বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ মানছেন উইলিয়ামসন

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক

সীমিত ওভারের মতো টেস্টেও বাংলাদেশকে কঠিন প্রতিপক্ষ মনে করেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। প্রথম টেস্ট সামনে রেখে পরিষ্কার ফেভারিট হলেও প্রতিপক্ষকে সমীহর চোখে দেখছে স্বাগতিকরা। খবর বাংলানিউজ’র।
আজ দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে মুখোমুখি হবে দু’দল। ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভ গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় খেলা শুরু হবে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের ছয়টি ম্যাচ জিতলেও বাংলাদেশের দক্ষতায় সতর্ক উইলিয়ামসন, ‘নিশ্চিতভাবেই সাদা বলের ফরমেটে বাংলাদেশ প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের চাপে রেখেছিল। আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি এবং জয় পেয়েছি।’
মুমিনুল হক, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও উঠতি অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে পারে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। ২০১৩ সালের অক্টোবরে দু’দলের সবশেষ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি ড্র (০-০) হয়েছিল।
ওই সিরিজটিতে চট্টগ্রামে ১৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের পর ঢাকায় ১২৬ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন মুমিনুল। তামিম ও সাকিবের পারফরম্যান্সও ছিল উজ্জ্বল। আর গত বছর ইংল্যান্ড সিরিজ দিয়ে অভিষেকেই বিশ্ব ক্রিকেটে তারকাখ্যাতির জানান দেন মেহেদি হাসান মিরাজ। দুই ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হয়েছিলেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক এ অধিনায়ক।
প্রসঙ্গত, সবশেষ টেস্ট সিরিজটি দু’দলের দুর্দান্ত কেটেছে। গত নভেম্বরে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ (২-০) করেছিল কিউইরা। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ সমতায় দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ করে টাইগাররা।
সাদা পোশাকে বাংলাদেশের সামপ্রতিক উজ্জ্বল পারফরম্যান্সই প্রতিদ্বন্দ্িবতাপূর্ণ ম্যাচের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন’ ওয়েলিংটনের সবুজ ঘাসের উইকেটে সাকিব-তামিমদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে।
এর আগে এ মাঠে দু’টি ম্যাচ খেলে দু’বারই (২০০১ ও ২০০৮) ইনিংস ব্যবধানে হারের লজ্জায় পড়তে হয়েছিল। সব মিলিয়ে ১১ বারের সাক্ষাতে এক ম্যাচেও জয় পায়নি টাইগাররা (৩ ড্র ও ৮ হার)। সে যাই হোক, বদলে যাওয়া টিম বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প ভাবছে না। দু’দলের মধ্যকার ড্র হওয়া সবশেষ দু’টি টেস্ট থেকেও অনুপ্রেরণা নিতে পারে মুশফিকুর রহিমের দল।
দলগত পারফরম্যান্সও বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে। টেস্টে নিজেদের সবশেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে মাত্র দু’বার ২০ উইকেট পড়েছে। যেখানে চারটি ড্র ও চার ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। টানা ম্যাচ হারও ছিল না। যেটি অন্যতম ইতিবাচক দিক।
কিন’ বিদেশের মাটিতে ব্যর্থতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না বাংলাদেশ দল। ২০০৯ সালের পর অ্যাওয়ে সিরিজে শেষ দশটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র এক ম্যাচেই জয় এসেছে। আর নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে ৪২টি অ্যাওয়ে টেস্টের তিনটিতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে সক্ষম হয়। চলতি নিউল্যান্ড সফরেও নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার লড়াই করছে টাইগাররা। লংগার ফরমেটেও তা অব্যাহত থাকবে কিনা সেটিই এখন দেখার বিষয়!

আপনার মন্তব্য লিখুন