বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক
DUNEDIN, NEW ZEALAND - FEBRUARY 20: Sabbir Rahman Roman of Bangladesh bats during Game 3 of the One Day International series between New Zealand and Bangladesh at University Oval on February 20, 2019 in Dunedin, New Zealand. (Photo by Dianne Manson/Getty Images)

ছবির মতো সুন্দর ইউনিভার্সিটি ওভাল। সেই মাঠেই ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের অসুন্দর আঁকিবুঁকি। বোলিংয়ের ভালো শুরু পরে ঢেকে গেল কালোতে। ব্যাটিং শুরু থেকেই বিষন্নতার প্রতিচ্ছবি। নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে প্রবল বিতর্কের জন্ম দিয়ে দলে ফেরানো সাব্বির রহমানের সেঞ্চুরি কিছুটা স্বস্তির হাওয়া ছড়াল বটে। তবে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর আশা আগেই মিলিয়ে গেল হাওয়ায়। নিউজিল্যান্ড হয়ে রইল বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নের ঠিকানা। ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করল নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় ওয়ানডেতে বুধবার ডানেডিনে কিউইরা জিতেছে ৮৮ রানে। খবর বিডিনিউজ’র।
আগের দুই ম্যাচেই ৮ উইকেটে জয়ী নিউজিল্যান্ড এবার আগে ব্যাটিং করে ৫০ ওভারে তোলে ৩৩০ রান। এই মাঠের সবশেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের ৩৩৫ রান তাড়ায় দুই ওপেনারকে শূন্য রানে হারানোর পরও জিতেছিল কিউইরা। অপরাজিত ১৮১ করেছিলেন রস টেইলর। এবার বাংলাদেশ ২ রানে হারাল ৩ উইকেট। পরে সেঞ্চুরি করলেন সাব্বির। তবে টেইলরের সেই সেঞ্চুরির সঙ্গে পার্থক্য থাকল অনেক, সাব্বির পেলেন না মিডল অর্ডারে যোগ্য সঙ্গও। বাংলাদেশ থমকে গেছে তাই ২৪২ রানে।
প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিতে ১০২ রান করে সাব্বির আউট হয়েছেন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে। প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে সুযোগ না পাওয়া টিম সাউদি ফিরেই নিয়েছেন ৬ উইকেট; রান যদিও খরচ করেছেন ৬৫। এ নিয়ে নিউজিল্যান্ডে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২৪ ম্যাচের সবকটি হারলো বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরুর প্রথমভাগে নিউজিল্যান্ডকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিল বাংলাদেশ। ২৫ ওভারে নিউজিল্যান্ডের রান ছিল ১২০। কিন’ পরের ২৫ ওভারে তুলেছে তারা ২১০ রান!
কেবল কলিন মানরো ছাড়া অবদান রেখেছেন দলের আর সবাই। ফিফটি করেছেন হেনরি নিকোলস, রস টেইলর ও টম ল্যাথাম। শেষ দিকে জিমি নিশাম ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম খেলেছেন ঝড়ো ইনিংস। ইনিংসের সর্বোচ্চ ৬৯ রানের পথে টেইলর উঠে গেছেন দেশের হয়ে ওয়ানডে রানের চূড়ায়।
বাংলাদেশের হয়ে সাইফ উদ্দিন ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং করেছেন নিয়ন্ত্রিত। মাশরাফি ভালো বোলিংয়ের ফাঁকে কিছু আলগা বলে দিয়েছেন রান। সবচেয়ে হতাশার ছিলেন দলের অন্যতম সেরা বোলার মুস্তাফিজ। ১০ ওভারে গুনেছেন ৯৩ রান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে আগে কখনোই দেননি ৬৩ রানের বেশি! কিউই ব্যাটসম্যানদের রানিং বিটুইন দা উইকেট ছিল দুর্দান্ত। বাংলাদেশের গ্রাউন্ড ফিল্ডিং ছিল কখনও গড়পড়তা, কখনও বাজে।
আগের দুই ম্যাচের তুলনায় বোলিংয়ের শুরুটা বাংলাদেশের ছিল ভালো। পঞ্চম ওভারে দলকে ব্রেক থ্রু নেন দেন মাশরাফি। কেন উইলিয়ামসনের বিশ্রামে সুযোগ পাওয়া মানরোকে ৮ রানে ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
মুস্তাফিজের এক ওভারে ছক্কা ও চার মারলেও মার্টিন গাপটিলকে ডানা মেলতে দেননি অন্য বোলাররা। আগের দুই ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান পরিসি’তি বুঝে খেলছিলেন রয়েসয়ে। তবে ৪০ বলে ২৯ করে আউট হয়ে যান শেকল ভাঙার চেষ্টায়। সাইফ উদ্দিনের বলে লং অনে অসাধারণ ক্যাচ নেন তামিম ইকবাল।
নিকোলস ও টেইলরের ব্যাটে সেই ধাক্কা সামল দেয় নিউজিল্যান্ড। দুজন শুরুতে এগিয়েছেন এক-দুই রানে। জুটির প্রথম ৭ ওভারে বাউন্ডারি ছিল কেবল ১টি। এরপর দুই ব্যাটসম্যানই বাড়ান রানের গতি।
৯৯ বলে ৯২ রানের এই জুটি ভাঙে নিকোলসের বিদায়ে। দ্বিতীয় স্পেলে ফেরা মেহেদী হাসান মিরাজ ফেরান ৭৪ বলে ৬৪ রান করা বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে।
পরের উইকেটেও নিউজিল্যান্ড পেয়ে যায় আরেকটি কার্যকর জুটি। সিরিজে প্রথমবার ব্যাটিং পাওয়া টম ল্যাথাম স্বচ্ছন্দে ছিলেন শুরু থেকেই। টেইলর পেরিয়ে যান একটির পর একটি মাইলফলক। দেশের মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে স্পর্শ করেন ৮ হাজার রান। পরে করেন ফিফটি।
খানিক পর স্টিভেন ফ্লেমিংকে ছাড়িয়ে হয়ে গেছেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রান স্কোরার। সাবেক অধিনায়ককে পেরিয়ে গেছেন টেইলর ৬৫ ইনিংস কম খেলেই! এরপর অবশ্য আর বেশিদূর এগোতে পারেননি টেইলর। ৮২ বলে ৬৯ করে আউট হয়েছেন রুবেলের বাউন্সারে।
সেই স্বস্তি দীর্ঘায়িত হয়নি খুব একটা। উইকেটে গিয়েই জিমি নিশাম দুটি ছক্কায় ওড়ান মাহমুদউল্লাহকে। রুবেলের এক ওভারে নিশামের দুই চার,ল্যাথামের দুই ছক্কায় আসে ২১ রান। মুস্তাফিজকে ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে নিশাম বোল্ড হয়েছেন ২৪ বলে ৩৭ করে। মুস্তাফিজের ফুল টসেই ৫১ বলে ৫৯ করে ধরা পড়েছেন ল্যাথাম।
তাতে নিউজিল্যান্ড ভুগতে হয়নি। প্রথম বলে ছক্কায় শুরু করেন ডি গ্র্যান্ডহোম, ইনিংস শেষে অপরাজিত ১৫ বলে ৩৭ রান করে। ৯ বলে অপরাজিত ১৬ মিচেল স্যান্টনার। শেষ ৮ ওভারে নিউজিল্যান্ড তোলে ১০১ রান। রান তাড়া শুরু হতে না হতেই বাংলাদেশের টপ অর্ডার হয়ে পড়ে বিধ্বস্ত। আগের দুই ম্যাচে বাইরে বসে থাকা টিম সাউদি শুরু করেন ধ্বংসযজ্ঞ।
ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বাইরে বেরিয়ে খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা তামিম ইকবাল। এই সিরিজে দেশের সফলতম ব্যাটসম্যানের রান ৫, ৫ ও ০। এক বল পর সাউদির সিম মুভমেন্টে ব্যাট-প্যাডের মাঝে বিশাল ফাঁক রেখে বোল্ড সৌম্য।
প্রথম ওভারে জোড়া ধাক্কার পর সাউদির পরের ওভারেই উইকেট আরেকটি। এবার শিকার লিটন দাস। তিন ম্যাচে এই ওপেনারের রান ১, ১ ও ১। ২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন দিশাহারা দল। মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ শুরুতে মন দিলেন উইকেট ধরে রাখায়। প্রথম ৫ ওভারে ব্যাট থেকে এসেছে স্রেফ ১ রান!
ট্রেন্ট বোল্টের এক ওভারে মুশফিকের তিন চারে ছিল জড়তা ভাঙার ইঙ্গিত। ১৩ বলে শূন্য থেকে মাহমুদউল্লাহ রানের দেখা পান ছক্কায়। কিন’ অভিজ্ঞ দুই ব্যাট এ দিনও দলকে দেখাতে পারেননি আশা।
ম্যাচের ফল নিয়ে আর সংশয় ছিল না। কেবল ছিল ব্যক্তিগত চাওয়া পূরণের পালা। যেটি দারুণভাবে করেছেন সাব্বির। ষষ্ঠ উইকেটে ১০১ রানের জুটিতে তাকে সঙ্গ দিয়েছেন সাইফ উদ্দিন। সাইফ ফিরেছেন ৪৪ রানে। পরে ৩৪ বলে ৩৭ রান করে সাব্বিরকে সাহস জুগিয়েছেন মিরাজ। ১০৫ বলে সাব্বির স্পর্শ করেন বহু কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি। ৮৮ রানে হেরে যাওয়া ম্যাচে অবশ্য একটি সেঞ্চুরিকে প্রাপ্তি বলা মুশকিল। যেমন কঠিন, এই সিরিজ থেকে সত্যিকার প্রাপ্তি কিছু খুঁজে পাওয়া