বর্ষায় জলাবদ্ধতা, শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি এ নিয়ে আছে নগরবাসী

পুরো বর্ষা মৌসুমে নগরের যে এলাকাগুলো ডুবে ছিল পানিতে শুষ্ক মৌসুমে সে পানি না থাকলেও তার স্থান দখল করেছে ধুলাবালি। আর নগরের প্রায় সব সড়ক ছিল পানি ও কাদায় ভরপুর, সেখানে এখন ধুলা উড়ছে। এই চিত্র দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী বন্দরশহর চট্টগ্রামের। বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে ডুবে থাকাই যেন চট্টগ্রামবাসীর নিয়তি।
বছর জুড়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি আর কিছু এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে নগরীর অধিকাংশ সড়ক ছিল যান চলাচলের অনুপযোগী। ফ্লাইওভার নির্মাণ শেষ হলেও তার নিচের সড়ক মেরামত হয়নি দীর্ঘদিন ধরে। ফলে বছরজুড়ে নগরবাসীকে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হয়েছে। এখন বর্ষা চলে গেছে শুরু হয়েছে ধুলাবালির উপদ্রব। এই ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্টের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে স্কুল পড়ুয়া শিশু ও বয়স্ক নরনারীরা। স্বাভাবিক নিয়মে শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির প্রকোপ বাড়ে। তবে প্রতিবছর এর ক্ষতির প্রভাব বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বলছেন ইতিমধ্যে শ্বাসকষ্ট পাওয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংখ্যা সামনে আরও বৃদ্ধি পাবে।
সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী ল্যানসেট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী ৯০ লাখ মানুষ দূষণের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে।
দূষণ থেকে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। তালিকায় বাংলাদেশের পরে আছে আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া। দূষণজনিত মৃত্যুর বেশিরভাগ ঘটেছে দূষণের কারণে সংক্রামক নয় এমন রোগে, যার মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ফুসফুসের ক্যান্সার। দূষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে বায়ু দূষণ।
দূষণজনিত মৃত্যুর দুই তৃতীয়াংশের পেছনে রয়েছে বায়ু দূষণ। বায়ুদূষণ যা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তাতে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে ৬৫ লাখ মানুষ। এর মধ্যে রয়েছে বাইরে থেকে আসা দূষণ যেমন গ্যাস, বাতাসে দূষণ-কণা এবং ঘরের ভেতর কাঠ ও কাঠ কয়লা জ্বালানোর ধোঁয়া।
ল্যানসেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূষণের সঙ্গে দারিদ্র্য। অস্বাস্থ্য এবং সামাজিক অবিচারের বিষয়গুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যগুলো নিঃসন্দেহে দেশের জন্য সুখকর নয়। একটি নগরীর উন্নয়নমূলক কাজ হতেই পারে কিন্তু সে উন্নয়ন কাজ যেন পরিবেশের ক্ষতির কারণ হয়ে না দাঁড়ায় বা তা যেন জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হয় তা কর্তৃপক্ষকে খেয়াল করা প্রয়োজন। একটি আন্তর্জাতিক সাময়িকী দু বছর গবেষণা করে যখন বলে দূষণজনিত মৃত্যুর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বশীর্ষে তখন আমাদের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসমূহকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। বোঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি সামনে আরও খারাপ হতে পারে।
মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। কাজেই নগরবাসীকে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্তাব্যক্তিদের এদিকে দৃষ্টি পড়বে বলে আশা করি।