বইমেলায় গতি পেয়েছে চট্টগ্রামের প্রকাশনাশিল্প

আজিজুল কদির

বইমেলাকে কেন্দ্র করে বই প্রকাশের সংস্কৃতি চালু হয়েছে বাংলাদেশে। চট্টগ্রামেও এর প্রভাব পড়েছে। এখন যারা প্রকাশনায় আসছেন, এদের অনেকেই লেখক কিংবা সংস্কৃতি অনুরাগী। শিল্পের তাড়না থেকেই তারা এখানে আসছেন। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম চত্বরে গত সাতদিনে কোটি টাকার বই বিক্রির ফলে প্রকাশকদের মধ্যে উৎসাহ বেড়েছে। সেই সাথে এখানে নতুন প্রকাশনাশিল্প গড়ে উঠবে, এমনটাই প্রত্যাশা সৃজনশীল প্রকাশকদের।
এ রকমই এক তরুণ প্রকাশক ও লেখক মঈন ফারুক চন্দ্রবিন্দু ছোটকাগজ সম্পাদনা দিয়ে শুরু করে একই নামে গড়ে তুলেছেন প্রকাশনাশিল্প। এরই মধ্যে তিনি প্রকাশ করেছেন অর্ধশতাধিক বই।
প্রকাশক মঈন ফারুক বলেন, বইমেলাকে কেন্দ্র করেই প্রকাশিত হয় অধিকাংশ বই। আমাদেরও (চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন) তেমন। এক বছরে আমরা অর্ধশতাধিক বই প্রকাশ করেছি। এ পর্যন্ত লক্ষাধিক টাকার বইও বিক্রি করেছি। তিনি বলেন, বইমেলায় কোটি টাকার বই বিক্রির খবরে তরুণ প্রকাশকেরা উৎসাহী হয়ে উঠবেন। এই শিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে। বইমেলার অর্থনীতিতে তা বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। বইমেলাকে কেন্দ্র করে শৈলী প্রকাশন বের করেছে ৬০টির মতো বই। এ তালিকায় রয়েছে ছোটগল্প, প্রবন্ধসহ শিশু-কিশোর কবিতা ও ছড়ার বই।
চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু জানান, বইমেলার চাঙাভাব ধরে রাখতে ধীরে-ধীরে প্রকাশকদের মধ্যে পেশাদারী মনোভাব সৃষ্টি করতে হবে। বিষয়বৈচিত্র্যে গুরুত্ব দিয়ে বইয়ের গুণগতমান বাড়াতে সচেষ্ট হতে হবে। বইমেলা লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের গণ্ডী পেরিয়ে একটি সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। বই জড়বস’ হলেও তা প্রাণহীন নয়। সে হিসেবে বইয়ের মেলাকে প্রাণের মেলাই বলা হয়।
বইমেলা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে নাট্যব্যক্তিত্ব শিশির দত্ত বলেন, বিভক্তি কাটিয়ে এবারের বইমেলা যে সম্মিলিত উৎসবে পরিণত হয়েছে, তা আশাব্যঞ্জক। এটাকে ধরে রাখতে হবে। ফ্রাংকফুর্ট বইমেলার মতো এটিও একদিন আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত হবে। এটা সরকার নয়, প্রকাশকদেরই দায়িত্ব নিয়ে করতে হবে। সেই সঙ্গে করপোরেট হাউজগুলোর সহযোগিতা নিতে হবে।
শিশুসাহিত্যিক রাশেদ রউফ বলেন, এ যুগে বইমেলার প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষা করা যায় না। বইমেলা শুধু বই বেচাকেনার ব্যাপার নয়। সেখানে পাঠক বই নির্বাচন করার সুযোগ পান। বই জাতির চেতনাকে ধারণ করে। জাতির সৃষ্টিশীলতা ও মননশীলতার পরিচয় বহন করে।