বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীদের কাজ দেখে মুগ্ধ নেপালিরা

আজিজুল কদির, কাঠমান্ডু থেকে

শনিবার নেপালে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তাই দিনটিতে শিল্প-সংস্কৃতিপ্রিয় নেপালিরা বিনোদনের স্বাদ নিতে ছুটে বেড়ায় শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। আর সেই অভ্যাসের তাড়নায় কাল কাঠমান্ডুর ভ্রুকুটিমণ্ডপ এক্সিভিশন হলে এসে বাংলাদেশি শিল্পীদের শিল্পকর্ম দেখে মুগ্ধ হতে দেখা গেছে অনেককে। প্রদর্শিত শিল্পকর্মের মূল বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের মানুষ ও তার পরিপার্শ্ব’। চলমান জীবন ও জড়জীবন রং, ফর্ম, বিন্যাসে, উপস’াপনায় ছিল বাস্তবধমী। রঙের নানাবিধ ব্যবহারে বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলার রূপ ফুটে ওঠে শিল্পীদের কাজে। তাদের মধ্যে শিল্পী আহমেদ নেওয়াজ, শিল্পী আবেশ কুমার ইন্দু, শিল্পী ফারজানা নন্দিনীর ক্যানভাসে মুগ্ধ হন সংস্কৃতিপ্রেমীরা। আবার এই ভুবনে বর্ণ ও আলোর নৃত্য, রঙের নিনাদ, বসন্তের পূর্বাভাস, স্বপ্ন ও প্রকৃতির ব্যঞ্জনা ধরা পড়েছে শিল্পী শাহ মঈনুল ইসলাম, শিল্পী বিশ্বনাথ দাশ, শিল্পী মোসলেহ উদ্দিন খান নিজামের শিল্পকর্মে। আবার জীবনের অনুষঙ্গ, মুগ্ধতাবোধ, কল্পলোকের জগত রূপায়ণে সচেষ্ট ছিলেন শিল্পী উত্তম কুমার তালুকদার, শিল্পী মো. আব্দুল মতিন, শিল্পী স্বপন কান্তি আচার্য, শিল্পী ইসমাঈল চৌধুরী, শিল্পী টিএমএম মোদাচ্ছের চৌধুরী। অন্যদিকে কল্পনা ও বাস্তবতা, জীবন ও সৃজনশীলতার সুসংহত ঐক্য মেলে শিল্পী আফরোজা খন্দকার, শিল্পী মো. তওফিকুর রহমান, শিল্পী সাইকা পারভীন মিলির ক্যানভাসে। পটভূমিতে মেটাল সমন্বয় ঘটিয়ে শিল্পরচনায় সচেষ্ট ছিলেন শিল্পী মাসুদা আহমেদ সাথী। সাথী নিসর্গ ও বাস্তবতার পরিশীলিত রসবোধ প্রকাশে নিবিষ্ট ছিলেন। আবার শৈশব সারল্য রূপায়ণে নস্টালজিক ছিলেন শিল্পী সাইফুল ইসলাম। শিল্পী মাহফুজা বিউটির শিশির ভেজা পদ্মফুলগুলো যেন নান্দনিক চেতনার স্বাভাবিক এক ঐক্য। নান্দনিক ঐক্যের অভিপ্রায়
সংগোপনে কাজ করেছে শিল্পী গোলাম সরওয়ার, শিল্পী সংগীতা বড়-য়া, শিল্পী প্রশান্ত সাহা, শিল্পী মনিরা বেগম লিপির শিল্পকর্মেও। এই দলের মধ্যে দেশের প্রতি প্রগাঢ় ভালবাসায় ছোয়াঁ আছে। অন্যভাষার দর্শকদের এতটুকু বুঝে নিতে অসুবিধা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে প্রদর্শনীতে ঘুরতে আসা নেপালের সুপরিচিত মিথিলা ইয়ান আর্ট গ্যালারির কিউরেটর শিল্পী শ্যামসুন্দর যাদবের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্পচর্চা অনেক দূর এগিয়েছে। সেই সাথে ক্যানভাসে শিল্পীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা অনবদ্য। যা একটা দেশকে উপস’াপন করে আত্মপরিচয়ে
নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফী বিনতে শামস প্রদর্শনী দেখতে এসে ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের শিল্পসংস্কৃতি নেপালে তুলতে ধরে সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করতে চাই। রাষ্ট্রদূত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ হাউজে শিল্পীদের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়েজন করেন।
কাঠমান্ডুতে ৪র্থ বাংলাদেশ এক্সপো ২০১৮ তে শুরু হওয়া বাংলাদেশি শিল্পীদের শিল্পকর্ম দেখতে দর্শকদের ভিড় ছিল বেশ। মূলত আগত দর্শকেরা বাংলাদেশের শিল্পীদের কাজের মাধ্যমে ইতিহাস ও সংস্কৃতি জানতে চেষ্টা করেছেন ।
বাংলাদেশের নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ আর্টিস্ট গ্রুপ। এটি একটি নবীন সংগঠন। এতে বাংলাদেশের ২৪জন শিল্পীর ৭০টি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কাঠমান্ডুর ভ্রুকুটিমণ্ডপ এক্সিভিশন হলে ৫ দিনব্যাপি বাংলাদেশি পণ্যের এই মেলা ও চিত্রপ্রদর্শনী চলবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।