ফের জনগণের সেবা করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

সুপ্রভাত ডেস্ক

আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারও আওয়ামী লীগকে জনগণের সেবা করার সুযোগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সম্মেলনে একথা বলেন তিনি। খবর বাংলানিউজ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে জনগণ যদি ভোট দেয়, আমরা নির্বাচিত হয়ে আসবো। আর যদি নাও দেয় আমার কোনো আপসোস নেই। বাংলাদেশে যে উন্নয়নের ধারাটা আমরা শুরু করেছি, আমি চাই সেই ধারাটা যেনো অব্যাহত থাকে।
‘নির্বাচনে সবাই ভোট চায়, আমরাও ভোট চাই। যাতে উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশের জনগণ যদি মনে করে উন্নয়নের ধারাটা ধরে রাখতে হবে, তবে জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারও তাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।’
শেখ হাসিনা বলেন, কারণ ৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত যে কাজগুলো করেছিলাম, যখন দেখলাম একে একে সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তখন সত্যিই খুব দুঃখ পেয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে। আমি বিশ্বাস করি একটা শিক্ষিত জাতি ছাড়া কোনো জাতি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে না। তাই শিক্ষাকে আমরা সব সময় গুরুত্ব দেই।
তিনি বলেন, আপনারা তো মানুষ গড়ার কারিগর, আপনারা শিক্ষক। আপনাদের কাছে জাতির অনেক আশা রয়েছে। অবশ্যই আপনারা এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এখন যারা শিক্ষক অনেকে বয়সে আমার চেয়ে অনেক ছোট। আপনাদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ। আবার মুরব্বিরাও আছেন। আপনাদের বলবো আপনাদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ।
সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে। এটা করা শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে হবে না। এখানে শিক্ষক, অভিভাবক সবাই মিলে সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে। ছেলেমেয়েরা কার সঙ্গে মিশলো, কোথায় গেলো, তাদের চরিত্র ঠিক আছে কিনা, পড়াশোনায় মনোযোগী কিনা এটা কিন’ বাবা-মাকে দায়িত্ব নিতে হবে, শিক্ষকদের দায়িত্ব নিতে হবে। ইমাম মুয়াজ্জিনকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কলেবর না বাড়িয়ে আমরা আরো নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় করে দেবো। যাতে প্রত্যেকটা এলাকায় ছেলেমেয়েরা নিজেদের ঘরে বসে পড়াশোনা করতে পারে।
মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, মাদরাসা শিক্ষাকে আমরা মেইন স্ট্রিমে নিয়ে এসেছি। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি, পার্থিব শিক্ষার মাধ্যমে তারাও যেনো মানুষের মতো মানুষ হয়ে নিজেদের কর্মোপযোগী করতে পারে, সেটাও আমরা ব্যবস’া করতে পেরেছি।
‘অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। আমরা বাংলাদেশকে সেভাবে গড়ে তুলতে চাই।’
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এএসএম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন।
সঞ্চালনা করেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম।