বন্দরে শ্বাসরোধে গৃহবধূকে হত্যায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক

গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেননি বন্দর থানার দোতলা মসজিদ এলাকার বাড়াটিয়া গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌস। পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী গোলাম রসুল শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেছে। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার নাটক সাজায়।
গতকাল আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গোলাম রসুল আদালতে এসব কথা জানায়। জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য পুলিশকে আদেশ দেন আদালত।
জানা গেছে, জান্নাতুল ফেরদৌসের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সেনবাগ এলাকায় এবং তার স্বামী
গোলাম রসুল সন্দ্বীপের বাসিন্দা।
আদালতসূত্রে জানা গেছে, গৃহবধূ জান্নাতুল হত্যার ঘটনায় তার স্বামী গোলাম রসুলকে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে হাজির করে পুলিশ এবং গোলাম রসুল আদালতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। আদালতসূত্রে আরও জানা গেছে, নিমতলার বাসিন্দা গৃহবধূ জান্নাতুল গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেননি। রাতে ঝগড়া হওয়ার এক পর্যায়ে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার স্বামী।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) শাহাবুদ্দিন আহমদ সুপ্রভাতকে বলেন, জান্নাতুল ফেরদৌসকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে মর্মে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে তার স্বামী গোলাম রসুল। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বন্দর থানা সূত্রে জানা গেছে, জান্নাতুলকে হত্যার পর গোলাম রসুল আত্মহত্যার নাটক সাজায়। ঘটনার পরপর জান্নাতুলকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে গোলাম রসুল। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং জান্নাতুলের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিকভাবে গোলাম রসুলও খুনের কথা স্বীকার করে। বিস্তারিত ময়না তদন্তের পর জানা যাবে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সুপ্রভাতকে বলেন, গোলাম রসুলই তার স্ত্রী জান্নাতুলকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। গতকাল আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সে কথা গোলাম রসুল স্বীকার করে।
গত শনিবার নগরের বন্দর থানাধীন নিমতলা দোতলা মসজিদ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস’ায় গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌসের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সন্দেহ হওয়ায় এ ঘটনায় গত শনিবারই গোলাম রাসুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জান্নাতুল ফেরদৌসের মা রানু বেগম বন্দর থানায় তাকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।