বহদ্দারহাট-নতুন ব্রিজ সড়ক উন্নয়নের ধুলায় নাকাল নগরজীবন

মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

নগরীর বহদ্দারহাট-নতুন ব্রিজ সড়কের ধুলা-বালির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন আশেপাশের বাসিন্দা ও চলাচলকারীরা। সড়কের উভয়পাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী এবং হাসপাতালের রোগীরাও রেহাই পাচ্ছে না এ ভোগান্তি থেকে।
সরেজমিন দেখা গেছে, গাড়ি চলাচলের সময় ধুলা-বালি উড়ে এসে আশেপাশের দোকান, রেস্তোরাঁ, ক্লিনিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ছে। ধুলার উৎপাতে রেস্তোরাঁ আর খাবার দোকানগুলোতে কমে যাচ্ছে ক্রেতাসমাগম। ফলে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন ব্যবসায়ীরা।
সড়ক ধরে গন্তব্যে যাওয়ার আগেই নোংরা হয়ে যাচ্ছে পরিষ্কার পোশাক। চলাচল করা কষ্টসাধ্য হলেও প্রতিদিন চলতে বাধ্য কর্মজীবী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ পথচারীরা।
ধুলা-বালির কারণে এ সড়কের পথচারী ও স’ানীয়দের মধ্যে বেড়েছে শ্বাসকষ্টের সমস্যা। এর কবল থেকে বাঁচতে অনেকেই চলাফেরা করছেন নাকে-মুখে মাস্ক, রুমাল ও গামছা বেঁধে। তাদের মতে, সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ যদি উন্নয়ন কাজ করার সময় পানি দিতো, তাহলে আজ মানুষকে অতিমাত্রায় ধুলার ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।
রাহাত্তারপুল এলাকায় দায়িত্ব পালনরত এক ট্রাফিক পুলিশ সুপ্রভাতকে বলেন, ‘এই ধুলা-বালির ভেতর কাজ করতে গিয়ে সীমাহীন কষ্ট পেতে হচ্ছে। সারাক্ষণ মুখে মাস্ক লাগিয়ে থাকি, তারপরও রাতে কাঁশির জন্য ঘুমাতে পারি না।’ ॥
বহদ্দারহাট থেকে নতুন ব্রিজ পর্যন্ত ৪ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বের এ সড়কের উভয়পাশে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক ও খাবারের রেস্টুরেন্ট। রাহাত্তারপুল এলাকায় রাস্তার বামপাশে অবসি’ত হলি সিটি মডেল স্কুল নামে শিশুদের একটি কিন্ডারগার্টেন ও বাকলিয়া সরকারি কলেজ। কথা হয় হলি মডেল স্কুলের শিক্ষয়িত্রী ইয়াসমিন আক্তার ও বাকলিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে। উভয়ই জানান, সড়কের ধুলা-বালির উৎপাতে ছাত্র-ছাত্রীর নিয়মিত উপসি’তির হার অনেক কমে গেছে। ছাত্র-ছাত্রীরা তো বটেই, স্কুল-কলেজের অনেক শিক্ষকও বর্তমানে শ্বাসকষ্টের রোগী হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
রাহাত্তারপুল এলাকায় রাস্তার পাশে অবসি’ত সুর্যের হাসি ক্লিনিক। এ ক্লিনিকের মেডিক্যাল অফিসার ও মহিলারোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রিনা দত্ত সুপ্রভাতকে বলেন, ‘চেম্বারে বসে রোগী দেখতে গিয়ে ধুলা-বালির কারণে আমি নিজেও রোগী হয়ে গেছি। সকাল ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত এখানে রোগী দেখি। তাতেই এখন শ্বাসকষ্টের রোগী হয়ে পড়লাম। এছাড়া আমার কাছে আসা গর্ভবতী নারীরা এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতের কারণে নিজে ও গর্ভের বাচ্চা উভয়ই শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ধুলা-বালির কারণে সাধারণ মানুষ কাঁশি ও নানা রকম এলার্জিতে আক্রান্ত হচ্ছে।’
হায়দার নামে কালারপুল এলাকার এক বাসিন্দা, যিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকের চাকুরে, আক্ষেপের সঙ্গে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘আগে ঢাকাকে বসবাসের অযোগ্য শহর বলা হলেও চট্টগ্রামকে কখনো এ লিস্টে রাখা হতো না। কিন’ চট্টগ্রামের বর্তমান যে বিশৃঙ্খল অবস’া, তাতে এ শহরও দ্রুতই বসবাসের অনুপযোগী শহরের তালিকায় জায়গা করে নেবে। উন্নয়ন যদি সারা বছর ধরেই চলে, তাহলে মানুষ সে উন্নয়নের সুফল ভোগ করবে কখন?’