বন কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

বাঁশখালী ইকোপার্কে গাছ কাটার মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁশখালী

বাঁশখালী ইকোপার্ক এখন অরক্ষিত। চার্জবল করাত দিয়ে প্রকাশ্যে বনদস্যুরা কেটে নিচ্ছে সেগুন গাছ। পুরো সেগুন বাগানের অর্ধশতাধিক গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। গত ১২ দিন ধরে প্রকাশ্যে গাছ কাটা নিয়ে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী স’ানীয় ও উর্ধ্বতন বন কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে অভিযোগ করে আসলেও এখনও কারো বিরুদ্ধে মামলা করেননি বন কর্মকর্তারা। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বাঁশখালীতে থাকা বন কর্মকর্তা শেখ আনিছুজ্জামানের সাথে বনদস্যুরা আঁতাত করে ইকোপার্কের গাছ কাটছে। তার সাথে উর্ধ্বতন বন কর্মকর্তাদেরও যোগসাজস থাকায় বাঁশখালী ইকোপার্ক অরক্ষিত হয়ে উঠেছে। গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় ইকোপার্কের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দেখা গেছে বনদস্যুদের কাটা সেগুন গাছ পড়ে আছে। স’ানীয় মনছুরিয়া বাজার এলাকায় একটি স-মিলেও সেগুন গাছ মজুদ রয়েছে। এসব গাছ নিয়ে স’ানীয় গ্রামবাসী গত মঙ্গলবার বিভাগীয় বনকর্মকর্তার নির্দেশে তদন্তে করতে আসা চকরিয়া সাফারি পার্কের রেঞ্জার উত্তর কুমার পালকে অভিযোগ করলেও তিনি এসব উদ্ধারে এড়িয়ে যান। তিনি উত্তেজিত গ্রামবাসীকে এসবের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস’া হবে বলে আশ্বাস দেন। স’ানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার বলেন, ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আনিছুজ্জামান ইকোপার্কের গাছগুলো ইজারা নেয়ার মত করে প্রতিনিয়ত বনদস্যুদের সাথে আঁতাত করে কাটাচ্ছে। গত ৩ বছর ধরে অন্তত ৩ হাজার গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছেন তিনি। সরকারিভাবে বনানয়ন করা গাছের সাথে হিসেব মিলালে আকাশ-পাতাল ব্যবধান ধরা পড়বে। এসব ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করলেও তিনিও দায়সারা জবাব দিয়ে এড়িয়ে যান। স’ানীয় বন কর্মকর্তাদের সাথে উর্ধ্বতন বন কর্মকর্তাদের দহরম-মহরম থাকায় তদন্তে এসে প্রমাণ পেয়েও কারো বিরুদ্ধে ব্যবস’া নেন না।
বনদস্যু ও বন কর্মকর্তাদের মোবাইল কললিস্ট তদারকি করলে যাবতীয় রহস্য বের হয়ে আসবে। বিভাগীয় বনকর্মকর্তার নির্দেশে তদন্তে করতে আসা চকরিয়া সাফারি পার্কের রেঞ্জার উত্তর কুমার পাল বলেন, আমি মাত্র ৫টি কাটা সেগুন গাছের কিছু গাছের টুকরা দেখেছি। বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আনিছুজ্জামান বলেন, আরও কয়েকদিন তদন্ত করার পর বনদস্যুদের বিরুদ্ধে মামলা করব।