বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন আলস্নামা আহমদ শফী

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাটহাজারী

জামিয়তুল আহলিয়া দারম্নল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার ১১৮তম মাহফিলে দেয়া শাইখুল ইসলাম আলস্নামা শাহ আহমদ শফী’র একটি বক্তব্যের খ-াংশ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে। এতে করে বিভিন্ন মহলে বিভ্রানিত্ম সৃষ্টি হওয়ায় আলস্নামা শফী’র কার্যালয় থেকে ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত শুক্রবার দারম্নল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর বার্ষিক মাহফিলে দেয়া বক্তব্যের একটি খ-াংশ বিভিন্ন মিডিয়ায় ভুলভাবে উপস’াপন করায় জনমনে বিভ্রানিত্ম সৃষ্টি হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি।
বক্তব্যে আমি মূলত বলতে চেয়েছি ইসলামের মৌলিক বিধান পর্দার লঙ্ঘন হয়- এমন প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের পড়াশুনা করানো উচিত হবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস’া। এখানে শিড়্গা থেকে শুরম্ন করে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ যাবতীয় সকল কিছুই রয়েছে। ইসলামে নারীদের শিড়্গার বিষয় উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সকলেই অবগত যে, উম্মুল মুমিনিন হজরত মা আয়েশা (রা.) ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস। তিনি শিড়্গাগ্রহণ না করলে উম্মত অনেক হাদিস থেকে মাহরম্নম হয়ে যেত।
তবে এর পাশাপাশি ইসলামের একটি মৌলিক বিধান হচ্ছে পর্দা। নারীদের পর্দার বিষয় ইসলামে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। আমার বক্তব্যে বলতে চেয়েছি, শিড়্গাগ্রহণ করতে গিয়ে যেন পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা না হয়। কারণ আমাদের দেশের বেশিরভাগ সাধারণ শিড়্গা কেন্দ্রগুলোতে সহশিড়্গা দেয়া হয়, অর্থাৎ ছেলে- মেয়ে একই সাথে শিড়্গা গ্রহণ করে থাকে। এতে করে পর্দার বিধান লঙ্ঘন হয়। আমি মূলত এই সহশিড়্গা গ্রহণেই মানুষকে সতর্ক করতে চেয়েছি।
আমি জানতে পেরেছি, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমাকে নারী বিদ্বেষী ও নারীশিড়্গা বিদ্বেষী বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা অত্যনত্ম দুঃখজনক। তারা আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে। আমি হাইয়াতুল উলইয়ালিল জামিয়াতিল কওমিয়া’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আপনারা জানেন যে এটার অধীনে হাজার হাজার নারী শিড়্গার্থী উচ্চ শিড়্গার সনদ গ্রহণ করে থাকেন। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান প্রদান করেছেন। এতে আমাদের দেশের লাখো মাদরাসা ছাত্র-ছাত্রী দাওয়ারে হাদিস পাশ করে মাস্টার্সের সমমান অর্জন করছেন।
যে সম্মিলিত বোর্ডের অধীনে পরীড়্গা দিয়ে হাজার হাজার নারী রাষ্ট্র স্বীকৃত উচ্চ শিড়্গায় শিড়্গিত বলে পরিগণিত হচ্ছে, সেই বোর্ডের প্রধান হয়ে আমি কিভাবে নারী শিড়্গার বিরোধী হলাম তা বোধগম্য নয়।
তিনি আরো বলেন, আমি বা আমরা নারী শিড়্গার বিরম্নদ্ধে নই, তবে নারীর জন্য নিরাপদ শিড়্গা প্রতিষ্ঠানের বিষয় আমরা আগেও সতর্ক করেছি, এখনো করছি। আমরা চাই নারীরা উচ্চশিড়্গায় শিড়্গিত হোক, তবে সেটা অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশে থেকে এবং ইসলামের মৌলিক বিধানকে লঙ্ঘন না করে। শিড়্গা গ্রহণ অবশ্যই জরম্নরি, তবে সেটা গ্রহণের জন্য আমাদের কন্যাদের অনিরাপদ পরিবেশে পাঠাতে পারি না। আমরা যেমন নিরাপদ পরিবেশে রেখে নারীদের সর্বোচ্চ শিড়্গায় (দাওরায়ে হাদিস সমমান মাস্টার্স) শিড়্গিত করে যাচ্ছি, আপনারাও সেভাবে নিরাপদ ব্যবস’া করে শিড়্গা দান করম্নন। আমরা উৎসাহিত করব আপনাদের।
বিবৃতিতে আলস্নামা শফী বলেন, আমরা চাই এ দেশের নারীরা শিড়্গিত হোক, কারণ মা শিড়্গিত হলে সসত্মান সঠিক শিড়্গা পাবে। নারীদের শিড়্গা গ্রহণের জন্য পরিবেশ তৈরি করম্নন। যেখানে পরিচালক থেকে শুরম্ন করে কর্মকর্তারা সকলেই নারী থাকবেন। সে ধরনের শিড়্গা দানের ব্যবস’া থাকলে আমরা তাতে উৎসাহিত করবো।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, হেফাজতের ১৩ দফা দাবিতেও নারীদের জন্যে নিরাপদ শিড়্গার কথা উলেস্নখ করা হয়েছে।