বাঁশখালীতে ইভটিজারকে বই তুলে দিলেন ইউএনও

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁশখালী

নিরক্ষর রিক্সাচালক বোরহান উদ্দিন। বয়স ১৪ বছর। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। নিরুপায় হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় রিক্সাচালানোর পেশা বেছে নেয়। ওই পথ দিয়ে প্রতিদিন বাহারছড়া রত্নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অসংখ্য ছাত্রছাত্রী স্কুলে আসা-যাওয়া করে। জনবিচ্ছিন্ন পথে প্রতিদিনই বোরহান বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে উত্যক্ত করতো। এই নিয়ে বেশ কয়েকবার কয়েকজন ছাত্রীর সাথে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। তার বাবার নাম মো. নুরুল আমিন। তিনি স’ানীয় এক মাদ্রাসায় বাবুর্চির কাজ করেন। সর্বশেষ গত ৯ মার্চ শনিবার ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বোরহান উত্যক্ত করে। ওই ছাত্রী প্রতিবাদ করলে রিক্সাচালক বোরহান উদ্দিন ঐ ছাত্রীকে পথিমধ্যে কয়েক চড়-থাপ্পর মারে। ওইসময় উপসি’ত অন্যান্য ছাত্রীরা নির্যাতনের শিকার ছাত্রীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে অভিভাবকদের ঘটনাটি জানায়। বিষয়টি জানতে পেরে বাহারছড়া রত্নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃদুল দাশ গত ১১ মার্চ নির্যাতিত ছাত্রীকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোমেনা আক্তারের কার্যালয়ে উপসি’ত হন। ইউএনও বিষয়টি শুনে উপজেলা সহকারি কমিশনার ( ভূমি) সুজন চন্দ্র রায়কে পাঠিয়ে বোরহান উদ্দিন ও নির্যাতনের শিকার ছাত্রীকে গত ১৪ মার্চ বৃহস্পতিবার ইউএনও’র কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। সাথে সবার অভিভাবকও ছিলেন। ইভটিজিংয়ের দীর্ঘ শুনানি শেষে। ইউএনও মোমেনা আক্তার ইভটিজার বোরহানের কাছ থেকে আর কখনও ইভটিজিং করবে না মর্মে অঙ্গীকারসহ মুচলেকা নেন। বোরহান লেখা-পড়া করার সম্মতির কথা জানায়। বোরহানের লেখাপড়ার আগ্রহের কথা জানতে পেরে ইউএনও উপজেলার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত পশ্চিম বাহারছড়া দেওয়ানজী বাড়ির স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন।
বাঁশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, ‘সমাজে কেউ কখনও অসৎ পথকে ভালবাসে না। পরিসি’তি মানুষকে পরিবেশগুণে খারাপ করে তুলে। কিশোর বোরহানকে বই-খাতা-কলম দিয়ে স্বাক্ষরজ্ঞানের পাশাপাশি সমাজ সচেতন করার চেষ্টা করেছি। আশা করি সে আলোর পথে ফিরে আসবে।’