বন্দরের বহরে যুক্ত হলো রেল মাউন্টেন্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন

গতি আসবে বন্দরের পণ্য পরিবহনে আগামীতে গ্রিনপোর্ট হবে চট্টগ্রাম বন্দর : নৌ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের বহরে প্রথমবারের মতো যুক্ত হলো রেল মাউন্টেন্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন। বন্দর থেকে ঢাকার কমলাপুরগামী কনটেইনার রেলওয়ের ওয়াগনে ওঠানো ও ওয়াগন থেকে নামানোর জন্য এই যন্ত্রটি ব্যবহৃত হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই যন্ত্রটির প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এতোদিন তা ছিল না বন্দরের বহরে। রেল মাউন্টেন্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন ছাড়াও জাহাজ থেকে পণ্য উঠানো, নামানোসহ পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহারের জন্য বন্দরের বহরে যুক্ত হয়েছে আরো ৯টি যন্ত্র। চীন থেকে ২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় এসব যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল জেটিতে এসব যন্ত্র উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। একই অনুষ্ঠানে ভোজ্যতেল খালাসের স’ায়ী জেটির নামফলক উম্মোচন ও নিরাপত্তা ভবন উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, জাহাজজট, কনটেইনারজট, ইকুইপমেন্ট সঙ্কটসহ অনেক ধরনের প্রতিবন্ধকতার কথা শোনা যায় চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে। সবই যে অসত্য তা বলছি না। তবে চাহিদা অনুযায়ী যতো দ্রম্নত সড়্গমতা বাড়ানো প্রয়োজন তা হয়তো পারছি না নানা কারণে। তবে সব সমস্যা আমরা কাটিয়ে উঠছি।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর এখন বিশ্বের ১০০ কনটেইনার পরিবহনকারী বন্দরের মধ্যে ৭১ নম্বরে উন্নীত হয়েছে। আগামীতে ১০ নম্বরে আসার লড়্গ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছি। রেলমাউন্টেন্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরএমজি) চলবে বিদ্যুতে, বায়ু দূষণের সুযোগ নেই, যেসব জাহাজ জেটিতে অবস’ান করে তাদের জ্বালানি তেল খরচ করতে হয়, আগামীতে গ্রিন পোর্টের আদলে এসব জাহাজে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। তাহলে বন্ধ হবে বায়ুদূষণ।
নৌ মন্ত্রী শাজাহান খান আরো বলেন, মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার সময় বন্দরে দুটি গ্যান্ট্রি ক্রেন ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল নষ্ট। এখন অনেক গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হয়েছে। আগস্টে আরও আসছে। ২০০৯ সালের পর থেকে এ পর্যনত্ম আমরা ২৮৬টি যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করেছি।
যেসব নতুন যন্ত্রপাতি যুক্ত হয়েছে সেগুলো দ্রম্নত বন্দরে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চিটাগং চেম্বারের সভাপতি মাহবুবল আলম বলেন, এসব যন্ত্র যুক্ত হলে বন্দরের যন্ত্রপাতি সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। একইসাথে জেটি ও লাইটার জাহাজ (বড় জাহাজ থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ছোটো জাহাজ) সঙ্কটের কারণে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ড়্গতির মুখোমুখি হচ্ছে। জেটি ও লাইটার জাহাজ সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস করতে পারছে না বলে ব্যবসায়ীদের ড়্গতিপূরণ দিতে হচ্ছে। এজন্য জেটি বাড়ানোর পাশাপাশি বে টার্মিনাল নির্মাণের কাজ দ্রম্নত শেষ করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপড়্গের চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ বলেন, বন্দরকে গতিশীল করতে সব ধরনের কাজ করা হচ্ছে। বন্দরের বহরে এখন যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি, নির্মাণ হচ্ছে কনটেইনার রাখার ইয়ার্ড। মূলতঃ বন্দরকে গতিশীল রাখতেই এসব উদ্যোগ।
রেল মাউন্টেন্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হওয়ায় এখন চার ঘণ্টায় ট্রেনে কনটেইনার বোঝাই করা যাবে জানিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, আগে অন্য যন্ত্রের মাধ্যমে রেলের ওয়াগনে কনটেইনার বোঝাই করতে করতে আট ঘণ্টা সময় লাগত। একইভাবে ভোজ্যতেল খালাসের প্রক্রিয়াও আগের চেয়ে দ্রম্নততর হবে।
জানা যায়, দরপত্রের মাধ্যমে গত ডিসেম্বর থেকে মে পর্যনত্ম প্রায় ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি যন্ত্র সংগ্রহ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এসব যন্ত্রের মধ্যে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘রেল মাউন্টেড গ্যান্ট্রি ক্রেন’, কনটেইনার একস’ান থেকে আরেক স’ানে নেওয়ার জন্য ছয়টি ‘রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন’ ও দুটি মোবাইল ক্রেন, আমদানি করা গাছের গুঁড়ি ওঠানো-নামানোর জন্য একটি ‘লগ হ্যান্ডলার’ যন্ত্র রয়েছে। এছাড়া পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীতীরে ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভোজ্যতেলবাহী জাহাজ থেকে তেল খালাসের জেটি উদ্বোধন করা হয়। নবনির্মিত জেটিতে ১৯০ মিটার লম্বা জাহাজ ভেড়ানো যাবে। বন্দরের চার নম্বর ফটকের কাছে চারতলা নিরাপত্তা ভবনের উদ্বোধন করা হয়। এই ভবন নির্মাণে ব্যয় হয় ১০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
অনুষ্ঠানে বন্দর পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, বন্দরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বন্দরের সিবিএ সভাপতি ও ব্যবসায়ীরা উপসি’ত ছিলেন।