ফাঁসিয়াখালীতে অনুমোদনহীন ইটভাটা হুমকির মুখে সাফারি পার্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া গ্ধ

চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের পাশে লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী বনাঞ্চলের পাশে গড়ে তোলা হয়েছে সরকারি অনুমোদনবিহীন অন্তত ৫টি অবৈধ ইটভাটা।বর্তমানে এসব ইটভাটায় নির্বিচারে পোড়ানো হচ্ছে সংরক্ষিত বনের গাছ।অন্যদিকে স্কেভেটার দিয়ে কৃষি জমি ও পাহাড় কেটে ইট তৈরির উপকরণ হিসেবে মাটি জোগাড় করা হচ্ছে।এতে করে একদিকে ধ্বংস হচ্ছে বনাঞ্চল, অপরদিকে পাহাড় কাটার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ।পাশপাশি চরম হুমকির মুখে পড়েছে পাশের সাফারি পার্কের জীববৈচিত্র্য। অভিযোগ উঠেছে, এসব ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে নারী ও শিশুদের। স’ানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে দেখা যায়,বর্তমানে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের এসব অবৈধ ইটভাটায় স্কেভেটার দিয়ে রাত-দিন পাহাড় কাটা হচ্ছে।অভিযোগ রয়েছে, সনাতন পদ্ধতির (ড্রাম চিমনি) ইটভাটার মাধ্যমে এসব ভাটায় ইট পোড়ানোর কারণে পরিবেশ ক্ষাতগ্রস্ত হলেও রহস্যজনকভাবে নিরব ভূমিকা পালন করে আসছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন।
স’ানীয়রা জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনাঞ্চলের ভেতরে ও বনাঞ্চলের পাদদেশে অবসি’ত এসব ইটভাটাগুলো এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে আশপাশের এলাকা পুরোপুরি মরুভূিমতে পরিণত হবে। বর্তমানে এলাকার বিভিন্ন সড়ক দিয়ে বড়-বড় ট্রাকে করে ইট পরিবহনের ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত রাস্তা ও কালভার্ট ভেঙে যাতায়াতে জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে,ফাঁসিয়াখালীতে অবসি’ত ইট ভাটাগুলোর অবস’ান হচ্ছে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের অদূরে বগাইছড়ি-মালুম্মা এলাকায় এমএসবি ব্রিকস, হারহাজা এলাকায় এইচবিব্রিকস, রইঙ্গাঝিরি এলাকায় কেবিসি ব্রিকস, ইয়াংছা কাঠাল ছড়া এলাকায় কেসিবি ব্রিকস ও সাপের গাড়া এলাকায় একটি মোট পাঁচটি।স’ানীয় ইটভাটা মালিকদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের পাঁচটি ইটভাটা স’াপনে সরকারিভাবে কোন ধরনের অনুমতি নেই একথা সত্য।তবে আমাদের ইটভাটায় প্রশাসনের যে কোন ধরনের অভিযান ও দেখভালের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক মো. মকবুল হোসেন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অফিস আদেশমতে এসব দেখভাল করেন কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর। এব্যাপারে তাঁরা ব্যবস’া গ্রহণ করবেন। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন, ফাঁসিয়াখালীতে যেসব ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে বনাঞ্চলের গাছ ব্যবহার করা হচ্ছে তা স’ানীয় বনবিভাগকে অবহিত করুন। তবে পাহাড় কাটার বিষয়টি আমাদের পক্ষ থেকে দেখভাল করা হবে। ঘটনাস’লে গিয়ে পাহাড় কাটার সত্যতা পেলে অভিযুক্ত ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা দেওয়া হবে।