বাংলাদেশের মেয়েদের বিদায়

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক

প্রথমার্ধে তিন গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। শক্তিশালী ভারতের কাছে হেরে মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ চার থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। নেপালের বিরাটনগরের শহীদ রঙ্গসালা স্টেডিয়ামে বুধবার দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ৪-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। গতবার ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেই রানার্সআপ হয়েছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। আগামী শুক্রবার ফাইনালে ভারত খেলবে নেপালের সঙ্গে। বুধবার প্রথম সেমি-ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৪-০ গোলে হারায় স্বাগতিকরা। খবর বিডিনিউজ’র।
সাবিনা, কৃষ্ণা, সানজিদা ও স্বপ্না-এই চার ফরোয়ার্ড নিয়ে নামা বাংলাদেশের শুরম্নটা ছিল দারম্নণ। বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল দলের। দশম মিনিট পর প্রথম কর্নার পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি দল।
পঞ্চদশ মিনিটে বাংলাদেশের পোস্টে প্রথম শট নেয় ভারত। দালিমা চিব্বারের ফ্রি কিক ওপরের জাল কাঁপায়। তিন মিনিট পর গোল করে চাপ থেকে বেরিয়ে আসে শিরোপাধারীরা। সাঞ্জু যাদবের কর্নারে রম্নপনা লাফিয়ে উঠে বলে গ্রিপে নিতে ব্যর্থ হলে দালিমা আলতো টোকায় জালে জড়িয়ে দেন। ২১তম মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে বল পেয়ে কৃষ্ণা ও স্বপ্না কেউই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। কৃষ্ণা ডিফেন্ডারের গায়ে শট নেওয়ার পর স্বপ্না দুর্বল শটে হতাশ করেন।
প্রতিপড়্গের গতির সঙ্গে পেরে না ওঠা বাংলাদেশ পরের দুই গোল হজম করে প্রতিআক্রমণ থেকে। ২২তম মিনিটে নিজেদের ডি-বক্সের একটু ওপর থেকে লম্বা করে বাড়ানো বল সাঞ্জু নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ডানে থাকা ইন্দুমাতিকে বাড়ান; রড়্গণে থাকা একমাত্র ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের করার কিছু ছিল না। অনায়াসেই লড়্গ্যভেদ করেন ইন্দুমাতি।
২৮তম মিনিটে সাঞ্জুর কাছের পোস্টে নেওয়া শট ফেরান রম্নপনা। চার মিনিট পর ডি-বক্সের ওপর থেকে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাবিনার দুর্বল শট গোলরড়্গকের গ্লাভসে জমে যায়। ৩২তম মিনিটে সান্দিয়ার নিচু ক্রসে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রম্নপনাকে একা পেয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন ইন্দুমাতি। এরপর মারিয়ার ফ্রি কিকে আঁখি খাতুনের হেড প্রতিপড়্গের এক খেলোয়াড় হেডে বিপদমুক্ত করলে প্রথমার্ধে ম্যাচে ফেরা গোল পাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। ৬৪তম মিনিটে কৃষ্ণাকে তুলে নিয়ে মার্জিয়াকে নামান বাংলাদেশ কোচ। এরপর সানজিদা ও শিউলিকে তুলে নিয়ে মিশরাত জাহান মৌসুমী ও নিলুফা ইয়াসমিন নীলাকে নামান রব্বানী। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মুঠোয় নেওয়া ভারত পরের সময়টুকু লং বলে খেলে বাংলাদেশের রড়্গণে ভীতি ছড়াতে থাকে। ৮২তম মিনিটে মনিকার লম্বার করে বাড়ানো বল ভারতের গোলরড়্গকের মুঠো ফসকে পেয়ে যান মার্জিয়া কিন’ তালগোল পাকিয়ে ব্যবধান কমাতে পারেননি তিনি। উল্টো যোগ করা সময়ে মনীষা বাংলাদেশের কফিনে ঠুকে দেন শেষ পেরেকটি। সাফের পরিসংখ্যানে অজেয় যাত্রা ধরে রাখল ভারত।
আগের ২১ ম্যাচে ২০টিতে জয়। ড্র মাত্র একটি; সেটি ২০১৬ সালের সাফে বাংলাদেশের বিপড়্গে গ্রম্নপ পর্বের ম্যাচে। সাফ, অলিম্পিক বাছাই, এসএ গেমস মিলিয়ে এ নিয়ে ১০ ম্যাচে নয়বার ভারতের কাছে হারল বাংলাদেশ। এক জয় ও দুই হার দিয়ে সাফের পঞ্চম আসর শেষ করল বাংলাদেশ। ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুরম্ন করা দল গ্রম্নপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল।