বর্ষাকালেও উজ্জ্বল কেশ

দেউড়ি ডেস্ক

ভেজা আবহাওয়া থেকে খুশকি ও চুল-পড়া সমস্যা দেখা দিতে পারে। দেখাতে পারে মলিন। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের রয়েছে উপায়।
ভেজা ও স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ার জন্য বর্ষাকালে চুল অনেক সময় ঠিকমতো শুকায় না। আবার বৃষ্টি না হলেও গরম থেকে ঘামে ভেজাচুল স্বাস’্যকর নয়।
তাই বর্ষায় চুল ভালো রাখতে কী করা উচিত সেই বিষয়ে জানিয়েছেন স্টার স্যালনের ভারতীয় চুল বিশেষজ্ঞ আশমীন মুঞ্জাল।
– মাথার ত্বকে তেল দিন। ক্যাস্টর অয়েল, জলপাইয়ের তেল প্রাকৃতিকভাবেই চুলের আর্দ্রতা বাড়ায় যা চুলের শুষ্কতা দূর করে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে তোলে।
– বৃষ্টিতে গোসল করতে চাইলে মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করে মাথার ত্বকের ময়লা দূর করুন।
– বর্ষায় সহজেই চুল কুঁকড়ে যায়। ভালো শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল উজ্জ্বল রাখতে পারেন এবং ফাঙ্গাল ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া সংক্রমণ দূর করতে সবসময় আগা থেকে গোঁড়া পর্যন্ত চুল পরিষ্কার করতে হবে।
– বর্ষায় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। কারণন এটা চুলের ক্ষয় দূর করে বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
– মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানো ও জট ছাড়ানো উচিত। এতে আঁচড়ানোর কারণে চুল পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
– চুল বাঁচাতে ভালো পানি নিরোধক টুপি বা জ্যাকেট ব্যবহার করুন।
ভারতের আরেক রূপবিশেষজ্ঞ শাজানাজ হুসেইন বর্ষায় চুল ভালো রাখার আরও কিছু উপায় সম্পর্কে জানান।
– বর্ষায় ঘন ঘন চুলে শ্যাম্পু করা দরকার। বিশেষ করে যদি কেশ তৈলাক্ত হয়ে যায়। মৃদু ভেষজ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। পানির সাহায্যে ভালোভাবে ফেনা পরিষ্কার করে নিন।
– আঠালো-খুশকির সমস্যা থাকলে মাথায় গরম তেল মালিশ করুন। তিল বা জলপাইয়ের তেল গরম করে ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
গরম তেল তুলার সাহায্যে হালকাভাবে মাথার ত্বকে ঘষতে হবে।
এরপর একটি তোয়ালে গরম পানিতে ডুবিয়ে তা মাথায় পাঁচ মিনিট পেঁচিয়ে রাখুন। এভাবে চার পাঁচবার করুন। সারা রাত মাথায় তেল রেখে দিন। সকালে মাথার ত্বক লেবুর রস লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।
– চুল খুব বেশি শুষ্ক না হলে কন্ডিশনার এড়িয়ে চলুন। ভেষজ শ্যাম্পু এবং রান্নাঘরে পাওয়া যায় এমন জিনিসের তৈরি কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। চা এবং লেবুর মিশ্রণ বর্ষায় খুব ভালো কাজ করে।
ব্যবহৃত চা-পাতা পর্যাপ্ত পানিতে আবার ফুটান। ঠাণ্ডা হয়ে আসলে শ্যাম্পু করার পরে তা দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এক মগ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে শ্যাম্পুর পরে তা দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। লেবুর রস চুলের তৈলাক্তভাব দূর করে সাধারণ ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।
– চুল পরিষ্কারক হিসেবে গাঁদা ফুল ব্যবহার করতে পারেন। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এটা বেশি উপযোগী। এক মুঠ তাজা বা শুকনা গাঁদা ফুলের পাপড়ি তিন কাপ গরম পানিতে মেশান। এক ঘণ্টা তা রেখে দিন। ঠাণ্ডা হয়ে আসলে তা দিয়ে শ্যাম্পু করার পরে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটা তৈলাক্ততা ও খুশকি দূর করতে সাহায্য করে।
– ঘাম ও তেল নিঃসরণ থেকে মাথার ত্বকে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। সমস্যা সমাধানে আধাকাপ গোলাপ জলে একটি লেবুর রস মিশিয়ে তা দিয়ে শ্যাম্পুর পরে চুল ধুয়ে নিন।