প্রতিদিন আড়াই হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ থেকে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ চসিক-বিউবো চুক্তি

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র স’াপনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাথে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) এর মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে সিটি করপোরেশন কনফারেন্স হলে এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন উপসি’ত ছিলেন। চুক্তিপত্রে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী আইপিপি সেল মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দীর আহমেদ, সচিব মো. আবুল হোসেন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম’র প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল) প্রবীর কুমার সেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সামছুল আলম, প্রকৌশলী রেজাউল করিম ও সহকারী প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন উপসি’ত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় করবে বিউবো। করপোরশন বিনামূল্যে তাদের জায়গা দিবে। তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল নগরবাসীকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি উপহার দেওয়া। তাই আবর্জনার সুষ্ঠু ব্যবস’াপনা ও ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিবেশবান্ধব নগর গড়তে বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স’াপনের এই উদ্যোগ। এটি স’াপিত হলে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ঘাটতি দূর হবে। প্ল্যান্টের স’ান নির্ধারণ টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ আরো ২টি চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে প্রায় ৩ বছর সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বিনামূল্যে জায়গা প্রদান করবে। প্রতিদিন আড়াই হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ থেকে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্ল্যান্টে বর্জ্য পৌঁছে দেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এই প্রতিষ্ঠানটি বিল্ড ওন এন্ড অপারেট (বিউও) এর পদ্ধতিতে স্পন্সর ঠিক করবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি গড়ে উঠলে বর্জ্য ব্যবস’াপনায় শৃঙ্খলা আসবে এবং পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি পূরণ হবে নগরবাসীর বিদ্যুৎ চাহিদা। বন্দর নগরীতে জীবিকার সন্ধানে ক্রমবর্ধমান হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে বর্জ্য। যা পরিবেশকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে বায়ু দূষণ, পানি দূষণের মতো সমস্যা সৃষ্টি করছে রোগব্যাধি। পরিকল্পিতভাবে বর্জ্য সংগ্রহ করতে না পারা, সঠিক ব্যবস’াপনা না থাকা এবং যুগোপযোগী ব্যবস’া করতে না পারার কারণে গৃহস’ালী বর্জ্য দূষণ হয়ে পরিবেশের সমস্যা সৃষ্টি করছে। সুষ্ঠু পরিবেশসম্মত নগর গড়ে তোলার পূর্বশর্ত হিসেবে বিজ্ঞানভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস’াপনার বিকল্প নেই। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো শহরগুলো বর্জ্যের কারণে সৃষ্ট দূষণ সমস্যা আরো বেশি। এই দূষণ সমস্যা প্রতিরোধে ২০১৬ সনের আগে থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করে বর্তমান সরকার। চলতি বছর বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগ ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, নারায়াণগঞ্জ ও গাজীপুর শহরগুলোর মধ্যে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাব দেয়। এরমধ্যে চট্টগ্রামে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে চলেছে। বিজ্ঞপ্তি