বর্ষায় অপরূপ নিঝুমপুরীর ক্যাম্পাস

সিফায়াত উল্লাহ, ছবি: তৌকির আহমেদ মাসুদ
Campus-6

‘বৃষ্টিতে ভেজার মধ্যে একটা আলাদা আনন্দ আছে। তাই সুযোগ পেলে ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজি। এছাড়াও ক্যাম্পাসের খোলা মাঠগুলো সবুজ ঘাসের চাদরে ছেয়ে যায়। মন চায়, ঘাসের মধ্যে গিয়ে বসে থাকি।’ অনুভুতিগুলো বলছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব ভট্টাচার্য।
গ্রামীণ শান্ত শীতল পরিবেশে সুন্দর ও পরিপাটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস সত্যিই নয়নাভিরাম। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নানা বর্ণের পাখির কলকাকলী কাকে না মুগ্ধ করে। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা যেকোনো ঋতুতেই পূর্ণতা পায় এই ক্যাম্পাস। তবে বর্ষাকালে প্রকৃতি সাজে নতুন রূপে। প্রকৃতির সঙ্গে বৃষ্টির একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বর্ষা আসতেই এর মধ্যে ক্যাম্পাসের স্টেশন চত্বর, জিরো পয়েন্ট মোড়, কাটা পাহাড় রোড, শহীদ মিনার, হতাশার মোড়, ঝুলন্ত ব্রিজ, রব হলের বাগান, লাইব্রেরি চত্বর, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, বায়োলজির পুকুরপাড়সহ প্রায় সবকিছু বদলে গেছে বর্ষার ছোঁয়ায়। কদম, বকুল আরও কতশত নাম না জানা ফুল যে ক্যাম্পাসজুড়ে ফুটেছে তার হিসেব নেই। ক্যাম্পাসের বর্ষাকালীন প্রকৃতি, ফুল আর বৃষ্টি, রাস্তায় জমে থাকা পানি শিক্ষার্থীদের মনকে আর্দ্র করে তোলে বর্ষার জলধারায় মতো। এছাড়াও বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ভেজাও এক অনাবিল আনন্দানুভূতি ।
অর্ণব আরও বলেন, শহরের ধুলাবালি আর কোলাহলমুক্ত আমাদের ক্যাম্পাসের রয়েছে প্রকৃতির বর্ণিল সাজ। গ্রামীণ পরিবেশে সবুজ সতেজ গাছপালার মধ্যে ইটের দালানের উঁকি-ঝুঁকি এক ভিন্ন দৃশ্যের অবতারণা করে।’
‘বর্ষায় কদম ফুল সবার হৃদয়কে ব্যাকুল করে তোলে’ এমনটা জানিয়ে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তাবাসসুম নিশু বলেন, ‘ক্যাম্পাসের নিচু স্থানগুলো একেবারে জলে থৈ থৈ করে, এই দৃশ্যটা খুব আকর্ষণীয় মনে হয়। বিশেষ একটা রূপ চোখে পড়ে এই বর্ষার সময় আমাদের ক্যাম্পাসের।’
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাবরিনা আফরিন বলেন, বর্ষায় অপরূপ হয়ে ওঠে আমাদের ক্যাম্পাস। ট্রেন থেকে নেমে যখন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করি, তখন ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে চোখ সরানো যায় না। গাছের পাতায় পাতায় বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা সূর্যের আলো পেয়ে চকমকিয়ে ওঠে। এছাড়া পাতার ফাঁকে ফাঁকে কদমের দল নজর কাড়ে শিক্ষার্থীদের। তিনি বলেন, ‘ঝুপড়িতে বসে এক কাপ চা হাতে একটা বর্ষণমুখর দিন উপভোগ করতে যে কেউ আসতে পারে আমাদের সবুজ ক্যাম্পাসে। বর্ষণে সিক্ত সবুজ ঘাস মাড়িয়ে ঘুরে দেখতে পারেন বর্ষায় স্নাত এ ক্যাম্পাসকে।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান আরমান বলেন, ‘পড়াশোনার জন্য দরকার ভালো একটি প্রাকৃতিক পরিবেশ। আর সেটার শতভাগ রয়েছে আমাদের ক্যাম্পাসে। শহরের কোলাহল ছেড়ে গ্রামীণ এলাকায় গড়ে উঠেছে আমাদের এই ক্যাম্পাস।’
বৃষ্টির সময় হলগুলোর রুমে রুমে চলে নানা রকম আড্ডা। গান, কবিতা, তাসের বান্ডিলে বন্ধুদের নিয়ে মেতে ওঠে অনেকেই। কেউ কেউ দিনের বেলায় হলের মাঠে ফুটবল নিয়ে নেমে পড়েন। বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলতে গিয়ে নিজেদের নিয়ে যান শৈশবে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় এখন দেখা মিলবে বর্ষাকালীন ফুল কদমের। আবদুর রব হলের সামনে, পুরাতন আইন অনুষদের পাশে, খালেদা জিয়া হলের সামনে, বিবিএ ফ্যাকাল্টির পশ্চিম পাশে, দক্ষিণ ক্যাম্পাসে শিক্ষক কলোনিসহ নানা জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য কদম গাছ। বর্ষার পানিতে শাখায় শাখায় কদম ফুল যেন প্রকৃতিকে নববধুর বেশে সাজিয়ে তোলে।