বর্ষবিদায় শেষে নতুনের আবাহনে নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির উৎসব, সবার যোগে জয়যুক্ত হোক’ সেস্নাগানে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের আয়োজনে ডিসি হিলে অনুষ্ঠিত হলো জমজমাট বর্ষবিদায় অনুষ্ঠান। চৈত্রসংক্রানিত্ম ও নববর্ষ ঘিরে এটি চট্টগ্রামের প্রাচীনতম এবং সেই সাথে ৪১তম আসর। বিকেল ৫টায় দলীয় ও একক নৃত্য, গান ও আবৃত্তি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুরাতন বছরকে বিদায় দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শুরম্নতে ভায়োলিনিস্ট-চট্টগ্রামের বেহালবাদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভসূচনা ঘটে। এরপর সংগীত পরিবেশন করে মোহরা আইডিয়েল স্কুল এন্ড কলেজ, কুসুম ললিতকলা একাডেমি, শানত্মঞ্জলি সংগীত নিকেতন, অনুশীলন সাংস্কৃতিক সংসদ, গোসাইলডাঙ্গা কল্পতরম্ন সংঘ, নবকুঁডি।
দলীয়ও একক নৃত্য পরিবেশন করে সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ, ডান্স একাডেমি, নৃত্যম একাডেমি, ঐকতান সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী। আবৃত্তি পরিবেশনায় ছিল তারম্নণ্যের উচ্ছ্বাস, ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দল, শব্দনোঙর আবৃত্তি সংগঠন। অনুষ্ঠান উপস’াপনা ছিলেন মিলি চৌধুরী ও প্রণব চৌধুরী।
পহেলা বৈশাখ (আজ) ভোর ছয়টায় রাগ সংগীতে, কবিতায় ও গানে নববর্ষকে আবাহন করা হবে ডিসি হিলে।
সিআরবির শিরীষতলা
গতকাল বিকেল তিনটায় সিআরবি শিরীষতলা ও বিকেল ৫টায় ডিসি হিলে শুরম্ন হয় চৈত্রসংক্রানিত্মর আয়োজন। শুরম্নতে দলীয় পরিবেশনা ও পরে একক সংগীতের মধ্য দিয়ে পুরাতন বছরকে বিদায় দেওয়া হয়। শিরীষতলায় দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় ঘুঙুর নৃত্যকলা একাডেমি, নিক্কণ একাডেমি ও সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ। একক সংগীতে অংশ নেন ইকবাল হায়দার, আব্দুর রহিম, মোখলেছুর রহমান মুকুল, পাপড়ি ভট্টাচার্য, শংকর দে, মো. হোসেন ও রাখি শবনম (বাউল, কুষ্টিয়া)।
অনুষ্ঠানের শুরম্নতে আয়োজনের নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন নববর্ষ উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান মারম্নফ রম্নমী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উদযাপন পরিষদের সভাপতি এম এ মালেক, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস’াপক সৈয়দ ফারম্নক আহমেদ।
শিল্পকলা একাডেমি
পুরনো বছর বিদায় উপলড়্গে গতকাল জেলা শিল্পকলা একাডেমির অনিরম্নদ্ধ বড়ুয়া অনি মুক্তমঞ্চে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিকাল ৫টায় বর্ষবিদায় শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরম্ন হয় অনুষ্ঠান। উেদ্েবাধন

করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। এ সময় উপসি’ত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ কামাল হোসেন, কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু, নির্বাহী সদস্য জেসমিন সুলতানা পারম্ন, কাবেরী সেনগুপ্তা ও জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মো. মোসলেম উদ্দিন সিকদার।
জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ উৎসবের মাঝে আমরা খুঁজে পাই আমাদের ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং গৌরবগাথা। এ উৎসবে বাঙালি জেগে ওঠে নবোদ্যমে। এদিন দুঃখ ভুলে, দৈন্যকে আড়াল করে, কান্না-শোক ভুলে মেতে ওঠে বাঙালি নতুনের আয়োজনে, নবীনের জয়গানে।
শিল্পকলা একাডেমির কার্যকরী কমিটির সদস্য হাসান জাহাঙ্গীর ও নির্বাহী সদস্য কঙ্কন দাশের সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে সঙ্গীত ভবন, শিল্পকলা একাডেমি সঙ্গীতদল। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ডান্স, প্রাপন একাডেমি, সুরঙ্গন বিদ্যাপীঠ, নৃত্যরূপ একাডেমি। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন মুজাহিদুল ইসলাম, মসরম্নর হোসেন, সেলিম ভূইয়া। কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন আনন্দ মোহন রড়্গিত ও হোসাইন কবির। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন শাকিলা জাহান, অপু বর্মন, দীপ্র বড়-য়া ও দুর্জয় বড়ুয়া। শুরম্নতে যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডমি তবলা বিভাগ।
চারসত্মরের নিরাপত্তা
পহেলা বৈশাখ উপলড়্গে আজ চারসত্মরের নিরাপত্তা ব্যবস’া গ্রহণ করা হয়েছে। নগরের সিআরবি ও ডিসি হিলে সবচেয়ে বড় আয়োজন থাকে। সেজন্য এ দুটি জায়গায় গতকাল শনিবার অতিরিক্ত পুলিশ ছাড়াও সোয়াত টিম, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ও গোয়েন্দা বিভাগ মহড়া করেছে। এছাড়া নগরের প্রায় ১০০টি জায়গায় পহেলা বৈশাখ পালন করা হবে। সেখানেও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পহেলা বৈশাখের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৫ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম। তিনি বলেন, নগরীর গুরম্নত্বপূর্ণ জায়গায় তলস্নাশি অভিযান চালানো হবে।