বহদ্দারহাট-কর্ণফুলী সেতু সড়ক উন্নয়নের যন্ত্রণা থেকে রেহাই দিন

সম্পাদকীয়

প্রায় এক বছর ধরে বহদ্দারহাট-কর্ণফুলী সেতু সংযোগ সড়কের ছয় লেনের নির্মাণ কাজ চললেও এখন পর্যন্ত ত্রিশভাগ কাজও শেষ করতে পারেনি সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এই এক বছর ধরে এই সড়কে যাতায়াতকারী যানবাহন ছাড়াও উভয় পাশে বসবাসকারী ৩ লাখের অধিক মানুষকে পোহাতে হচ্ছে নিদারুণ যন্ত্রণা। সড়ক খোঁড়াখুঁড়িজনিত ধুলাবালির কারণে এক বছর ধরে সড়কের দুপাশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমেছে ধস। এখানে অবসি’ত অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও হাসপাতাল-ক্লিনিকের রোগীদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।
ধুলোবালির কারণে এখানকার বিপণিকেন্দ্রে কমে গেছে বেচাকেনা। কমিউনিটি সেন্টার বা কনভেশন সেন্টারের ব্যবসাও প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। বাসা-বাড়িতে যারা বসবাস করছেন তারাও রেহাই পাচ্ছেন না ধুলোবালির অত্যাচার থেকে। বর্ষার কাদামাটির যন্ত্রণার পর শুষ্ক মৌসুমের ধুলোবালির কারণে নানাবিধ অসুখে ভুগছেন বসবাসকারীরা।
৩০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বহদ্দারহাট থেকে কর্ণফুলী সেতু হয়ে মইজ্জ্যারটেক পর্যন্ত উন্নয়ন কাজের মধ্যে রয়েছে ৪টি ব্রিজ, একটি কালভার্ট ও তিনটি আন্ডারপাস। ছয় লেনের সড়ক উন্নয়নের এই কাজটি করছে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ। সওজের প্রকৌশলী আর এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ হবে বললেও ভুক্তভোগীরা বলছেন, কাজের গতি দেখে তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।
একটি দেশে কিংবা একটি নগরীতে উন্নয়নমূলক কাজ চলা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিশ্বের সর্বত্রই এমনই চলে। তবে অন্যত্রের সাথে বাংলাদেশের তফাৎটা হচ্ছে এই যে, এদেশে যে কোনো উন্নয়নমূলক কাজের সময় তার চারপাশের সকল বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা হয়। আশেপাশের পরিবেশ বা জনভোগান্তিকে বিবেচনায় রাখা হয় না। উন্নয়ন কাজের সময় পরিবেশ দূষণ, জনভোগান্তি কমিয়ে রাখার উদ্যোগও তাই পরিলক্ষিত হয় না। অনেকটা যেমন, উন্নয়ন হচ্ছে সেটাই বড় কথা, অন্য বিষয় নগণ্য।
বিশ্বের সভ্য দেশগুলোতে উন্নয়ন কাজ শুরুর আগে জননিরাপত্তা, পরিবেশ, জনভোগান্তি ইত্যাদিকে আগে প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে হলে বিকল্প ব্যবস’া করা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মধ্য রাত থেকে ভোর পর্যন্ত শুধু কাজ করে দিনের বেলা যানবাহন চলাচলের ব্যবস’া ঠিক রাখা হয়।
তাছাড়া একটি নির্দিষ্ট সময়েই কাজ শেষ করা হয় বলে সে সব দেশে জনভোগান্তি জনঅসন’ষ্টিতে পরিণত হয় না। পাশাপাশি আমাদের দেশে কাজ শুরুর পর তা কবে নাগাদ শেষ হবে তার কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে না। থাকলেও সে বরাবর কাজ হয় না।
উন্নয়নের এই যন্ত্রণা থেকে নগরবাসী মুক্তি চায়। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর জনগণকে কষ্ট দিয়ে এমন ধারা চললে তা সহসাই জন অসন’ষ্টিতে পরিণত হবে। ফলে কর্তৃপক্ষের উচিত এই দিকেও খেয়াল রাখা।