্র।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, শহরের আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস, কটেজ ও সরকারি রেস্ট হাউসে লড়্গাধিক মানুষের রাত যাপনের সুবিধা রয়েছে। বৈশাখী ছুটিতেও কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড় থাকবে বলে আশা করা যায়। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও সেন্টমার্টিন, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ও মহেশখালীর আদিনাথে পর্যটকদের পদচারণা পড়বে বলে আশা করছেন এ হোটেল মালিক।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, পর্যটন সম্ভাবনাময় শিল্প। পর্যটন বিকাশে বৈশাখের বৈচিত্র্যময় আয়োজন এবারও থাকছে কক্সবাজারে। জেলা প্রশাসন বৈশাখ বরণে সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করবে। এরপর শহীদ দৌলত ময়দানে আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এ আয়োজনে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।