বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার

বহদ্দারহাটমুখি র‌্যাম আজ চালু হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবশেষে ৯ বছর পর আগের নকশার রূপে ফিরল বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার। ২০০৮ সালের নকশায় এই ফ্লাইওভারটি ওয়াই (ণ) আকৃতির হওয়ার কথা থাকলেও সেই অনুযায়ী নির্মিত না হওয়ায় ফলপ্রসু হচ্ছিল না। ফ্লাইওভারের নতুন এই রূপ আজ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম আজ বিকেলে তা উন্মুক্ত করে দেবেন।
নতুন এই র‌্যাম চালু প্রসঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, এর মাধ্যমে ফ্লাইওভারটি পূর্ণতা পেল। একইসাথে বহদ্দারহাট মোড়ের যানজটও চিরতরে বিনাশ হলো। এখন মোহরা, বোয়ালখালী ও কালুরঘাট এলাকার মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারবে।
বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে আসা র‌্যামটি মূল ফ্লাইওভারে লেভেলে আসার পর দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একটি অংশ পশ্চিম দিকে বাঁক নিয়ে মুরাদপুরের দিকের অংশে যুক্ত হয়েছে এবং অপর একটি অংশ রাহাত্তারপুলের দিকের অংশে যুক্ত হয়েছে। বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারটি মুরাদপুর এন মোহাম্মদ কনভেনশন সেন্টারের সামনে থেকে শুরু হয়ে এক কিলোমিটারের সামনে গিয়ে নেমেছে। ফ্লাইওভারের মাঝখানে একটি র‌্যাম বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের দিকে নেমে যাওয়ার কথা ছিল। এতে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল ও চান্দগাঁও আবাসিক থেকে আসা গাড়িগুলো সহজে ফ্লাইওভার দিয়ে যাতায়াত করতে পারতো। আর তখন এই ফ্লাইওভারটিকে দেখতে ইংরেজি ওয়াই (ণ) আকৃতির মতো হয়ে থাকে। তবে এখন বহদ্দারহাট টার্মিনালের দিকে যাওয়ার সময় ও আসার সময় ডাবল লেনের র‌্যামটি একসাথে না করে তা দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। এতে উপর থেকে তা আর ওয়াই আকৃতির দেখা যায় না। এখন র‌্যামটি ইংরেজি এ (অ) আকৃতি ধারণ করেছে।
জানা যায়, মুরাদপুর দিক থেকে যেসব গাড়ি চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা কিংবা বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের দিকে যাবে সেগুলো বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারে উঠে বাম দিকের র‌্যামে উঠে সাউদার্ন সিএনজি স্টেশনের সামনে গিয়ে নামবে। আর বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল কিংবা চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা থেকে আসা যেসব গাড়ি কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর দিকে সেগুলো র‌্যামে উঠে বাম দিকে টার্ন নিয়ে শাহ আমানত সেতুর দিকে চলে যাবে। চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা থেকে আসা গাড়িগুলো মুরাদপুরের দিকে যেতে হলে বাম দিকের র‌্যাম ধরে ফ্লাইওভারে উঠে এক কিলোমিটার থেকে ডান দিকে টার্ন নিয়ে আবারো ফ্লাইওভারে উঠে মুরাদপুরের দিকে যাবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নিয়ে সমালোচনা হয়ে আসছে। শুধুমাত্র মুরাদপুর থেকে শাহ আমানত সেতুমুখি গাড়িগুলো এই ফ্লাইওভারে যাতায়াতের সুযোগ থাকায় ২০১৩ সালে উদ্বোধনের পর থেকে গাড়ির সংখ্যা কম। শাহ আমানত সেতুমুখি গাড়ির সংখ্যা কম এবং বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের দিকে গাড়ির সংখ্যা বেশি হওয়ায় ফ্লাইওভারের নিচে নিত্যযানজট লেগে থাকে। এ ধরনের তথ্যভিত্তিক অনেক প্রতিবেদন মিডিয়ায় প্রকাশের পর তা নিয়ে সমালোচনা হতে থাকে। মিডিয়া ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে সমালোচনার পর সিডিএ ফ্লাইওভারের নকশায় নতুন করে র‌্যাম যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। গত বছরের জুলাইতে সিদ্ধান্তের পর শুরু হয় নির্মাণকাজ এবং আগামী মাসে তা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।