বজ্রপাতে মানুষ মারা যায় কেন?

সম্পাদকীয়

ঝড়-বৃষ্টির সময় আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়। এ সময় প্রচণ্ড শব্দ শোনা যায়। এটা হলো মেঘ থেকে মাটিতে বিদ্যুৎ প্রবাহ। মেঘে প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুৎ চার্জ জমা হয়।
একসময় তা মাঝখানের বাতাসের বাধা অতিক্রম করে মাটিতে বা পাশের কোনো মেঘে চলে যায়। এই চলাকে বলা হয় বিদ্যুৎ প্রবাহ। এর ফলে প্রচণ্ড তাপ সৃষ্টি হয়। বজ্রপাতের সময় বাতাসের তাপমাত্রা এমনকি -১০-২০ হাজার ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। এই তাপের ফলে দুটি ঘটনা ঘটে।
প্রথমত, বাতাস গরম হয়ে উজ্জ্বল আলো ছড়ায়। একেই আমরা বলি বিদ্যুৎ চমকায়। আর একই সঙ্গে বাতাস প্রথমে প্রচণ্ড তাপে প্রসারিত হয়েই পরক্ষণে ঠাণ্ডা হয়ে আগের অবস’ায় ফিরে আসে। বাতাসের হঠাৎ প্রসারণ-সংকোচনের কারণে প্রচণ্ড শব্দ সৃষ্টি হয়। একে আমরা বলি বাজ পড়ার শব্দ।
কোনো মানুষ যদি খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে বজ্রপাতে সে আক্রান্ত হতে পারে। কারণ, মেঘের বিদ্যুৎ চেষ্টা করে দ্রুত মাটির সংস্পর্শে আসতে। ওই সময় যদি কেউ ঘর বা উঁচু গাছের নিচে থাকে, তাহলে সেও আক্রান্ত হতে পারে। বজ্রাহত হলে শরীরের ভেতর দিয়ে খুব উঁচু ভোল্টের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। এতে সমস্ত শরীর পুড়ে মানুষ মারা যায়।
সূত্র : বিজ্ঞানের রাজ্যে জানা অজানা, আব্দুল কাইয়ুম