বকেয়া গৃহকর আদায়ে ৩২ মন্ত্রণালয়ে চিঠি

মেয়র দিলেন মন্ত্রীকে, প্রধান নির্বাহী সচিবকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বকেয়া পৌরকর (গৃহকর ও রেইট) পরিশোধের অনুরোধ জানিয়ে ৩১ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে দ্বিতীয়বারের মতো ‘দাপ্তরিক চিঠি (ডিও লেটার)’ পাঠিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে এসব চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে চসিকের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা সুপ্রভাত বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন।
গত বুধবার ৩২ মন্ত্রণালয়ের সচিবদের একই চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ৩২টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে (ডিও লেটার) দিয়েছিলেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
গত ৩ ডিসেম্বর ৮৬ কোটি টাকা পাওনা পরিশোধে অর্থ বরাদ্দের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আরো একটি চিঠি দিয়েছিলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। বকেয়া পৌরকর পরিশোধে মন্ত্রণালয়গুলোর অধীনস্থ সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ মঞ্জুরীর অনুরোধ করা হয় এসব চিঠিতে।
চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৩২ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ২,২৮১টি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে চলতি অর্থ বছর (২০১৭-২০১৮) পর্যন্ত চসিকের ১৪২ কোটি ৫৪ লাখ ৪৮ হাজার ৭৬৪ টাকা পৌরকর পাওনা আছে। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ ও তাগাদা দেওয়ার পরেও তারা পৌরকর পরিশোধ করে নি। এমন পরিস্থিতিতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন গতকাল ৩১ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে পৃথক ৩১টি চিঠি পাঠান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে বকেয়া ও হালসহ ৫ কোটি ১৪ লাখ ৩ হাজার ৮৩৭ টাকা পাওনা থাকলেও এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে চিঠি দেওয়া হয়নি বলে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা জানান।
রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৩১ জন মন্ত্রীর কাছে লিখা চিঠিতে তাদের মন্ত্রণালয়ের কাছে পাওনা অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চিঠিতে বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আয়ের মূল উৎস গৃহকর ও রেইট। নগরবাসীর সার্বিক সেবা প্রদান নিশ্চিতকল্পে করপোরেশনে নিয়োজিত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি পরিশোধ, নগরীর আবর্জনা অপসারণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়ক আলোকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল খনন ও নালা-নর্দমা সংস্কারপূর্বক জলাবদ্ধতা নিরসন ইত্যাদি বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সিংহভাগ ব্যয় গৃহকর ও রেইট থেকে নির্বাহ করা হয়।’
চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ আপনার (মন্ত্রণালয়ের সচিব) নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের নিকট বিল প্রেরণ পূূর্বক প্রতিষ্ঠান প্রধানের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় বকেয়া ও হাল গৃহকর ও রেইট পরিশোধ করতে পারছে না মর্মে উক্ত সংস্থা/প্রতিষ্ঠান হতে জানা যায়।’
চিঠিতে, চসিকের ‘বকেয়া ও হাল গৃহকর ও রেইট পরিশোধে মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ মঞ্জুরীর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।’
জানা যায়, অতীতেও একাধিকবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বকেয়া পৌরকর পরিশোধের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল চসিক। এছাড়া গত ২৩ মে চসিকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় মেয়র বকেয়া কর পরিশোধে তাগাদা দিয়েছিলেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত বকেয়া গৃহকর রয়েছে ১২৮ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং হাল (২০১৭-১৮ অর্থবছর) গৃহকরের পরিমাণ ১৩ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। গতকাল যে সব মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ পাওনা রয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত রেলওয়ের কাছে সিটি করপোরেশন গৃহকর বাবদ পাবে ৮৬ কোটি এক লাখ ২৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত পাওনা বকেয়া গৃহকরের পরিমাণ ৮২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের হাল গৃহকরের পরিমাণ ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে ১৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা গৃহকর পাবে করপোরেশন। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত পাওনা বকেয়া গৃহকরের পরিমাণ ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এবং চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের হাল গৃহকরের পরিমাণ ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে চসিকের মোট পাওনা ১২ কোটি ১১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত পাওনা বকেয়া গৃহকরের পরিমাণ ১১ কোটি ৬ লাখ টাকা এবং চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের হাল গৃহকরের পরিমাণ ৯৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
চসিকের রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগ থেকে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগ থেকে ৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগ থেকে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৩২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং জ্বালানী ও খনিজ বিভাগ থেকে ১৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা, তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণাল থেকে ৬৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ১৯ লাখ ৩১ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে চসিকের।