ফুলে ফুলে সেজেছে চবি

সিফায়াত উল্লাহ
Feature-(6)

নির্জন দুপুর। গাছের ডালে বসে ঘুঘু ডাকছে বিরহের সুরে। তেজদীপ্ত রোদে খাঁ খাঁ করছে চারিদিক। হঠাৎ হঠাৎ গ্রীষ্মের দামাল বাতাস প্রকৃতিকে মাতিয়ে রাখছে। প্রখর খরতাপে ক্লান্ত শিক্ষার্থীরা একটু প্রশান্তির জন্য আশ্রয় নিচ্ছেন বৃক্ষের ছায়াতলে। এমন পরিবেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অনুষদ, হল, লাইব্রেরি, রেলস্টেশন ও কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পাশের গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে গ্রীষ্মকালীন নানা রকমের ফুল। এসব ফুল ক্ষণিকের জন্য হলেও নাড়া দেয় শিক্ষার্থীদের মনকে।
ক্যাম্পাসে চোখ মেললেই দেখা মিলবে গ্রীষ্মের হাজারো ফুলের অপরূপ সমারোহ। এসবের মধ্যে আকর্ষণীয় লাল টুকে টুকে কৃষ্ণচূড়া। গ্রীষ্মের ফুলের মধ্যে কৃষ্ণচূড়া অন্যতম। কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস মাদাগাস্কার। প্রায় ৩০০ বছর আগে উপমহাদেশে আগমন তার। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ভাষায় কৃষ্ণচূড়ার নাম ডেলোনিখ রেজিয়া। কিন্তু বাংলায় এসে এর নাম হয়ে গেছে কৃষ্ণচূড়া। এ ফুল যুগ যুগ ধরে এদেশের প্রকৃতির সাথে মিশে আছে। বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন উপমায় কৃষ্ণচূড়ার কথা উঠে এসেছে নানাভাবে। কবিগুরু বলেছেন, ‘গ্রামের পথে ক্ষণে ক্ষণে ধুলা উড়ায়, ডাক দিয়ে যায় পথের ধারে কৃষ্ণচূড়ায়, এমনি করে বেলা বহে যায়, এই হাওয়াতে চুপ করে রই একলা জানালায়’।
গ্রীষ্মের ফুলের মধ্যে আরো রয়েছে সোনালু, জারুল, হিজল, অশোক, বসন্তরঞ্জিনী, সাদাচাঁপা, বেলী, গোলাপ, মলিকা, মালতি, বকুল, গন্ধরাজ, লালচাঁপা, হাসনাহেনার মতো দেশী-বিদেশী হরেক রকমের ফুল। গ্রীষ্মের চোখ ধাঁধানো রোদে নানা রঙের ফুলগুলো গ্রীষ্মকে করেছে আরো রূপবতী।
ক্লাস, পরীক্ষা, আড্ডার ফাঁকে বাহারি রঙের ফুলগুলো ক্ষণিকের জন্য হলেও মন ছুঁয়ে যায়-এমনটা জানালেন রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম সোহাগ। তিনি বলেন, ‘গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে এসব ফুল দেখলে মনটা আন্দোলিত হয়ে পড়ে। ফুলগুলো দেখে ক্ষণিকের জন্য হারিয়ে যাই প্রকৃতির মাঝে। পাহাড়-গাছপালায় পরিপূর্ণ প্রকৃতির রাণী চবিতে পড়ার সুযোগ পেয়ে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে হয়।’
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সবুজের সমাহারে ফুলগুলো গ্রীষ্মের ক্লান্ত পথিককে একটু প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। সকালে ক্যাম্পাসের প্রবেশ পথে জারুলের ঝরে পড়া বেগুনি পাপড়ি দেখে মনে হয় পিচঢালা পুষ্পশয্যা। আমাদের ক্যাম্পাসে গ্রীষ্ম আর বাহারি রঙের ফুলের আগমন একই সঙ্গে ঘটে। তাই গরমে ক্লাসের ফাঁকে প্রিয় বন্ধুদের সাথে আড্ডাটা ভালোই জমে। প্রকৃতির এমন সাজ দেখে ক্যাম্পাস থেকে বাড়ি ফিরতে ইচ্ছেও করে না। তাই প্রতিদিন ক্লাস শেষে পুরো ক্যাম্পাস ঘুরি, দেখি আর হারিয়ে যাই প্রকৃতির মাঝে।’