প্রদীপ জ্বালিয়ে স্মরণ

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়ার প্রত্যয় ক্রাইস্টচার্চে

সুপ্রভাত ডেস্ক

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৫০ জনের স্মরণে নিউজিল্যান্ডের শহরগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদের কাছে এক পার্কে অনুষ্ঠিত প্রদীপ প্রজ্বলনে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে বার্তা সংস’া রয়টার্স জানিয়েছে। খবর বিডিনিউজ।
অস্ট্রেলিয়ান উগ্র ডানপনি’ ব্রেন্টন ট্যারান্ট এ আল নূর মসজিদে গুলি চালিয়েই ৪০ এর বেশি মানুষকে হত্যা করেছিলেন; কাছাকাছি লিনউড মসজিদে গিয়ে হত্যা করেন বাকিদের। প্রদীপ প্রজ্বলন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অনেক অমুসলিম নারীকে স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢেকে মুসলমানদের প্রতি সংহতি জানাতে দেখা গেছে।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অ’ডুর্ন আগামী শুক্রবার আল নূর ও লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী
হামলায় নিহতদের জাতীয়ভাবে স্মরণ করারও ঘোষণা দিয়েছেন।
‘নিউ জিল্যান্ডের জনগণ যে সহমর্মী, ঐক্যবদ্ধ ও বৈচিত্রে আস’াশীল তা আরও একবার দেখানোর সুযোগ হবে ওই অনুষ্ঠান। আমরা ওই মূল্যবোধগুলো রক্ষা করবো,’ বিবৃতিতে বলেছেন তিনি।
ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর থেকে অ’ডুর্নের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। হামলার পরপরই তিনি সন্ত্রাসী এ হামলায় নিন্দা জানিয়েছেন, অস্ত্র আইন কঠোর করেছেন, হতাহত ও তাদের পরিবারের প্রতি জানিয়েছেন সমবেদনা।
গতকাল রোববার প্রদীপ প্রজ্বলন শুরু হয় ইসলামী প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। এরপর একে একে উচ্চারিত হয় বন্দুকধারীর হামলায় নিহতদের নাম, যাদের মধ্যে আছে কাছাকাছি ক্যাশমেয়ার হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরাও।
‘অন্ধকার দিয়ে অন্ধকার দূর করা যায় না, আলো লাগে। ঘৃণা দিয়ে ঘৃণাকে দূর করা সম্ভব নয়, একমাত্র ভালোবাসাই ঘৃণা দূর করতে পারে,’ বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন ক্যাশমেয়ার স্কুলের শিক্ষার্থী ওকিরানো তিলাইয়া।
গতকাল রোববার অকল্যান্ডের কেন্দ্রস’লে হওয়া বর্ণবাদবিরোধী এক সমাবেশেও নিউজিল্যান্ডের হাজারো নাগরিক অংশ নিয়েছেন। সমাবেশে উপসি’তদের হাতে ছিল ‘অভিবাসীদের জীবনও জরুরি’ এবং ‘শরণার্থীরা স্বাগত এখানে’ লেখা প্ল্যাকার্ড। ২০১৩ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, নিউ জিল্যান্ডের ৪৮ লাখ জনগোষ্ঠীর মাত্র ১ শতাংশই মুসলমান; যাদের বেশিরভাগেরই জন্ম অন্যদেশে।
ক্রাইস্টচার্চে হামলায় নিহত মোজাম্মেল হকের মৃতদেহ নিতে শনিবার বাংলাদেশ থেকে ক্রাইস্টচার্চে আসেন তার ভাই শাহাদাত হোসেন।
‘যখন আমি আমার ভাইয়ের প্রাণহীন দেহটি দেখি, তখন কী অনুভূতি হচ্ছিল তা বলে বোঝানো যাবে না। আমি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলাম,’ রয়টার্কে বলেছেন তিনি।
হামলার সময় আল নূর মসজিদে থাকা ফরিদ আহমেদ প্রতিবেশীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে জানাচ্ছেন ধন্যবাদ। বন্দুকধারীর হামলা থেকে নিজে রক্ষা পেলেও স্ত্রী হুসনাকে বাঁচাতে পারেননি তিনি।
‘তারা (প্রতিবেশী) ছুটে এসেছিলেন, কেঁদেছিলেন, চোখে ছিল পানি। সেটা ছিল অসাধারণ সমর্থন ও ভালোবাসার নিদর্শন। আমার মনে হচ্ছে, আমিও যে তাদের ভালোবাসি, এই সুযোগে তাদের তা জানাতে চাই,’ বলেছেন তিনি।