বাংলা কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ

হামীম রায়হান

মুক্তির জন্যে যে যুদ্ধ তাই মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তি শব্দটির সঠিক অর্থ নির্ণয় করা সত্যিই এক দুরূহ ব্যাপার। এই মুক্তি শুধু একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার মুক্তি নয়। এই মুক্তি দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি সহ সকল দিকের মুক্তিকেই বুঝায়।
১৯৭৪ সালে দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দুটি দেশের জন্ম হয় ভারত, পাকিস্তান। মাঝখানে ভারত আর দু’পাশে পাকিস্তান। একটি পূর্ব পাকিস্তান আর অন্যটি পশ্চিম পাকিস্তান। মূলত ধর্মের ভিত্তিতে এই দেশগুলো ভাগ করা হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ যে উদ্দেশ্য নিয়ে “লড়কে লে আয়েঙ্গে পাকিস্তান” স্লোগান দিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেছিল, তাঁদের সে উদ্দেশ্য, স্বপ্ন কখনোই অঙ্কুরিত হয়নি। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্মম অত্যাচার, অনাচার এবং পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণের মনোভাব এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। মানুষের ক্ষোভ দাবানলের লাভার মতো বেরিয়ে আসার মুখ খুঁজছিল। যার ফলস্বরূপ আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদাররা পূর্ব পাকিস্তানের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ মানুষের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। জন্ম হয় নতুন স্বাধীন একটি রাষ্ট্র বাংলাদেশ। ১৯৪৮ সালে যখন পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা মূলত তখন থেকেই বাঙালির মানসপটে স্বাধীনতার স্বপ্ন দানা বাঁধতে শুরু করে।
সাম্রাজ্যবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থেকেছেন কবি সাহিত্যিকরা। তাঁরা তাঁদের লেখনির মাধ্যমে সমাজকে সচেতন করার প্রয়াস পেয়েছিলেন। ৫২’র ভাষা আন্দোলনের পর বাংলা সাহিত্যের সর্বক্ষেত্রে এক নতুন ধারার সূচনা ঘটে। বিশেষ করে বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে এর প্রভাব চোখে পড়ার মতো। তখন থেকেই পাকিস্তানি সম্রাজ্যবিরোধী সকল কর্মকাণ্ডে কবিতা এক নতুন প্রেরণা নিয়ে এগিয়ে এসেছিল।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়েছিল বাংলার সর্বস্তরের মানুষ। কবিরাও সেই ডাকে সাড়া দিয়েছেন। তাঁরা তাঁদের কবিতায় নিয়ে এসেছেন সেই যুদ্ধের কথা। ভয়াবহ দিনগুলি তাঁদের কবিতায় চিরন্তন সত্য হয়ে আছে। এই মুক্তিযুদ্ধ বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে এক নবযুগের সৃষ্টি করে। জসীম উদ্দীন, সুফিয়া কামাল, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, শামসুর রাহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, আল মাহমুদ, শহীদ কাদরী, সিকদার আমিনুল হক, রফিক আজাদ, আবদুল মান্নান সৈয়দ, আসাদ চৌধুরী, মোহাম্মদ রফিক, মহাদেব সাহা, নির্মলেন্দু গুণ, মুহাম্মদ নুরুল হুদা, আবুল হাসান, রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ, হুমায়ূন আজাদ, অসীম সাহা, সাজ্জাদ কাদির, দাউদ হায়দার, হাবীবুল্লাহ সিরাজী সহ অসংখ্য কবিদের কবিতায় উঠে এসেছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব চিত্র।
“কী যে কী হইল পশ্চিম হতে/ নরঘাতকেরা আসি/
সারা গাঁও ভরি আগুনে/ জ্বালায়ে হাসিল অট্টহাসি/
মা’র কোল থেকে শিশুরে/ কাড়িয়া কাটিল যে খান খান,
পিতার সামনে শিশুরে কাটিল,/ করি রক্ত স্নান।”
এভাবেই মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যা, অত্যাচারের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন জসীম উদ্দীন তাঁর ‘দগ্ধগ্রাম’ কবিতায়। পরে তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নামেও আরেকটি কবিতা লেখেন। ‘মাগো ওরা বলে’ কবিতায় আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ এঁকেছেন এক মায়ের চিত্র। যে তার যুদ্ধে যাওয়া সন্তানের পথ চেয়ে বসে আছে। মায়ের আত্মবিলাপ ও অপেক্ষার তীব্র আকুতি চিত্রায়িত হয়েছে এই কবিতায়।
“কুমড়ো ফুলে ফুলে-
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি,
খোকা তুই কবে আসবি? কবে ছুটি?
চিঠিটা তার পকেটে ছিল,
ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা।”
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কবিতার এই মা যেন হয়ে উঠেছেন সকল বাংলা জননীয় সার্থক প্রতীক। এভাবেই কবিরা শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সকল মানুষকে জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। তাই তো বিশ্বকবিতায়ও স্থান পেয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা। যার ফলশ্রুতিতে মার্কিন কবি অ্যালান গ্রিন্সবার্গ “যশোর রোড অন সেপ্টেম্বর” কবিতায় যুদ্ধকালীন বাঙালির দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।
“শত শত চোখ আকাশটা দেখে,
শত শত মানুষের দল,
যশোর রোডের দুধারে বসত
বাঁশের ছাউনি কাদামাটি জল।
কাদামাটি মাখা মানুষের দল।
গাদাগাদি করে আকাশটা দেখে,
্ত্ত্ত্ত্ত্ত্ত্ত্ত্ত্ত্ত্ত
এত মরা মুখ আধমরা পায়ে
পূর্ব বাংলা কোলকাতা চলে।”
স্বাধীনতা কেমন? এমন এক প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন কবি শামসুর রাহমান। তাঁর কালজয়ী ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতাটিতে। এ কবিতার প্রসঙ্গে কবি শামসুর রাহমান বলেছিলেন- ১৯৭১ সালে এপ্রিলে পত্রিকায় একটি ছবি দেখি। এক লোক রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় শুয়ে আছে। আর নিজের রক্ত দিয়ে স্লোগান লিখেছে স্বদেশের পক্ষে। তাকে আমার স্বাধীনতার নকীব মনে হল। সেই দুপুরে নিজ গ্রাম পাহাড়তলীর পুকুর পাড়ে বসে লিখে ফেললাম “স্বাধীনতা তুমি” ও “তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা” কবিতা দুটি।
“স্বাধীনতা তুমি
কাল বৈশাখীর দিগন্তজোড়া মত্ত ঝাপটা
স্বাধীনতা তুমি
শ্রাবণের অকূল মেঘনার বুক
স্বাধীনতা তুমি
পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন।
স্বাধীনতা তুমি
বোনের হাতের নম্র পাতার মেহেদীর রঙ।”
স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলা কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ এসেছে বিশাল এলাকাজুড়ে। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি, যুদ্ধ প্রস্তুতি, পাক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, অবরুদ্ধ অবস্থা, নির্যাতন, রাজাকারদের অত্যাচার ইত্যাদি প্রায় সব বিষয় নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক কবিতা। সিকানদার আবু জাফর তাঁর কবিতা “বাংলা ছাড়ো” তে বলেছেন।
“তুমি আমার বাতাস থেকে মোছো তোমার ধুলো
তুমি বাংলা ছাড়ো।

আমার প্রীতি, তোমার প্রতারণা
যোগ বিয়োগ মিলিয়ে নিলে
তোমার লাভের জটিল অংকগুলো,
আমার কেবল হাড় জুড়ালো হতশ্বাসের ধুলো।”
এখানে পাওয়া যায় আমাদের প্রতি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মনোভাবের বাস্তব চিত্র।
মুক্তিযুদ্ধের কবিতাগুলো নয় মাসের প্রতিটি ঘটনাপ্রবাহকে ধরতে পেরেছে সার্থকভাবে। তাই কবিতাগুলো হয়ে উঠেছে অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের পরিচায়ক। ফলে মানবাধিকার অন্বেষণ ও মানবতা প্রতিষ্ঠাই ছিল কাব্যের লক্ষণ।
তাই তো কবি শামসুর রহমানের ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’ কবিতায় দেখা যায়।
“তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
তোমাকে পাওয়ার জন্যে,
আর কত বার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কত বার দেখতে হবে খাণ্ডব দাহন?
তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা।
সকিনা বিবির কপাল ভাঙলো।
সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল হারিদাসীর।”
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল এক ধারাবাহিক আন্দোলনের চরম পর্যায়। এই আন্দোলনের প্রবল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ। ঐতিহাসিক ভাষণের ঘটনার পটভূমিতে কবি নির্মলেন্দু গুণ “স্বাধীনতা এই শব্দটি আমাদের কিভাবে হলো” কবিতা রচনা করেন।
“হৃদয়ে লাগিল দোলা,
জনসমুদ্রে জাগিলো জোয়ার সকল দুয়ার খোলা।
কে রোধে তাহার বজ্রকণ্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর-
অমর কবিতাখানি:
এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
কবি হুমায়ূন কবির তাঁর ‘কারবালা’ কবিতায় বাংলাদেশকে কারবালার সাথে তুলনা করেছেন।
“কারবালা হয়ে যায় সমস্ত বাংলাদেশ
হায়,
কারবালা হয়ে যায়।”
কবি রফিক আজাদের “একজন মুক্তিযোদ্ধার আত্মসমর্পণ” কবিতায় বীরোচিত মনোভাবের কথা প্রকাশ পেরেছে।
“তোমার মুখে হাসি ফোটাতে
দামি অলঙ্কারে সাজাতে
ভীরু কাপুরুষ তোমার প্রেমিক
এই আমাকে
ধরতে হল শক্ত হাতে মটার, মেশিনগান
শত্রুর বাংকারে, ছাউনিতে ছুড়তে হল গ্রেনেড,
আমার লোভ আমাকে কাপুরুষ হতে দেয়নি।”
মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছে। হারিয়েছে কত স্বজন, মা, বাবা, ভাই, বোন, এই দুঃখের কথাগুলো আবুল হাসানের কবিতায় পাওয়া যায়।
“তবে কি আমার ভাই আজ এই স্বাধীন পতাকা?
তবে কি আমার বোন তিমিরের বেদিতে উৎসব?”
হুমায়ূন আজাদ তাঁর ‘মুক্তিবাহিনীর জন্য’ কবিতার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি মানুষের আশা ও প্রত্যাশার কথা উচ্চারণ করেছেন এভাবে-
“তোমার পায়ের শব্দে বাংলাদেশে ঘনায় ফাল্গুন
আর ৫৫ হাজার বর্গমাইলের এই বিধ্বস্ত বাগানে
এক সুরে গান গেয়ে ওঠে সাত কোটি বিপন্ন কোকিল।”
অসীম সাহা তাঁর কবিতায় বলেন-
“এই যুদ্ধ ন্যায়মুগ্ধ, সকলেই তৈরি হয়ে নাও।”
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতায় স্বজন হারানোর ব্যথায় আকুতি অনুভবের প্রতিফলন ঘটে-
“রক্তের কাফনে মোড়া কুকুরে খেয়েছে যারে,
শকুনে খেয়েছে যারে, আমার ভাই,
সে আমার মা, সে আমার প্রিয়তম পিতা।”
শহীদ কাদরী স্বাধীনতা শব্দটির গুরুত্ব বুঝিয়ে লিখেছেন-
“মধ্যদুপুরে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে, একটা তন্ময় বালক
কাচ, লোহা, টুকরা ইট, বিদীর্ণ কড়ি-কাঠ
একফালি টিন,
ছেঁড়া চট, জং ধরা পেরেক জড়ো করলো এক নিপুণ।
ঐন্দ্রজালিকের মতো যতো
এবং অসতর্ক হাতে কারফিউ শুরু হওয়ার আগেই
প্রায় অন্যমনস্কভাবে তৈরি করলো কয়েকটা অক্ষর
স্বা-ধী-ন-তা।”
কবি আল মাহমুদ বুদ্ধদেব বসুর সাথে কথোপকথনে নিয়ে এসেছেন মুক্তিযুদ্ধে প্রায় এক কোটি মানুষ উদ্বাস্তু হওয়ার চিত্র।
“১৯৭১ সালে
আমি পালিয়ে এসেছি আমার দেশ থেকে।
আমার স্ত্রী কোথায়, আমি জানি না,
আমার বন্ধুরা আছে কি নেই,
বেতারে সেই উদ্বেগ উচ্চারিত হচ্ছে।”
এভাবে তৎকালীন প্রায় প্রত্যেক কবির কবিতায় উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের কথা, বিভিন্ন চিত্র। হাসান হাফিজুর রহমানের কবিতা সংকলন “যখন উদ্যত সঙ্গীত’, ডা. মনিরুজ্জামানের ‘শহীদ স্মরণে’, অসীম সাহার ‘পৃথিবীর সবচেয়ে মর্মঘাতী রক্তপাত’, আবুল হাসানের ‘উচ্চারণগুলি শোকের’, আসাদ চৌধুরীর ‘রিপোর্ট ১৯৭১’, হেলাল হাফিজের ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’, মহাদেব সাহার ‘ফারুকের মুখ’, মিনার মনসুরের ‘কী জবাব দেব’, আবিদ আজাদের ‘এখন যে কবিতাটি লিখব আমি’, দাউদ হায়দারের ‘বাংলাদেশ’ সহ অসংখ্য কবিতায় এর প্রমাণ পাই।
মুক্তিযুদ্ধ এদেশের প্রতিটি মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। সেদিক থেকে বলতে গেলে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মহাকাব্য এখনও রচিত হয়নি। যদিও যুদ্ধবিধ্বস্ত দুঃস্বপ্ন সাহস ও বিক্রমের নতুন মাত্রার শিল্পিত বিবরণ। গৌরব ও আত্মদান, যুদ্ধ বিজয়ের বহুমুখী বর্ণনা প্রকাশিত হয়েছে কবিতায়।
এর ফলে বাংলাদেশের কবিতা পেয়েছে এক নতুন পথের দিশা। আরো একদিকে মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের কবিতায় নতুনমাত্রা এনেছে। একাত্তরের আগে কবি ছিলেন আত্মমগ্ন, ব্যক্তি অনুভবের বাণী বাহক। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ কবির আসন থেকে সরিয়ে এনেছে জনগণের কাতারে। তাঁকে করেছে সমগ্র জনগণের দুঃখ, কষ্ট, আশা-প্রত্যাশার সাথে সম্পৃক্ত, বলা যায় নয় মাসের জীবন ও মৃত্যুর সার্বক্ষণিক দেখা দেয় উপলব্ধিতে। শিল্প-সাহিত্যে এক নতুন ভাবনার প্রকাশ ঘটে। বস্তুত মুক্তিযুদ্ধের কবিতা শুধুমাত্র তৎকালীন সঙ্কট ও প্রত্যয়কে তুলে ধরেনি তা কাব্যধারায় নব মূল্যবোধকেও সঞ্চারিত করেছে। আর এসব মহা সত্যে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা কবিতা।