ফিন্লে স্কয়ারে ঈদের বিকিকিনি

ফুডকোর্টে বাজিমাত এক বছরে জমজমাট

সিফায়াত উল্লাহ
নগরীর ষোলশহরের শপিংমল ফিন্‌লে স্কয়ারে চলছে ঈদের কেনাকাটা -হেলাল সিকদার
নগরীর ষোলশহরের শপিংমল ফিন্‌লে স্কয়ারে চলছে ঈদের কেনাকাটা -হেলাল সিকদার

সর্বত্রই চলছে ঈদের বিকিকিনি। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত শপিংমলে। পিছিয়ে নেই নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেইটে গত বছর চালু হওয়া শপিংমল ফিন্লে স্কয়ারও। সেখানেও জমে উঠেছে ঈদের বেচাকেনা। তরুণদের কাছে শপিংমলটি ফুডকোর্ট হিসেবে বেশি পরিচিত। সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ফিনলেতে বসে ক্রেতাদের মিলনমেলা। পরিচিত প্রায় প্রত্যেকটি ব্র্যান্ডের পোশাক-জুতা-জুয়েলারি-কসমেটিক্স আইটেম মেলে এখানে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ফিন্লে স্কয়ারে ঘুরে দেখা গেছে দোকাগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে উচ্চবিত্তের সংখ্যা বেশি। তবে মধ্যবিত্তরাও আসছেন।
মার্কেট ঘুরে দেখা যায় পাঞ্জাবি, শাড়ি, গাউন, সালোয়ার কামিজ, জুয়েলারি ও জুতার দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। ছেলেদের পাঞ্জাবি আর মেয়েদের গাউন বেশি বিক্রি হচ্ছে; এমনটা জানালেন কয়েকজন বিক্রেতা।
খাজা ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী জাবেদ সেলিম সুপ্রভাতকে বলেন, ‘নতুন মার্কেট হওয়া স্বত্বেও বেচাবিক্রি অনেক ভালো। বিশেষ করে পাঞ্জাবি ভালো বিক্রি হচ্ছে।’
ফটিকছড়িতে থেকে কেনাকাটা করতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী মিনহাজ বাবু বলেন, ‘ঈদের কেনাকাটা করতে পরিবারের সঙ্গে শহরে আসা হয়। শুনেছি ২ নম্বর গেইটের দিকে নতুন একটা মার্কেট হয়েছে। তাই আসলাম এখানে। এখানে ভালো ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবি খুঁজে পেলাম। পছন্দ হওয়ায় একটা পাঞ্জাবিও কিনে নিলাম। তবে দামটা তুলনামূলক বেশি।’
অন্যদিকে এক তলায় তুর্কি ফ্যাশন অ্যান্ড ফেব্রিক্সের ডামিগুলো ভরপুর ছিল আধুনিক ডিজাইনের বাহারি রংয়ের বোরকায়। প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ঈদে মেয়েরা পোশাকের সঙ্গে নতুন বোরকাও কিনেন। বিশেষ করে আধুনিক ডিজাইনের বোরকার চাহিদা অনেক বেশি। তাছাড়া আমাদের এখানে প্রায় ২০ শতাংশ বোরকা তুর্কি থেকে আমদানি করা। এছাড়াও আমাদের তৈরি বোরকাগুলোতে তুর্কি ফ্যাশন অনুসরণ করা হয়। সবমিলিয়ে ভালো ব্যবসা হচ্ছে।’
দ্বিতীয়তলায় মেয়েদের শাড়ি আর পোশাকের দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায় কাতান, জামদানির, গাউনের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।
হক শাড়িজের ব্যবস’াপক ওবায়দুর রহমান রুবেল বলেন, ‘সিল্ক এবং হাফ সিল্কের শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে। রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মার্কেটে ক্রেতা বেশি থাকে।’
জুয়েলারি দোকান আলপনা প্লাসের মালিক আবছার উদ্দিন জানালেন, ‘বর্তমানে তরুণীদের কাছে হিজাব পছন্দের। তাই কানের দুলের তুলনায় এখন হিজাবের ব্রোঞ্জ পিনের চাহিদা বেশি।’ এছাড়াও অন্যান্য আইটেম আগের মতো বিক্রি হচ্ছে জানান তিনি।
মার্কেটে ব্যাগ, জুতা, জুয়েলারির দোকানে চায়না পণ্যের আধিক্য।
ফিন্লে স্কয়ারের পঞ্চমতলা তরুণ-তরুণীদের কাছে সবচেয়ে পরিচিত। কারণ এ ফ্লোরটা ফুডকোর্ট। রমজান মাসে ইফতারের সময় সেখানে হাঁটা-চলার সুযোগ পর্যন্ত থাকে না। ‘বোনফায়ার পিৎজা অ্যান্ড গ্রিল’ রেস্টুরেন্টের বিক্রয়কর্মী আরিফ বলেন, ‘আমাদের এখানে ১৫ রমজানের আগে অগ্রিম অর্ডার শেষ হয়ে গেছে। ইফতারের সময় প্রতিদিন অনেক ভিড় থাকে। ’
মার্কেটের বেচাকেনা, অল্প সময়ে মধ্যে পরিচিতি, কিভাবে পথচলা; এসব ব্যাপারে ফিন্লে স্কয়ার দোকান মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিয়া মো. খালিদ জুয়েলের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘গত বছর আমাদের মার্কেটটি চালু হয়। তখন ১৩৪ দোকানের মধ্যে ৭৫ থেকে ৮০ দোকান চালু হয়েছিল। এবার আমরা চেয়েছি সব দোকান চালু করাতে। এ বছর ১২৫ দোকান চালু আছে।’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রায় দোকানি পেশাদার ব্যবসায়ী। কেউ শখের বসে ব্যবসা করতে আসেনি। তাই ব্যবসাটা বুঝতে সুবিধা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মার্কেট তরুণ ক্রেতা বেশি। সেটা মূলত ফুড কোর্টটার কারণে হয়েছে। কারণ সারাবছর রেস্টুরেন্টগুলোর ব্যবসা জমজমাট থাকে। বছরজুড়ে আসা ক্রেতারা ঈদেও কেনাকাটা করতে আসছেন এখানে।’ এছাড়াও পার্কিং ব্যবস’া ভালো থাকায় ও নামীদামি সব ব্র্যান্ডের শোরুম আছে, তাই ক্রেতারা কেনাকাটা করতে আসছেন বলে তিনি বলেন।’