বাঁশখালীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মামলার বাদি নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁশখালী

বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নের দড়্গিণ সরল গ্রামে গত রোববার রাত ৩টা নাগাদ সন্ত্রাসীদের গুলিতে আবুল কালাম (৩৭) নামে মামলার এক বাদি নিহত হয়েছেন। গত বছরের ২ নভেম্বর সংঘটিত এক সন্ত্রাসী ঘটনায় আবুল কালামের সৎ মা হালিমা বিবি, বোন হোসনে আরা ও ভাবী শাহেনা আক্তারসহ আরও অেেনকে গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরম্নদ্ধে বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছিল আবুল কালাম। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ওই মামলার আসামিরা এ হত্যার ঘটনা ঘটায় বলে নিহতের নিকটাত্মীয়রা জানান। এ নিয়ে এলাকায় দুই গ্রম্নপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত আবুল কালাম দড়্গিণ সরল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মাস্টার কবির আহমদের পুত্র। বাঁশখালী হাসপাতালের ডাক্তার আমিনুল ইসলাম তারেক জানান, নিহত আবুল কালামে শরীরে ২০টির মতো ছররা গুলি রয়েছে।
নিহতের বড় ভাই আবুল হাশেম বলেন, ‘বাড়ির অদূরে আমার একটি ওষুধের দোকান আছে। আমি গ্রাম্য চিকিৎসা করি। আমার প্রতিবেশী হাজী শাহ আলমের পুত্র ইসকান্দরের ডায়রিয়া হওয়াতে আমি তার শরীরে একটি স্যালাইন পুশ করি। তারপরও ডায়রিয়া বন্ধ না হওয়ায় রাত ৩টা নাগাদ আমার ভাই আবুল কালামকে আমার ওষুধের দোকানে পাঠাই। আবুল কালাম দোকান খোলার সাথে সাথে ১৫/২০ জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী আমার ভাইকে গুলি করতে থাকে। গুলির আওয়াজ শুনে আমরা ঘটনাস’লে গিয়ে দেখি সন্ত্রাসীরা আরও ৪/৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। আমার ভাইয়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ ওষুধের দোকানের ভিতর পড়ে আছে। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে লাশ উদ্ধার করে। গত বছরের ২ নভেম্বর সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনায় আমার ভাই মামলা করায় ওই মামলার আসামিরা আমার ভাইকে খুন করেছে। এর আগেও নানাভাবে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল এবং হুমকিও দিয়ে আসছিল।’
গতকাল সোমবার সকাল ৮টায়
ঘটনাস’লে গিয়ে দেখা গেছে, ওষুধের দোকানের ভিতর ছোপ ছোপ রক্ত। নিহতের স্ত্রী রোজিনা আক্তার, মা জাহানারা বেগম, সৎ মা হালিমা বিবি ও বোনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠেছে। নিহত ব্যক্তির দুই শিশুপুত্র রয়েছে।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাস’ল পরিদর্শন করেছি। পূর্ব শত্রম্নতার রেশ ধরে আবুল কালাম খুন হয়েছে। খুনিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযানে নেমেছে।