বর্ষবরণকে ঘিরে চকরিয়ায় ফুল ব্যবসায় চাঙ্গাভাব

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া

আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ-বাংলা নববর্ষ। নতুন বছরকে বরণ করতে বরাবরের মতো বেড়েছে ফুলের চাহিদা। বর্ষবরণকে ঘিরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফুলের গ্রাম খ্যাত বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নের চাষিরা কয়েকদিন ধরে ফুল বিক্রি নিয়ে ব্যসত্ম সময় কাটাচ্ছেন। তাদের ধারণা, আজ ১৩ এপ্রিল শনিবার বিকাল পর্যনত্ম দুইটি ইউনিয়নের শতাধিক বাগান থেকে অনত্মত কোটি টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবেন তাঁরা। ইতোমধ্যে ফুলের চাহিদা মেটাতে সপ্তাহ আগে থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে আগেভাগেই বিভিন্ন প্রজাতির ফুল কিনে নিতে বাগান মালিকদের কাছে আগাম অর্ডার দিয়ে রেখেছেন। গতকাল শুক্রবারও ভাল ফুল বিক্রি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স’ানীয় চাষিরা। শুক্রবার দুপুরের পর ফুলের গ্রাম খ্যাত বরইতলী ও হারবাংয়ের একাধিক বাগান ঘুরে দেখা গেছে বৈশাখী উৎসব উপলড়্গে এখানের প্রতিটি বাগানে নারী-পুরম্নষ শ্রমিকরা ফুল কাটার মহোৎসবে নেমেছে। সন্ধ্যার আগের দেখা গেছে, স’ানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বেশিরভাগ ফুল প্যাকেট করে পাঠানো হচ্ছে দেশের বৃহত্তর ফুলের বাজার ঢাকার শাহবাগ ও চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড় এলাকার ফুলের দোকানগুলোতে। চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ও হারবাংয়ের বাগান থেকে দেশের বিভিন্নস’ানে সরবরাহ করা হচ্ছে গোলাপ, গস্নডিউলাস, রজনীগন্ধা, গাঁদাসহ নানা জাতের ফুল। চাষিদের মতে, বর্ষবরণের আগেরদিন চট্টগ্রামের বাজারের চাহিদা শেষ করে কিছু কিছু ফুল যাবে পর্যটন শহর কক্সবাজারে। দিনের শেষে অবশিষ্ট ফুল যাবে চকরিয়া শহরের বাজারে। সবমিলিয়ে চাষিরা এবছর বর্ষবরণ উৎসবে কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা দেখছেন।হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম বলেন, প্রায় দুইদশক আগে কয়েকজন চাষি মিলে প্রথমে বরইতলী ইউনিয়নের অল্প জমিতে শুরম্ন করেন ফুলের চাষ। কমখরচে ফুল চাষে বেশি লাভে সফলতা দেখায় সেই থেকে ব্যাপক জমিতে চাষ শুরম্ন করেন একাধিক চাষি। তাদের দেখে বর্তমানে হারবাং ইউনিয়নেও বিসত্মার লাভ করেছে ফুলের চাষ। ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ইতোমধ্যে দড়্গিণ চট্টগ্রামে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ও হারবাংয়ে দুইটি জনপদ ‘ফুলের গ্রাম’ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। বর্তমানে এখানকার বাগানগুলোতে গোলাপ, গস্নাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গাঁদাসহ হরেক রকমের ফুল চাষ করা হচ্ছে। পরিচর্যা থেকে বাগানের সবধরনের কাজে নিয়োজিত আছেন পাঁচ শতাধিক নারী-পুরম্নষ শ্রমিক। নববর্ষ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ছাড়াও জাতীয় দিবসগুলো ঘিরে প্রতিবছরই ফুল বেচাকেনার ধুম পড়ে চকরিয়ায়। চকরিয়া ফুল ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক ও বরইতলী একতা বাজার এলাকার ফুলচাষি মো. মইনুল ইসলাম বলেন, উর্বরতা শক্তি ভালো থাকায় এখানকার বাগানে বেশ ফলন হয়, দামও পাচ্ছে চাষিরা।তিনি বলেন, প্রতিটি বাগান থেকে নিত্যদিন খুব ভোরে ফুল কাটা হয়। এগুলো পরবর্তীতে প্যাকেট ভর্তি করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাইকারদের কাছে পাঠানো হয়। আবার অনেকে সরাসরি বাগানে এসে চাহিদা মতো ফুল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।স’ানীয় ফুল চাষিরা জানান, প্রতিটি গোলাপ ফুলের দাম মানভেদে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে চার থেকে পাঁচ টাকায়। আর বিভিন্ন রংয়ের গস্নডিওলাস ফুল বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিক উলস্নাহ বলেন, উপজেলার বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নে শতাধিক ফুলের বাগান রয়েছে। দুইদশক আগে থেকে এখানকার চাষিরা ফুল চাষ করে আসছেন। প্রথমদিকে অল্প জমিতে ফুলের চাষ হলেও বর্তমানে এ পরিমাণ বেড়েছে। ভালো দাম পেয়ে এখন আর্থিকভাবেও বেশ লাভবান হচ্ছেন ফুল চাষিরা।