চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ৪৭ বিদ্যালয়ের

ফলাফল প্রথমবারের মতো অনলাইনে

মোহাম্মদ আলী

৪৭টি বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষার সাড়ে ৭ হাজার শিক্ষার্থীর প্রায় ৮০ হাজার পরীক্ষার খাতা যাচাই-বাছাই শেষে ফলাফল প্রস’ত করা মহাঝামেলা। এর মধ্যে এক পরীক্ষার্থীর সাথে অন্য পরীক্ষার্থীর রোল নভম্বর মিলে যাওয়া, রেজিস্ট্রেশন না করেও পরীক্ষা দেওয়া, খাতা মূল্যায়নের পর খাতার বান্ডিলের সাথে মূলখাতার কোড মেলানোসহ নানা ধরনের জটিলতা রয়েছে। এর সাথে চলত নানা ধরনের অনিয়ম। এসব ভোগান্তি লাঘবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) পরিচালিত ৪৭টি বিদ্যালয় সনাতন পদ্ধতিতে পরিচালিত পরীক্ষা কার্যক্রম থেকে বের হয়ে এ বছর থেকে শুরু করেছে ডিজিটাল পদ্ধতি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে সম্পূর্ণ অনলাইনে স্কুলভিত্তিক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভুল-ভ্রান্তি ও অনিয়ম কমে আসবে বলে মনে করছে পরীক্ষা কমিটি।
ডিজিটাল পদ্ধতির পুরো সফওয়ারটি তৈরি করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কম্পিউটার ইনস্টিটিউট। ইনস্টিটিউটের পরিচালক আনিছ আহমদসহ পাঁচ খণ্ডকালীন প্রশিক্ষকের একটি টিম তৈরি করেছে পুরো সফটওয়ার। যার মাধ্যমে স্কুলগুলো তাদের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন থেকে পরীক্ষার
ফলাফল পর্যন্ত পেয়ে যাবে তাদের হাতের মুঠোয়।
অনলাইন সফটওয়ার তৈরির গোড়ার কথা জানালেন কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের পরিচালক আনিছ আহমদ। ‘গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আমার নিকট আসেন নির্বাচনী পরীক্ষার আহ্বায়ক মো. আবুল হোসেন। জানালেন পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নাম্বারগুলো যেন কোনোভাবেই পরিবর্তন করা না যায় সে বিষয়ে নিরাপদ ব্যবস’ার কথা ভাবছেন তিনি। এ বিষয়ে কোনো সমাধান পাওয়া যাবে কিনা, এমন প্রশ্নে ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনায় বসি। এতে উঠে আসে এই ৪৭টি স্কুলের জন্য যদি আলাদা আলাদা ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দেওয়া যায়; তাহলে কেমন হয়। শুরু হয় ইনস্টিটিউটের চার খণ্ডকালীন প্রশিক্ষক আশরাফ রেজা, অলীউজ্জামান, নুরউদ্দিন ও হায়দার আলীকে নিয়ে কাজ। প্রথম অংশে প্রতিটি স্কুলকে তাদের জন্য আলাদা আলাদা প্যানেল তৈরি করে দেওয়া হয়। স্কুলগুলো তাদের প্যানেল থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তালিকা অনলাইনে আপলোড দেন। এক্ষেত্রে ৭ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থীর তালিকা পাওয়া যায়। প্রতি বছর এই তালিকাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকলেও এ বছর এই সমস্যাগুলো এড়ানো সম্ভব এই অনলাইন পদ্ধতিতে।’
সফটওয়ার কাজের দলপ্রধান আশরাফ রেজা বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপে প্রতিদিনের পরীক্ষার উপসি’তির তালিকাও স্কুলগুলো থেকে অনলাইনে গ্রহণের ব্যবস’া করে দেয়া হয়। ফলে প্রতিদিনের বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার হাজিরা এবং উত্তরপত্রের জন্য আলাদা আলাদা কোড সংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে চলে আসে কেন্দ্রীয় পরীক্ষা কমিটির কাছে। তৃতীয় ধাপে আমরা উত্তরপত্রের প্রাপ্ত নম্বরগুলো সংগ্রহের জন্য আরো একটি প্যানেল তৈরি করে দিই। সর্বশেষ তৈরি করা হয় ফলাফল প্যানেল। ফলাফলের প্যানেলটি কাজ করে সম্পূর্ণ সয়ংক্রিয়ভাবে। পুরো পদ্ধটিতে এখন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফল পরীক্ষার্থীরা তাদের কম্পিউটার অথবা মোবাইল থেকে অনলাইনের মাধ্যমে দেখতে পাবে (িি.িবীধসবৎঢ়.পড়স/ংপযড়ড়ষৎবংঁষঃ/ৎবংঁষঃ) এই ঠিকানায়। পুরো সফটওয়ারটি এখন পরীক্ষা শেষে ফলাফল প্রকাশের জন্য সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন কর্তৃক উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে।
এ সফওয়ারের মধ্যে রয়েছে প্রতিটি স্কুলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন লগইন প্যানেল, স্কুলের নির্ধারিত ব্যক্তিদের জন্য আলাদা প্যানেল, শিক্ষকদের জন্য লগইন প্যানেল, পরীক্ষার্থীদের প্রতিটির উত্তরপত্রের জন্য ভিন্ন ভিন্ন গোপন নম্বর, শিক্ষার্থীর রোল নম্বরভিত্তিক ফলাফল প্রদর্শনসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা।
যে কোনো স্কুল ন্যূনতম মূল্যে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে বলে জানান কার্যক্রমের সমন্বয়ক আনিছ আহমদ।
পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক (মাধ্যমিক) ও পাঠানটুলি খানসাহেব সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘পুরো পদ্ধতি অনলাইনে নিয়ে আসার পর আমাদের পূর্বের চেয়ে ভুল-ভ্রান্তিগুলো কমে গেছে। কম সময়ে নির্ভুলভাবে দ্রুতগতিতে আমাদের পুরো পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছি। স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষকগণসহ শিক্ষকবৃন্দ পুরো বিষয়টিকে অনেক ভালোভাবে নিয়েছেন এবং নিয়মিত আমাদের এই সফটওয়ারটি ব্যবহার করছেন। আশা করি, এবার অন্য বছরের চেয়ে অনেক আগেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হবে।’