পোর্ট ইউজার্স ফোরামের মতবিনিময় সভা

বন্দরের নানা সংকটে বাধাগ্রস্ত উন্নয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

লাইটারেজ থেকে পণ্যখালাসের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জেটি ও আধুনিক ব্যবস’া না থাকায় পণ্যখালাস বিলম্বিত হচ্ছে। অন্যদিকে শিপিং এজেন্ট কর্তৃক চার্জ আদায়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। ফলে স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে প্রায় সময় বোঝাপড়ায় সমস্যা হচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধান না করে সম্প্রতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত সময়সীমা বাস্তবায়ন করলে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।
কন্টেইনার ক্লিনিং চার্জ ও লাইটারেজ জাহাজ থেকে পণ্যখালাস সময়সীমা নির্ধারণসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে পোর্ট ইউজার্স ফোরাম (পিইউএফ) গতকাল একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। আগ্রাবাদস’ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এ সভায় পিইউএফ চেয়ারম্যান ও দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম এসব কথা বলেন।
উক্ত সভায় তিনি আরো বলেন, ‘স্টেকহোল্ডারদের মধ্যকার সমস্যা নিরসনে শিপিং এজেন্টদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। তাই সংশ্লিষ্ট সকলপক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে উল্লিখিত সময়সীমা পুনঃনির্ধারণ করা দরকার। এছাড়া জেটি সমস্যার সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে পন্টুন দিয়ে লাইটারেজের জন্য জেটি নির্মাণ করতে হবে। জেটিগুলো নির্মিত হলে ভবিষ্যতে মালামাল খালাসের ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে জেটি সংশ্লিষ্ট ট্রাক টার্মিনাল ও বিকল্প সড়ক তৈরিসহ সুষ্ঠু ব্যবস’াপনার আগাম পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব হবে। অন্যথায় পণ্যবাহী যানজটের কারণে অচলাবস’া সৃষ্টি হতে পারে।
সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স’ায়ী কমিটির সদস্য ও সাংসদ এমএ লতিফ বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সদরঘাটে ৫টি ও পতেঙ্গার লালদিয়ার চরেলাইটারেজ জাহাজ থেকে পণ্যখালাসের জন্য ৪টি জেটি নির্মাণের কাজ চলছে। এ কাজগুলো সম্পন্ন হলে বন্দরে জাহাজজট কমে যাবে। পাশাপাশি আমাদের উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে। এতে বহির্বিশ্বে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।’
সভায় চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, পরিচালকবৃন্দের মধ্যে কামাল মোস্তফা চৌধুরী, মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, মো. জহুরুল আলম, সরওয়ার হাসান জামিল, মো. আবদুল মান্নান সোহেল, সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের (বিএসএএ) প্রতিনিধি ওয়াহিদ আলম, এমএ জহির এবং প্রাইম মুভারস-এর সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম প্রমুখ উপসি’ত ছিলেন। সভায় বক্তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওজন নিয়ন্ত্রণ, আইসিডি কর্তৃক প্রাইম-মুভার ও কাভার্ড ভ্যান থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, অর্থসচিব, বাণিজ্যসচিব, নৌসচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যান, পোর্ট চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনারের উপসি’তিতে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষে শীঘ্রই একটি মতবিনিময় সভা আয়োজনের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।