ফতেয়াবাদে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাটহাজারীর ফতেয়াবাদে দেশের তৃতীয় বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার প্রকল্প অনুমোদন করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি প্রকল্পটি অনুমোদন পায় বলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প এলাকা উত্তর ফতেয়াবাদ ঘুরে ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপোজাল) তৈরি করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে পাঠায় সংস’াটি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বেলাল হোসেন জানান, গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প এলাকার জায়গা পরিমাপ এবং ডিজিটাল সার্ভে করে প্রকল্প প্রস্তাবনাটি তৈরি করা হয়। সেটি মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। জায়গা অধিগ্রহণের প্রশাসনিক আদেশও হয়ে গেছে। এখন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ হলে জেলা প্রশাসনের এলএ শাখায় এ সংক্রান্ত একটি মামলা হবে। জায়গার ক্ষতিপূরণসহ প্রকল্প ব্যয় প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকা ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরেরর একটি সূত্র।
জানা গেছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প এলাকা উত্তর ফতেয়াবাদে গিয়ে প্রস্তাবিত জায়গার মাপজোক করেছেন হাটহাজারী ভূমি অফিসের কানুনগো মৃদুল চাকমা এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম সার্কেলের উপসহকারী প্রকৌশলী বেলাল হোসেন। তারা প্রকল্প এলাকা পরিমাপ করে প্রাথমিকভাবে খুঁটি গেড়ে দেন। বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার-এর জন্য উপজেলার দক্ষিণ পাহাড়তলী মৌজার ১ নম্বর সিটের অধীন ১০ একর
জায়গা অধিগ্রহণ করা হবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম সার্কেল ২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম শাহরিয়ার নেওয়াজ জানান, উত্তর ফতেয়াবাদে ১০ একর জায়গায় প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার স’াপনের উদ্যোগ নিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ লক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের উত্তর ফতেয়াবাদে জায়গা নির্ধারণ করে প্রায় পাঁচ মাস আগে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল।
জানা গেছে, সরকার দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে নভোথিয়েটার স’াপন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের এপ্রিলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে নভোথিয়েটার প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দেন। রাজশাহীতে ২২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নভোথিয়েটার প্রকল্পের কাজ চলছে। সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামে একটি নভোথিয়েটার স’াপনের তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।
জানা যায়, প্রস্তাবিত নভোথিয়েটারে আধুনিক প্রযুক্তির ডিজিটাল প্রজেক্টর সিস্টেমসহ প্ল্যানেটরিয়াম, সায়েন্টিফিক ও ডিজিটাল এক্সিবিটস, ৫ডি সিমিউলেশন থিয়েটার, টেলিস্কোপ, কম্পিউটারাইজড অটোমেটিক টিকিটিং অ্যান্ড ডেকোরেটিং সিস্টেম প্রভৃতি সুবিধা থাকবে। ফতেয়াবাদের নভোথিয়েটারটি ঢাকার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার’ এর শাখা হিসেবে পরিচালিত হবে।
কর্মকর্তারা জানান, নভোথিয়েটার স’াপনের উদ্দেশ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক শিক্ষা বিশেষত স্পেস সম্পর্কিত জ্ঞান সর্বসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া, বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং বিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট কুসংস্কার দূর করা। প্রধানমন্ত্রী চান বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিক নাগরিক তৈরির জন্য বিজ্ঞানের সুযোগ-সুবিধা শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে। জানা গেছে, চট্টগ্রামে নভোথিয়েটার হলে এটি হবে দেশের তৃতীয় নভোথিয়েটার। দেশের প্রথম ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার’ রাজধানীর বিজয় সরণির সামরিক জাদুঘরের পাশে অবসি’ত। ২০০৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি চালু হয়। দ্বিতীয়টি স’াপনের কাজ চলছে রাজশাহীতে।