খাগড়াছড়িতে যুবলীগের সমাবেশে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিরোধীরা দলের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি
kujendra-lal

সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিরোধীরা দলের নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা প্রতিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী আর প্রতীকের বিরোধিতা করে। দলের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের ওপর আঘাত হানছে তারা। দলের মনোনয়ন নিয়েও বিভ্রান্ত্রি ছড়াচ্ছে। তাদের অপতৎপরতা সম্পর্কে দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।’
আগামী সংসদ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ থেকে জননেত্রী মনোনীত দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করার প্রস্তুতি নেয়ারও আহ্বান জানান খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের এই সভাপতি।
তিনি বৃহস্পতিবার রাতে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হল চত্বরে জেলা যুবলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এমপি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। আর তার সুযোগ্য উত্তরসুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সারাদেশের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামেও সে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে শান্তিপূর্ণ করেছেন শেখ হাসিনা। চুক্তির বিরোধিতা করে বিএনপি সরকার সেসময়ে লং মার্চ করেছিল। জনগণকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পরিস্থিতি আবারো অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালিয়েছিল। কিন্তু চুক্তির সুফল বিএনপি তথা ওয়াদুদ ভূঁইয়ারা ভোগ করেছে।’
আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নমুখী রাজনীতির দল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক উন্নতি হয়। কিন্তু কিছু মানুষ আওয়ামী লীগের সে উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে অপচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা আওয়ামী লীগে যোগদান করে নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’
কয়েকটি আঞ্চলিক দলের অপতৎপরতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করলে জনগণ অধিকার বঞ্চিত হবে। জনগণকে অভুক্ত রাখার রাজনীতি ভালো নয়। জবরদস্তিমূলক কর্মকাণ্ড মানুষ ভালোভাবে নেয়নি কখনো।’
জেলা যুবলীগের সভাপতি যতন ত্রিপুরার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কে এম ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা নুরনবী চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রইচ উদ্দিন, সহসভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য বাসন্তী চাকমা, জেলা মহিলা লীগের সহসভাপতি নিগার সুলতানা, সাংগঠনিক সম্পাদক বাসন্তী চাকমা, তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল বাহার।
আলোচনা সভার আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।